kalerkantho


চতুর্থ দিনে অসুস্থ ৮৭ শিক্ষক

► বিশিষ্টজনদের সংহতি
► ফের বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চতুর্থ দিনে অসুস্থ ৮৭ শিক্ষক

ছবি: কালের কণ্ঠ

এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে। অনশনের চতুর্থ দিনে গতকাল বুধবার ৮৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়েছেন। আন্দোলনের আহ্বায়ক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায়সহ অনেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৬০১ ও ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। কেউ কেউ অনশনস্থলেই স্যালাইন নিচ্ছেন। অন্যদের অবস্থাও ভালো নয়। একই সঙ্গে প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন নতুন শিক্ষক এসে অনশনে যোগ দিচ্ছেন। গিয়ে সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সুধীসমাজের বিশিষ্টজনরা। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার নতুন প্রস্তাব নিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা গতকাল এলে প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষক নেতারা।

কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে গতকাল সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ও নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর হোসেন, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. ফরিদ উদ্দীন ফরিদ প্রমুখ সংহতি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রনি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মো. ইমরান হাবিব পৃথকভাবে মিছিল নিয়ে এসে সমর্থন জানিয়েছেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায় ঢাকা মেডিক্যালের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। একই ওয়ার্ডে আছেন ভোলার ফজলুল হক ফিরোজ, রাজশাহীর শামসুল হক ও সাতক্ষীরার জাহাঙ্গীর আলম। ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষক তসলিম উদ্দিন, পিরোজপুরের আব্দুস সালাম, পটুয়াখালীর হেমায়েত উদ্দিন ও সাতক্ষীরার আব্দুস সালাম। শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচিতে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দুজন চিকিৎসককে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। তাঁরা শিক্ষকদের স্বাস্থ্যের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে গেছেন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের অনশন থেকে ওঠানোর জন্য মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গেছেন। আশ্বাস নয়, শিক্ষকদের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের কেউ মারা গেলে এর জন্য সরকার দায়ী থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যাঁদের থাকার কথা শ্রেণিকক্ষে, তাঁরা রাস্তায় পড়ে আছেন। এটা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার। সরকার বারবার তাঁদের আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু সেই আশ্বাসের কোনো বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসার নতুন প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষক নেতারা। গতকাল সকালে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব নিয়ে আসেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা। কিন্তু নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাঁদের বলেছেন, কোনো আলোচনা নয়, এমপিওভুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে। গত মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাসও প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষকরা। তাঁরা বলেন, এমপিওভুক্তির ঘোষণা তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে চান।

সংগঠনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমপিওভুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ না জেনে আমরা বাড়ি ফিরে যাব না। নয়তো আমাদের আমরণ অনশন চলবে। প্রয়োজনে সবাই রাজপথে মারা যাব। চলতি বাজেটেই আমাদের এমপিওভুক্ত করতে হবে। জানুয়ারি মাসের বেতনেই আমাদের এমপিও চাই। তবে আমাদের প্রতিদিন অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিক্ষকও যোগ হচ্ছে। আগামীতে আরো শিক্ষকরা ঢাকায় এসে অনশনে যোগ দেবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’ তবে এই শিক্ষক নেতা দ্রুতই এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতিও গত সোমবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। সংগঠনের মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আরো কয়েক দিন দেখব। তাতে কাজ না হলে আমরাও অনশন কর্মসূচির দিকে যাব।’

 


মন্তব্য