kalerkantho


নাগরিক তালিকায় বদলাতে পারে আসামের রাজনীতি

পরিস্থিতির ওপর দৃষ্টি ঢাকার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নাগরিক তালিকায় বদলাতে পারে আসামের রাজনীতি

ভারতের আসাম রাজ্যের হালনাগাদ ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)’ তালিকার প্রথম খসড়ায় স্থান হয়নি অল ইন্ডিয়ান ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) প্রধান মওলানা বদরুদ্দিন আজমলের। ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রশ্নে এনআরসির প্রথম খসড়াই চূড়ান্ত নয়। এর পরও প্রথম খসড়ায় আসামে সংখ্যালঘু নেতা আজমলের নাম না থাকার বিষয়টি ওই রাজ্যের রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।

গত রবিবার মধ্যরাতে প্রকাশিত এনআরসির প্রথম খসড়ায় আসামের তিন কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে এক কোটি ৩৯ লাখেরই নাম বাদ পড়েছে। তাদের আবেদনগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হবে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজএইটিনডটকমের খবরে বলা হয়েছে, আসামের জনগণকে আতঙ্কিত না হতে এনআরসি কর্তৃপক্ষ টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে প্রথম খসড়ায় বাদ পড়া ব্যক্তিদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আতঙ্ক ওই প্রচারণায় কতটা কমছে তা বলা কঠিন।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু গতকাল মঙ্গলবার লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে আসামে প্রায় ২০ হাজার ব্যক্তি

বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল (বিদেশিদের জন্য আদালত) গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬১২ জন ‘ডি’ (ইংরেজিতে ডাউটফুল/ ডিসপুটেড) ভোটারকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে তারা আটক আছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের তথ্য অনুযায়ী, আসামের রাজনীতিতে বদরুদ্দিন আজমলের উত্থান ২০০৫ সালে। আসামে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের এই নেতাকে অভিবাসী বাঙালি মুসলমান হিসেবেও দেখা হয়। আসামে বাংলা ভাষাভাষী গোষ্ঠীর সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে অসমিয়াভাষী জনগোষ্ঠীর প্রতিযোগী।

বদরুদ্দিন আজমলের পূর্বপুরুষরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসামে পাড়ি জমিয়েছিলেন। আসামে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের ওপর আজমল ও তাঁর দল এআইইউডিএফের প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। আসামে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলমান জনগোষ্ঠী ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। অনেকের আশঙ্কা, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসনের ফলেই এমনটি হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, আসামের বিধানসভার ১২৬টি আসনের মধ্যে ৪৯টিতে মুসলমানদের প্রভাব রয়েছে। কথিত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে আদালতের নির্দেশে এনআরসি হালনাগাদ উদ্যোগ নিয়েছে আসাম। হালনাগাদ এনআরসিতে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বড় অংশের নাম না থাকলে তাদের অস্তিত্বই হুমকিতে পড়তে পারে।

এদিকে ভারতের আসাম রাজ্যে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত ও বিতাড়নের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা প্রকাশকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি রাখছে বাংলাদেশ। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখনো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে ভোটের রাজনীতি জড়িত। ভোটের আগেই অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করার ডাক ওঠে। আবার ধীরে ধীরে তা স্থগিত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান হলেই সে বাংলাদেশ থেকে আসামে গেছে এমনটি মনে করার যৌক্তিক কারণ নেই। ভারতের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ আসামের বাঙালি মুসলমান ছিলেন। এ ছাড়া ভারতের সামরিক বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন পদে আসামের বাঙালি মুসলমানদের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড আছে।



মন্তব্য