kalerkantho


সামনে আরো কঠোর হতে পারে সরকার

আবদুল্লাহ আল মামুন   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সামনে আরো কঠোর হতে পারে সরকার

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বার্ষিকীতে আজ ৫ জানুয়ারি ঢাকায় কোথাও উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অন্যথায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে দলটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপর্যায় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতি এখন যে নমনীয় মনোভাব সরকার দেখাচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে তার পরিবর্তন হতে পারে।

সূত্র মতে, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারে এবার বিএনপিকে ডাকা হচ্ছে না। তাদের ছাড়াই সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরো এক বছর বাকি থাকলেও নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হতে পারে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ক্ষমতাসীনরা। এ নিয়ে আলোচনা চলছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, তাঁরা মনে করেন না বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে। সে সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন না। তবে বিএনপি আগামী নির্বাচনে আবারও ভুল করুক, সে চেষ্টা তাঁদের থাকবে। নেওয়া হবে সব ধরনের রাজনৈতিক কৌশল। তাই সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই—এ যুক্তিতে নির্বাচনকালীন সরকারে তাদের ডাকা হবে না।

বিএনপির দাবি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাবও রয়েছে বিভিন্ন পক্ষের। যদিও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এ ধরনের আলোচনার প্রস্তাব বরাবরই নাকচ করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিএনপির সঙ্গে তাঁরা কোনো আলোচনায় বসবেন না। সময়মতো সংবিধানের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপির থাকার সুযোগ নেই। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারে থাকতে হলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য হতে হবে। এর বাইরে কিছু হবে না। তিনি বলেন, গত নির্বাচনের (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি) আগে জাতীয় সংসদে বিএনপি প্রধান বিরোধী দল ছিল। সে জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সংসদে তারা প্রতিনিধিত্ব করে না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে বিএনপি এবং তার দলের নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতিগ্রস্ত। এ রকম একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে আনার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন না। আর রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য নির্বাচনকালীন সরকারে তাদের নেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

সংবিধানে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা নেই। তবে এ ব্যাপারে ইঙ্গিত রয়েছে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় উল্লেখ আছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া এবং সংসদ সদস্যদের অব্যবহিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তীকালে কাউকে মন্ত্রী নিয়োগ করার প্রয়োজন দেখা দিলে সংসদ ভেঙে যাওয়ার অব্যবহিত আগে যাঁরা সংসদ সদস্য ছিলেন, তাঁরা বহাল থাকবেন। ৫৮ অনুচ্ছেদের ৩ দফায় বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল করা যাবে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র ও সংস্থাপন (বর্তমানে জনপ্রশাসন) মন্ত্রণালয়সহ তখনকার বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দের মন্ত্রণালয় বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নিয়ে খালেদা জিয়াকে সরাসরি ফোনও করেছিলেন। কিন্তু ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল বিএনপি। শেষ পর্যন্ত দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

দশম সংসদ নির্বাচনকালীন সংক্ষিপ্ত মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব ছিল এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও জাতীয় পার্টির (জেপি)।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে প্রতিবছর দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। তবে কোনো বছরই এই দিনে দলটিকে রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এবার ডিএমপির কাছে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও পরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল বিএনপি। এ ব্যাপারে জানতে গতকাল বিকেল ৩টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপিতে যায়। কিন্তু অনুমতি মেলেনি।

এ প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও  প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ডিএমপিতে গিয়েছিলাম। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ৫ জানুয়ারি বিএনপি চাইলে ইনডোরে যেকোনো সময় কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কর্মসূচি পালন করতে হলে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এখন দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমপিকে জানানোর কথা বলে এসেছি।’

 

 



মন্তব্য