kalerkantho


দুর্নীতির মামলায় লালু প্রসাদের জেল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দুর্নীতির মামলায় লালু প্রসাদের জেল

পশুখাদ্য ক্রয় প্রকল্পে দুর্নীতির মামলায় বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রধান লালু প্রসাদ যাদবকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরো ছয়  মাসের জেল দেওয়া হয়েছে।  গতকাল শনিবার ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) বিশেষ আদালতের বিচারক শিবপাল সিং এই রায় দেন। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি নিয়ে দ্বিতীয় মামলার রায় হলো এটি। এই মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর লালুকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। তারপর থেকেই রাঁচির বিরসা মুণ্ড কারাগারে বন্দি রয়েছেন সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী।

রায়ের পর লালু প্রসাদের ছেলে তেজস্ব যাদব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রায়ের কপির জন্য অপেক্ষা করছি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। সেখানেই জামিনের আবেদন করব।’

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে, এই আশঙ্কায় গতকাল লালু প্রসাদ যাদবকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁর সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। 

আগের দিন শুক্রবার লালুর আইনজীবী চিত্তরঞ্জন সিনহা আদালতে আবেদন করেছিলেন, লালু প্রসাদের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত; হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারও হয়েছে। শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁর সাজা যেন কম দেওয়া হয়।

পশুখাদ্য ক্রয় প্রকল্পে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে লালু প্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা করা হয়। গতকাল রায় হওয়া মামলাটি ছিল দ্বিতীয়। এই মামলায় অভিযোগ ছিল ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের নেতৃত্বে পশুখাদ্য কেনার নাম করে জাল নথির মাধ্যমে দেওঘর ট্রেজারি থেকে ৯০ লাখ টাকা তোলা হয়। এই মামলায় মোট আসামি ছিল ৩৪ জন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সময় ক্ষমতায় না থাকায় আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মুক্তি পেয়েছেন আরো পাঁচ আসামি। দোষীদের তালিকায় রয়েছেন লালুসহ ১৭ জন।

এর আগে পশুখাদ্যসংক্রান্ত আরেকটি মামলায় লালু প্রসাদ যাদবকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন সিবিআই আদালত। সেই মামলায় ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবশ্য তিনি জামিন পান।

এদিকে দ্বিতীয় মামলায় লালুর এই শাস্তি ঘোষণার প্রক্রিয়ার মধ্যেই তাঁর মেয়ে মিসার বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সম্পূরক চার্জশিট দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মিসার স্বামী শৈলেশ কুমারের নামও এই চার্জশিটে রয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগেই ইডি প্রথম চার্জশিট দিয়েছিল। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলা আদালতে উঠবে। সূত্র : এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার।



মন্তব্য