kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে লন্ডন-দিল্লি হয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। বাঙালিকে পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করে একটি স্বাধীন দেশ এনে দেওয়ার লড়াইয়ে এ মহানায়কের দেশে ফেরার দিনটি এক অনন্য ক্ষণ।

দিবসটি উদ্‌যাপনে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দিকে বাঙালি জাতি এগিয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই রাতেই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এরপর আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর লন্ডন ও দিল্লি হয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে স্বাধীন দেশের মাটিতে ফেরেন। এদিন রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিমানবন্দর থেকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত ছিল মানুষের ঢল। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা—এসব স্লোগানে প্রকম্পিত হয় রাজধানী। স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রেখে বঙ্গবন্ধু আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর চোখে ছিল পানি।

জনগণনন্দিত শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে বলেন, ‘যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালোবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারব কি না। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি, বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’

ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক, এটাই হোক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সবার অঙ্গীকার।’ তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির অবিস্মরণীয় এ দিনে আমি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসুন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করব।’

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : সকাল সাড়ে ৬টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভা। আওয়ামী লীগের এ আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মসূচি পালিত হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আয়োজিত আলোচনাসভাসহ সব কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, দলের সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গবেষণাকেন্দ্রের আলোচনা : স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় ১০ জানুয়ারি, যেদিন পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসেন। এর আগে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করলেও গোটা জাতির অন্তরে একটা অপূর্ণতা ছিল। সবার কাছে একটিই প্রশ্ন ছিল বঙ্গবন্ধু কখন আসবেন। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গবেষণাকেন্দ্র আয়োজিত ‘সেদিনের স্বপ্ন আজকের বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। আলোচক ছিলেন লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন, অধ্যক্ষ নাজমুল হক প্রমুখ। সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পাঠ করে শোনান শাহজাহান মৃধা বেণু।



মন্তব্য