kalerkantho


এবার রাজবাড়ীতে বাড়িতে ঢুকে দুই বোনকে কোপাল বখাটে

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এবার রাজবাড়ীতে বাড়িতে ঢুকে দুই বোনকে কোপাল বখাটে

এবার রাজবাড়ীতে বাড়িতে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে এক বখাটে। গত মঙ্গলবার রাতে বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের খামারমাগুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নটাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আসিয়া খাতুনকে (১৬) প্রথমে এলোপাতাড়ি কোপায় তারই সহপাঠী বখাটে আলাউদ্দিন সরদার (১৬)। আর আসিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার ছোট বোন, একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী হাসনা হেনাকেও (১৫) কুপিয়ে জখম করে আলাউদ্দিন।

গুরুতর অবস্থায় ওই দুই ছাত্রীকে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আর হামলার পর থানায় ফোন করে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছে আলাউদ্দিন নিজেই। সে দুই ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। ওই ঘটনায় হওয়া মামলায় পুলিশ আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

বখাটে আলাউদ্দিন বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নটাপাড়া গ্রামের মোক্তার সরদারের ছেলে। আর আসিয়া ও হাসনা হেনা একই ইউনিয়নের খামারমাগুরা গ্রামের কৃষক রহমান মৃধার মেয়ে।

দুই স্কুলছাত্রীর মা নুরুন নাহার বেগম জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে খাবার খেয়ে নিজ ঘরে পড়াশোনা করছিল আসিয়া ও হাসনা হেনা। ওই সময় আকস্মিকভাবে ধারালো একটি দা নিয়ে মেয়েদের কক্ষে ঢুকে আলাউদ্দিন প্রথমে আসিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। বোনকে রক্ষা করতে হাসনা হেনা এগিয়ে এলে তাকেও  কুপিয়ে জখম করে আলাউদ্দিন।

নুরুন নাহার বলেন, মেয়েদের চিৎকারে তাঁরা বের হতে গিয়ে দেখেন তাঁদের কক্ষের সিটকানি বাইরে থেকে লাগানো। তখন তাঁরাও চিৎকার করতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আলাউদ্দিন পালিয়ে যায়। পরে আহত ওই দুই বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নুরুন নাহার জানান, এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ের মধ্যে আসিয়া তৃতীয় এবং হাসনা হেনা চতুর্থ। আসিয়া ও হাসনা হেনা মেধাবী ছাত্রী জানিয়ে নুরুন নাহার বলেন, ‘আমার এমন মেধাবী আর নিরীহ মেয়ে দুটিকে যে কুপিয়ে জখম করেছে আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসিয়া খাতুন জানায়, আলাউদ্দিন তার সহপাঠী। দীর্ঘদিন ধরে সে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আসিয়া রাজি না হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়।

হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আসিয়া জানায়, দরজা খোলা পেয়ে আলাউদ্দিন ঢুকেই দা দিয়ে প্রখমে তার দুই হাতে কুপিয়ে জখম করে। এরপর গলায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে সে মাথা নিচু করে ফেলে। তখন তার মাথায় দায়ের কোপ লাগে। এরপর হাসনা হেনা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতেই আলাউদ্দিন তার বোনের মাথা, হাত ও পিঠে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

আহত ছাত্রীদের দুলাভাই ইউনুস মোল্লা জানান, কিছুদিন ধরে আসিয়াকে বিরক্ত করে আসছিল আলাউদ্দিন। বিষয়টি জেনে তিনি ঢাকা থেকে এসে মঙ্গলবার আলাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে বোঝান। ওই ঘটনার পর রাতে তার শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে দুই শ্যালিকাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে আলাউদ্দিন।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি হাসিনা বেগম জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে একটি ছেলে তাকে ফোন করে নিজেকে আলাউদ্দিন পরিচয় দিয়ে বলে, ‘স্যার আমি অনেক বড় অন্যায় করেছি। আপনি আমাকে গ্রেপ্তার করুন।’ ওই ফোন পাওয়ার পর তিনি গিয়ে ওই ছাত্রীদের বাড়ির কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আলাউদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

ওসি জানান, আলাউদ্দিন ওই দুই ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার বিকেলে আহত ছাত্রীদের বাবা বাদী হয়ে আলাউদ্দিনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেছেন।

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাড়িতে ঢুকে হোমায়রা আক্তার মুন্নি নামে এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় বখাটে এহিয়া। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় মুন্নি।

এদিকে ফরিদপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম মো. আজাদ গতকাল রাতে জানিয়েছেন, আসিয়া ও হাসনা হেনা হাসপাতালের মহিলা সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তারা দুজন আপাতত আশঙ্কামুক্ত।

 



মন্তব্য