kalerkantho


নতুন ও পরিবর্তিত মন্ত্রীদের কাজ শুরু

পরিচয় পর্ব আশাবাদ আর রসিকতায় কাটল দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পরিচয় পর্ব আশাবাদ আর রসিকতায় কাটল দিন

সম্প্রসারণকৃত মন্ত্রিসভার নতুন মন্ত্রীরা কাজ শুরু করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের বেশির ভাগ নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের অফিসে বসেন। তবে প্রথম দিন মন্ত্রণালয় ও অধীন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেই তাঁদের সময় কেটেছে। শুনিয়েছেন আশার কথা। কোনো ফাইলে এদিন তাঁদের সই করার সুযোগ হয়নি।

তবে দপ্তর বদলে দেওয়া চার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অফিসে বসা হয়নি। তাঁদের মধ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর একটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। দপ্তরের কক্ষ ঠিক না হওয়ায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী সচিবালয়ে যাননি।

নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এই মন্ত্রণালয়ের সদ্য বিদায়ী মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক।

‘রক্ত দিয়ে হলেও বিমানকে লাভজনক করব’ ‘বাংলাদেশ বিমানের কারণে সরকারের সব অর্জন শেষ হয়ে যায়’ বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী শাহজাহান কামালকে সতর্ক করে দেন এই মন্ত্রণালয়ে চার বছর দায়িত্ব পালনের পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া রাশেদ খান মেনন। তিনি গতকাল শাহজাহান কামালকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এ কথা বলেন। সকাল ১০টার দিকে দুজনই সচিবালয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ে যান। পরস্পরের হাত ধরে তাঁরা মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন। বসেন পাশাপাশি সোফায়।

মেনন নতুন মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়কে ঘিরে অনেক বদনাম আছে। এটি একটি আগুনের কুণ্ড। আমাদের সব সফলতা এই বিমান ধ্বংস করে দেয়। বিমানের যে বদনাম আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। এগুলো মাথায় রেখে আপনাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

জবাবে শাহজাহান কামাল বলেন, ‘আমি নতুন মানুষ, এ বিষয়ে কিছুই বুঝি না। আপনি আমাকে সহযোগিতা করবেন। আপনার সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে এই আগুন নেভানো কোনো জটিল কাজ নয়।’ শাহজাহান কামাল এরপর বাংলাদেশ বিমানকে পুরো এশিয়া মহাদেশের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার আশার কথা শোনান। সাংবাদিকদের বলেন, ‘রক্ত দিয়ে হলেও আমি বিমানকে লাভজনক করব।’

এরপর শাহজাহান কামালকে মন্ত্রীর চেয়ারে বসান রাশেদ খান মেনন। সেখান থেকে মেনন তাঁর দপ্তর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যান। নতুন অফিসে গিয়ে মেনন জানান, নির্বাচনের বছরে মন্ত্রিসভার এই রদবদলকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন তিনি। রসিকতা করে বলেন, ‘উড়ন্ত ছিলাম, এখন মাটিতে মানুষের কাছাকাছি এসেছি।’ বিমান মন্ত্রণালয়ের বাজেট হাজার কোটি টাকার নিচে এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট তিন হাজার কোটি টাকার বেশি উল্লেখ করে মেনন বলেন, ‘শতকের ঘর পেরিয়ে হাজারের ঘরে এসেছি।’

‘নিয়ন্ত্রণ নয়, বিটিআরসিকে সহায়তা দেব’ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে নিয়ন্ত্রণের চিন্তা না করে সংস্থাটির সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে সহায়তার মানসিকতা নিয়ে এগোতে চান নতুন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। গতকাল বৃহস্পতিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মনোভাব প্রকাশ করেন।

টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির মধ্যে টানাপড়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, বিটিআরসি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করলেও এককভাবে সব কার্যক্রম চালাতে পারে না। তবে সেখানে নিয়ন্ত্রণের কোনো বিষয় নেই। জনগণের পক্ষে কাজ করছে কি না, ওই জায়গাটা নিশ্চিত করা দরকার। নতুন মন্ত্রী বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকার কারণ নেই। ‘দুটি বিভাগ দুটি চোখ বা হাতের মতো’ একসঙ্গে, সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

ইন্টারনেটের গতি ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলাদেশ ‘ডিজিটালাইজড’ হবে না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, জনগণের অধিকার আছে তার উপযুক্ত সেবা পাওয়ার। জনগণ যেন অভিযোগ করার সুযোগ পায় এবং সে বিষয়ে পুরোপুরি ব্যবস্থা যাতে নেওয়া যায়, সেটা দেখতে হবে। যদি দুর্বলতা থাকে, তাহলে তা কাটিয়ে ওঠা হবে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘৭৮ হাজার টাকার ব্যান্ডউইডথ যদি ৬০০ টাকায় নিয়ে আসতে পারি, তাহলে সে সুযোগ কেন সাধারণ গ্রাহকরা পাবে না। না পাওয়ার অন্তরায় হচ্ছে, মোবাইল ফোনের জন্য কলরেট নির্ধারণ করা আছে, ডাটার জন্য নির্ধারণ করা নেই। ইন্টারনেটের জন্য এ রকম একটি সীমারেখা থাকা উচিত। আমি ব্যান্ডউইডথের প্যাকেজ নিতে চাই তাহলে কেন পাব না, এক এমবিপিএস প্যাকেজ নেব—এ সুযোগটা থাকতে হবে।’ অনাকাঙ্ক্ষিত এসএমএস ভোগান্তি লাঘবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে বের করা উচিত। ১৪ কোটি সংযোগ ব্যবহারকারীর অধিকার অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, কারণ এটি জনগণের সরকার।’

পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতিসভায় মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আগে ইন্ডাস্ট্রি ও জনগণের পক্ষ থেকে তথ্য-প্রযুক্তিসংক্রান্ত দাবিদাওয়া পেশ ও আদায় করার দায়িত্ব পালন করতাম। নেত্রী এখন আমাকে উল্টো জায়গায় বসিয়ে দিয়েছেন।’

 



মন্তব্য