kalerkantho


প্রগতির মেয়েদের মুকুটে বিজয়ের আরো পালক

ফখরে আলম, যশোর   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রগতির মেয়েদের মুকুটে বিজয়ের আরো পালক

হাতে হাতে সাফল্যের স্বীকৃতি যশোরের প্রগতির মেয়েদের।

প্রগতি কথাটির অর্থই যে এগিয়ে চলা—যশোরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের প্রগতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়েরা বারবার প্রমাণ করছে। একের পর এক পদক জিতে জানান দিচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব। সফল হওয়ার জন্য অবকাঠামো যে বড় নয়, দারিদ্র্যও যে বড় বাধা নয়, তারও সাক্ষী অল্পবয়সী এই মেয়েরা। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ কালের কণ্ঠে ‘দেশসেরা প্রগতির মেয়েরা’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। তারপর সাফল্যের মুকুটে

লেগেছে আরো অন্তত দুটি নতুন পালক। গত সেপ্টেম্বরে ৪৬তম জাতীয় ও স্কুল-মাদরাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দলটি চ্যাম্পিয়ন হয় হ্যান্ডবলে। এ নিয়ে হ্যান্ডবলে ১১ বার চ্যাম্পিয়ন ও ৯ বার রানারআপ হয়ে রেকর্ড গড়ল তারা। শুধু কি হ্যান্ডবল? বাস্কেটবলে প্রগতির মেয়েরা এগিয়ে আসছে ঝড়ের গতিতে। গতকাল বুধবার তারা যশোর জেলা স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে বাস্কেটবলে সেরা দলের মুকুট পরে। যশোর শহরের শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

এত সাফল্য যে প্রতিষ্ঠানটির তার অবস্থান শহরে নয়, পশ্চাৎপদ এলাকায়। ফলে শিক্ষার্থীরাও দারিদ্র্যপীড়িত। জেলা শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বালিয়াডাঙ্গা স্কুলটির পথচলা শুরু ১৯৭৪ সালে। খেলার উপযুক্ত মাঠ নেই। রিকশাচালক, দিনমজুর, নৈশপ্রহরী, গরিব ভূমিহীন কৃষকের মেয়েরা পেটভরে খেতেও পায় না। কিন্তু তারা অপরাজেয় হওয়ার লক্ষ্যে স্বপ্ন দেখতে জানে, করতে জানে হাড়ভাঙা অনুশীলন। সেই স্বপ্নের ম্যাজিকে তারা এখন মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। হ্যান্ডবলে একের পর এক চমক লাগিয়ে বাস্কেট বলেও সমান গতিতে এগোচ্ছে, যার প্রমাণ গতকালের উপজেলা পর্যায়ে সের দল হওয়া।

এই স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গরিব পরিবার থেকে আসা। ‘আমাদের খেলার মেয়েরা প্রায় সবাই হতদরিদ্র। এরা ডিম-দুধ খেতে পায় না। হয়তো পান্তা ভাত খেয়েই অদম্য সাহস নিয়ে মাঠে নামে জয়ের ট্রফি ছিনিয়ে আনতে। এভাবেই তারা ১৯৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১ বার চ্যাম্পিয়ন আর ৯ বার রানারআপ হয়েছে।’ কালের কণ্ঠকে বলছিলেন স্কুলটির শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক মো. হাসানুজ্জামান।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাধাকান্ত বিশ্বাস। প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিশ্বাস, তাঁর মেয়েরা আরো বহুদূর যাবে, যদি কাঙ্ক্ষিত সব সহযোগিতা পায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের জয়যাত্রা অব্যাহত আছে। হ্যান্ডবলের পাশাপাশি আমাদের মেয়েরা এখন বাস্কেটবল নিয়েও সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। মেয়েরা যদি সব ধরনের সহযোগিতা পায় তাহলে এরা শুধু স্কুল নয়, দেশের মানও বাড়াতে পারবে।’

স্কুলের টিম ক্যাপ্টেন তাহমিনা এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তাহমিনার বাবা ভূমিহীন কৃষক। তাহমিনা বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নিয়ে আমাদের উৎসাহ আরো বেড়ে গেছে। আমাদের আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। আমরা এগিয়ে যেতে চাই। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে গিয়ে খেলে জয়ের পদক নিয়ে স্বদেশে ফিরতে চাই। আমরা খেলার জন্য একটি সুন্দর মাঠ ছাড়া আর কিছুই চাই না।’

 

 


মন্তব্য