kalerkantho


শিক্ষকদের অনশনের দ্বিতীয় দিনেও সরকারের সাড়া নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শিক্ষকদের অনশনের দ্বিতীয় দিনেও সরকারের সাড়া নেই

এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন করছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষকদের অনশনেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া নেই। ফলে পাঁচ দিনের টানা অবস্থান কর্মসূচির পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন পালন করলেন শিক্ষকরা। গতকাল সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই উৎসব পালন করা হলেও শিক্ষকদের থাকতে হলো ঢাকার রাজপথে।

আমরণ অনশনের দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গতকাল ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের চিলখালা মডেল কলেজের মো. ফরহাদ, কুষ্টিয়ার খোকসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আব্দুর রাজ্জাক, বরিশালের আল ইখওয়াসা দাখিল মাদরাসার ফজলুর রহমানের অবস্থা গুরুতর।

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, টানা সাত দিন আন্দোলন চালিয়ে গেলেও আমাদের সঙ্গে কেউ কথা বলেনি। অনেকে অসুস্থ হয়েছেন। সরকার আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা এখনো বিশ্বাস করি, অনশন চলাকালে মৃত্যুর খবর শোনার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেবেন।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ বিনয় ভূষণ রায় বলেন, ‘গত শনিবারের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ফলের কৃতিত্বের দাবিদার হলেও আমরা আনন্দের অংশীদার হতে পারিনি। বই উৎসবেও অংশগ্রহণ করতে পারিনি।’

গতকাল আমরণ অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। শিক্ষকদের দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা যদি আমরণ অনশন না ভাঙেন তবে এটা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। এ লজ্জায় আমাদের ফেলবেন না। সরকারের আশ্বাসে নয়, কার্যকরী সিদ্ধান্তে বিশ্বাস করেন শিক্ষকরা। তাঁদের আশায় রেখে আর টালবাহানা করবেন না। একেকজন শিক্ষক ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বেতন পান না। এটা আমাদের জন্য যন্ত্রণার, কষ্টের। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লজ্জা থাকা দরকার।’

আমরণ অনশনে সংহতি প্রকাশ করতে আসা ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি ও বারডেম হাসপাতালের অধ্যাপক এম এ সাঈদ বলেন, ‘আমিও শিক্ষক। আমি ডাক্তার হতে আসা ছাত্রদের পড়াই। কিন্তু ওদের এ পর্যন্ত আসার জন্য এই স্কুল শিক্ষকদের মহান দায়িত্ব ছিল। তাঁদের কারণেই আমরা এ পর্যায়ে। তাঁদের অভুক্ত রেখে জাতি গঠন সম্ভব নয়।’

এ ছাড়া সংহতি জানান গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ ও খালেকুজ্জামান লিপন, ন্যাপের সম্পাদক পার্থ সারথী চক্রবর্তী, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্বাফি রতন ও জলি তালুকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খান প্রমুখ।

বিরোধীদলীয় নেতার বিবৃতি : আমরণ অনশনে থাকা সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বছরের প্রথম দিন সারা দেশে যখন বই উৎসব চলছে তখন সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। দেশের হাজার হাজার নন-এমপিও স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীর বেশির ভাগই বিনা বেতনে সেখানে চাকরি করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের স্বীকৃতি নিয়ে গড়ে উঠলেও তা এমপিওভুক্তি হয়নি।

এমপিওভুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে একাধিকবার দাবি উঠলেও বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষকরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। তাঁদের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বেতন-ভাতার জোগান দেওয়া হয় না। বিশেষ করে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বেশির ভাগই জীবনযাপনের জন্য অন্য কোনো কাজ করতে হয়।’ তিনি আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমৃদ্ধ করা, সুশিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার সুষ্ঠু বিকাশের জন্য এমপিওভুক্তি অত্যন্ত জরুরি। কারণ, শিক্ষকদের জীবন অবহেলা ও কষ্টে কাটলে তাঁদের উৎসাহ ফুরিয়ে যাবে। তাহলে তাঁদের হাত দিয়ে ভবিষ্যতে সুনাগরিক বেরিয়ে আসবে কিভাবে? কাজেই মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকার নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ব্যাপারে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মন্তব্য