kalerkantho


সম্প্রসারণের পর চমক মন্ত্রিসভায় রদবদল

জোটের শরিক ও বিরোধী দলের নেতাদের দপ্তর পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সম্প্রসারণের পর চমক মন্ত্রিসভায় রদবদল

নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বদল করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে চমক সৃষ্টি না হলেও এ রদবদল নিয়ে চমক সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পুরনো মন্ত্রীদের মধ্যে যাঁদের দপ্তর বদল করা হয়েছে তাঁরা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা। একটি শরিক দলের নেতার দপ্তর বদল করা না হলেও তাঁর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার জন্য একজন প্রতিমন্ত্রী বসানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন ও পুরনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী করা হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে করা হয়েছে পরিবেশ ও  বন মন্ত্রী। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেনকে করা হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রী। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী তারানা হালিমকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

মঙ্গলবার শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে তাঁর আগের কর্মস্থল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। এ কে এম শাহজাহান কামালকে করা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী করা হয়েছে। নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী কেরামত আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের।

এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে কাজ করে যাওয়া নুরুজ্জামান আহমেদকে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। অর্থাৎ নুরুজ্জামান আহমেদ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী থাকলেও পুরো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী করার পর নুরুজ্জামান আহমেদকে পুরো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে শুধু প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের আট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করার কথা জানিয়েছেন।

এ সরকারের শুরু থেকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আরেক শরিক জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শুরু থেকেই পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ছিলেন। একইভাবে সংসদের বিরোধী দল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী। সরকারের শেষ বছরে এসে এবার তাঁদের দুজনের মধ্যে দায়িত্ব বদল হলো। সরকারের শুরু থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছায়েদুল হক মারা যাওয়ায় পদটি শূন্য হয়। পদোন্নতি পেয়ে এই পদে বসেছেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

সরকারের দেড় বছরের মাথায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হন তারানা হালিম। তাঁকে এবার পাঠানো হয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের আরেক শরিক দল জাসদের (ইনু) সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে। শুরু থেকে একাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। শেষ সময়ে এসে তাঁর দায়িত্বে ভাগ বসালেন প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। তিনি এ মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাবেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ও প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের মৃত্যুর পর ২০১৬ সালের মাঝামাঝি নুরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করে সমাজকল্যাণে পাঠানো হয়। এত দিন তিনি একাই পুরো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এবার তাঁর ওপরে বসেছেন রাশেদ খান মেনন।

২০১৪ সালে সরকার গঠনের দেড় মাসের মাথায় এ এইচ মাহমুদ আলী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আর হজ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্যের জন্য মন্ত্রিত্ব খোয়ান লতিফ সিদ্দিকী। শুরু থেকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় সরকার মন্ত্রী থাকলেও ২০১৫ সালের ৯ জুলাই তাঁকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। পরে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই সময়ের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। প্রবাসী কল্যাণের মন্ত্রী করা হয় নুরুল ইসলাম বিএসসিকে। একই সময়ে মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ইয়াফেস ওসমান।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে এ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ মন্ত্রিসভায় ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুজন উপমন্ত্রী ছিলেন। নতুন চারজনকে নিয়ে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা এখন ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুজন উপমন্ত্রী।

 



মন্তব্য