kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া ফিরবেন না শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া ফিরবেন না শিক্ষকরা

আমরণ অনশন : এমপিওভুক্তির দাবিতে কাঁদছেন শিক্ষক মা। পাশে কাঁদছে শিশুসন্তান। মায়ের কান্না থামলে খুশিতে বাড়ি ফিরবে শিশুটি। ছবিটি গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনরত শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত হয়ে নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেন। অর্থমন্ত্রীর বরাত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ (গতকাল) বিদেশ যাওয়ার আগে অর্থমন্ত্রী আমাকে (শিক্ষামন্ত্রীকে) বলে গেছেন, নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে, শেষ হলেই এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটা আমাদের বিজয়।’ এ সময় শিক্ষকরা ‘না না’ বলে মন্ত্রীর আশ্বাস নাকচ করে দেন। তাঁরা অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন। হট্টগোলের একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা করে এমপিওভুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য সময় লাগবে। কিন্তু সম্মতি পাওয়া গেছে এটাই একটি বড় অর্জন।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের দুজন সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর অনশনরত শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। মন্ত্রী আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। শিক্ষামন্ত্রী টালবাহানা করছেন, তাঁর কথা আমরা বিশ্বাস করি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশন চালিয়ে যাব। বাজেটে এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি রাখতে হবে।’

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কুমারপাড়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মো. গোলাম রহমান বলেন, ‘এর আগেও আমরা অনশনে বসেছিলাম, কিন্তু মন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভেঙে ভুল করেছিলাম। এবার আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ থেকে ঘোষণা না শুনে অনশন ভাঙব না।’

সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল ৩৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ছিলেন খুলনার বাহরুল ইসলাম, নওগাঁর চকরঘুনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. বাবুল হোসেন মণ্ডল, বগুড়ার ধূপকাঠির শিক্ষক সেকেন্দার আলী, মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ইকরামুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার সিরাজউদ্দৌলা কলেজের আশরাফুল আলম লাভলু প্রমুখ।

দুপুর ১২টায় অনশনরত শিক্ষক নেতা গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে ফোনে কথা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই। নয়তো আমরা রাজপথ ছাড়ব না। প্রয়োজনে মরে যাব। শিক্ষামন্ত্রী আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি। এ রকম আশ্বাস আমরা আগে বহুবার পেয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’ তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে অনশনস্থলে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে আছেন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য কাজী ফারুক আহমেদ, বিটিএর সভাপতি সৈয়দ মোফাজ্জেল, ইব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক আবু সাঈদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা অনুপম বড়ুয়া, বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড আজিজুর রহমান ও অধ্যাপক আ. সাত্তার, মেজর (অব.) মো. মামুনুর রশীদ প্রমুখ।


মন্তব্য