kalerkantho


বৃহত্তর নির্বাচনী মোর্চাও গড়তে চায় ১০ বাম দল

লায়েকুজ্জামান   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বৃহত্তর নির্বাচনী মোর্চাও গড়তে চায় ১০ বাম দল

সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার আটটি দল মিলে যে নতুন বাম জোট গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সেই জোট আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনেও লড়বে ঐক্যবদ্ধভাবে। দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের অন্যান্য দলের সঙ্গে বৃহত্তর নির্বাচনী মোর্চাও গড়তে পারে ১০ বাম দলের এই জোট। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার আটটি দল ও সিপিবি-বাসদ পাঁচ দফা আশু কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দেয় গত বছর জুলাই মাসে। ১০টি দলের ছয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি প্রণয়ন করতে। ওই কর্মসূচি তৈরির কাজও প্রায় চূড়ান্ত। মধ্য ফেব্রুয়ারির আগেই নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ১০ বাম দলের এই জোট।

জোটবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ১০টি বাম রাজনৈতিক দল হচ্ছে সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাসদ (মাহবুব), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ মার্কসবাদী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল।

দলগুলোর কয়েকজন নেতা জানান, একদিকে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করেছে, অন্যদিকে বিএনপি হচ্ছে মৌলবাদের আশ্রয়দাতা দেউলিয়া রাজনৈতিক দল। এ সময়ে জনগণের আস্থাভাজন একটি রাজনৈতিক বিকল্প শক্তির প্রয়োজন। জাতীয় সেই প্রয়োজন মেটাতে ১০টি বাম রাজনৈতিক দল আন্দোলন-সংগ্রামের তাগিদে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাদের এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি আগামী জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে লড়ার মোর্চাও হতে পারে। এ ছাড়া জাতীয় ইস্যুতে রাজপথের আন্দোলনে শরিক করতে আরো কয়েকটি বাম রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলছেন ওই ১০ দলের নেতারা। নির্বাচনী জোট হলে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী অন্যান্য দলকে রাখতেও কথাবার্তা চলছে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ১০টি দলের যে ঐক্য গড়েছি তা আন্দোলন ও নির্বাচনের ঐক্য, এটাকে আমরা জোটবদ্ধ করতে চাই। তবে যুক্তফ্রন্টের নেতারা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসলে তাদের সঙ্গেও নির্বাচনী জোট হতে পারে।’

গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের আবেগ এবং বিএনপি ভারতবিরোধিতাকে পুঁজি করে দেশে একটি দ্বিদলীয় ধারা তৈরি করেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজপথের ঐক্য গড়ে তুলতে চাই। একই সঙ্গে আমাদের সমমনা ও ন্যূনতম মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচনী জোট গড়ার ক্ষেত্রেও আমাদের ধারণা ইতিবাচক।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার সঙ্গে আমাদের ঐক্যটা মূলত আন্দোলনের। হয়তো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এটা নির্বাচনী জোটে পরিণত হতে পারে, সময়ই তা বলে দেবে।’



মন্তব্য