kalerkantho


নতুন বইয়ের ঘ্রাণ স্কুল থেকে বাড়িতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নতুন বইয়ের ঘ্রাণ স্কুল থেকে বাড়িতে

নতুন বই বাড়িয়ে দিল নতুন বছরের খুশি। বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীরা। ছবি : ফিরোজ গাজী

নতুন বছরের প্রথম দিন। শিক্ষাবর্ষেরও প্রথম। আর প্রথম দিনেই উপহার নতুন বই। তাই শীতের সকালেই নিজ নিজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিশু শিক্ষার্থীরা। নতুন বই হাতে পেয়েই এর ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে তারা। বিদ্যালয় থেকে সেই ঘ্রাণ তারা বয়ে নিয়ে যায় নিজ নিজ বাড়িতে।

গতকাল সোমবার দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়েই ছিল বই উৎসব। বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বই।

গতকাল রাজধানীতেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বই উৎসব করে। আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পাঠ্যপুস্তক উৎসব ২০১৮-র কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মাঝে বই বিতরণ বিশ্বে অতুলনীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু হয়। এ কার্যক্রম সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত হয়েছে।’

নতুন বই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নববর্ষের উপহার উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সকল শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। নতুন বই শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রেরণা ও উৎসাহ সৃষ্টি করে।’

বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সমালোচনার মধ্যে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পেছনে না ছোটার প্রতিশ্রুতি আদায় করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসেন। অভিভাবকদেরও ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পেছনে না ছোটার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নকল বা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে আপনার সন্তানেরা হয়তো সাময়িকভাবে ভালো করবে, কিন্তু পরবর্তী জীবনে কিছুই করতে পারবে না।’

সচিব সোহরাব হোসেন বলেন, ‘একটি মহল প্রশ্ন ফাঁস করে দিয়ে আমাদের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যেক গলা টিপে হত্যা করছে। তাই সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অসাধু পন্থা থেকে যার যার সন্তানকে দূরে রাখতে হবে।’

পরে শিক্ষামন্ত্রী কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন।

নতুন বই হাতে পেয়ে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহি রহমত কালের কণ্ঠকে বলে, ‘নতুন বই খুবই ভালো হয়েছে। বাসায় গিয়ে পড়া শুরু করব।’

নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল পল্টন লাইন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী আলী সিনহা নূরী, লালবাগ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের জামিল উদ্দিন আয়ন, ওয়েস্ট অ্যান্ড হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রিমন আহমেদসহ সব শিক্ষার্থী।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত বই বিতরণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা সব শিক্ষার মেরুদণ্ড। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট ৬৫ হাজার। এর মধ্যে ৫০ হাজার বিদ্যালয়ে নতুন করে ল্যাপটপ, মডেম ও মাল্টিমিডিয়া দেওয়া হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সবার জন্য উপবৃত্তির দ্বার খুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি মা-বাবারা শুধু এসব কারণে এখন আর শিশুদের স্কুলে পাঠান না। তাঁরা সন্তানদের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে গুজব বলে অভিহিত করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের এক কোটি ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৪ শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯২১টি বই, প্রাথমিক স্তরের দুই কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থীর জন্য ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৪ হাজার ৪০৫টি বই এবং প্রাক-প্রাথমিকের ৩৪ লাখ ১১ হাজার ১৪ শিক্ষার্থীর জন্য ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮টি বই ছাপা হয়েছে। নৃগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্যও ছাপানো হয়েছে আলাদা বই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাস, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান প্রমুখ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।



মন্তব্য