kalerkantho


মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে

আবদুল্লাহ আল মামুন   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে

দীর্ঘ বিরতির পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকার হলেও এ দফায় মিত্র দলের কেউ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না। নতুন সবাই আওয়ামী লীগের। একজনের পদোন্নতির পাশাপাশি নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আজ আরো তিন নতুন মুখের দেখা মিলবে। নতুন তিনজন হলেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী এবং তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার। পদোন্নতি পাচ্ছেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তাঁদের আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে, চার নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর জন্য গানম্যান ও গাড়ি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি নিয়েছে। যদিও কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে আরেকজন নতুন মুখের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

মন্ত্রিসভার সর্বশেষ সম্প্রসারণ হয় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই। ওই দিন নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নুরুল ইসলাম বিএসসি। পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হন আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ইয়াফেস ওসমান। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদ। এরপর আর কোনো নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দেখা মেলেনি। এরই মধ্যে গত মাসে মারা গেছেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক। এর আগে ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। সেই থেকে ওই দুই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলছে প্রতিমন্ত্রী দিয়ে। 

অবশ্য আলোচনায় থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের এবারও হতাশ হতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকার থেকে দল আলাদা করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। সে কারণে সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কেউই এবারও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না বলে জানা গেছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতাদের তিনি এবারও প্রাধান্য দিয়েছেন। এর বাইরে আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে দেশের খ্যাতিমান একজন তথ্য-প্রযুক্তিবিদকে।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাকে আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্যাবিনেট সেক্রেটারি আমাকে ফোন করে বলেছেন, আপনি আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন।’ শাহজাহান কামাল জানান, ওই সময় তিনি লক্ষ্মীপুরে অবস্থান করছিলেন।

তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাকে কোনো কিছু বলতে নিষেধ করা হয়েছে।’

আমাদের রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন—এ সংবাদ রাজবাড়ীতে পৌঁছানোর পর মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া দলীয় নেতারা বিচ্ছিন্নভাবে যে যার মতো সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মিষ্টিমুখ করান।

এ প্রসঙ্গে কাজী কেরামত আলী গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, বই উৎসবের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি রাজবাড়ীতে অবস্থান করছিলেন। এরই মধ্যে গতকাল দুপুর ২টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাঁকে ফোন করা হয়। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য করছেন। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’ সেই সঙ্গে রাজবাড়ীবাসীকেও তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দোয়া চেয়েছেন।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদের ঐকমত্যের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছিল। এরপর ওই বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ানো হয়। তখন শপথ নেন এ এইচ মাহমুদ আলী ও নজরুল ইসলাম। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে প্রথমে দপ্তরবিহীন এবং পরে জনপ্রশাসনমন্ত্রী করা হয়।



মন্তব্য