kalerkantho


যশোরে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ পেছায়

ফখরে আলম, যশোর   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ পেছায়

আগামী নির্বাচনেও ‘নৌকা’য় ভোট দিয়ে দেশের সেবা করার সুযোগ দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হয়, দেশ এগিয়ে যায়। আর ভূতের পা যেমন পেছনে চলে, তেমনি বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ পেছনের দিকে চলে যায়।

গতকাল রবিবার বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এদিন যশোরে কপোতাক্ষ নদের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ ১৭ প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১১টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতীতে যেমন আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, তেমনি আগামী নির্বাচনেও ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করে দেশ ও জনগণের সেবা করার সুযোগ দেবেন, এটাই চাই। আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছি, আগামীতেও করব। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না। দেশে কোনো মানুষ অশিক্ষিত থাকবে না।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারা কারা নৌকায় ভোট দেবেন, হাত তুলে দেখান।’ তখন জনসভায় উপস্থিত জনতা একসঙ্গে হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করে।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর দলটির নেতাদের স্বজনরাও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাঁর (খালেদা) দুই ছেলে দেশের মানুষের টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেছে। ধরা পড়েছে আমেরিকায়, সিঙ্গাপুরে। এটা শুধু আমরা বলি না। আমেরিকার সংস্থার লোক এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। আমরা সেই টাকা ফেরত এনে জনগণের উন্নয়নে কাজ করছি। তাদের মা-ও (খালেদা) কম যান না। এতিমের টাকাও মেরে খেয়েছেন। যারা এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে। লুটপাট-দুর্নীতি করেছে, তারা আবার কোন মুখে কথা বলে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূতের পা নাকি পেছন দিকে চলে। বিএনপি অদ্ভুত হয়ে ক্ষমতায় আসে এবং ভূতের মতো দেশ চালায় বলেই দেশ পেছন দিকে চলে যায়।’ বিএনপি-জামায়াত জোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘হত্যা, খুন, মানুষ পোড়ানো ও ধ্বংস করা এটাই তাদের কাজ।’

২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে ওই জোটের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাস্তা করি, তারা রাস্তা কাটে। আমরা গাছ লাগাই, তারা কাটে। ধ্বংসাত্মক কাজ যারা করে, তারা দেশের মঙ্গল ও কল্যাণ করতে পারে না। বিএনপি-জামায়াত যখনই সুযোগ পায়, মানুষের ওপর অত্যাচার করে। লুটপাট, দুর্নীতি, মানুষ খুন করে। আপনারা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি, নির্বাচন ঠেকানোর নামে ২০১৪ সালে তারা কী করেছিল?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট যশোরে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ২০১৪ সালে ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনীর ২৭ সদস্যকে হত্যা করেছে। যশোরে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করেছে। সারা দেশে বাসে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারা—এটা কোন ধরনের আন্দোলন? যারা এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করে তারা দেশের উন্নয়ন করতে পারে না।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর অবৈধ ক্ষমতা দখল শুরু হয়। ইতিহাস বিকৃত করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়। ২১ বছর জনগণ দুঃসহ নির্যাতন ভোগ করেছে। জিয়া কারফিউ দিয়ে দেশ চালিয়েছে। জাতির পিতা বিচার করে যে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দিয়েছিলেন, জিয়া তাদের মুক্তি দিয়ে রাজাকারদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ, ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছি। আর সেটা একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে। কারণ, আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৩ বছর সংগ্রাম করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ দিয়েছি। আমি শেখ হাসিনা জাতির পিতার কন্যা। দুর্নীতি করতে আসিনি। জনগণের সেবা করতে এসেছি। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করেছি। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন এসে যশোরের সাথে সংযোগ ঘটাবে। খুলনা হয়ে মোংলা যাবে। তাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে।’

২০২১ সালের মধ্যে সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুৎস সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একুশে এ দেশের প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে।’

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের সঞ্চালনায় জনসভায় আরো বক্তব্য দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, শেখ আফিল উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মনির, স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী যশোর-বেনাপোল ও যশোর-খুলনা জাতীয় সড়ক উন্নয়ন, যশোরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপন, পুলিশ সুপার অফিস ভবন নির্মাণ, মণিরামপুরে শহীদ মসিয়ূর রহমান মিলনায়তন, ঝিকরগাছায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, যশোর মেডিক্যাল কলেজ একাডেমি ভবন নির্মাণ, শেখ রাসেল পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), ভৈরব নদ খননসহ ২৮টি উন্নয়নকাজের ফলক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে মোনাজাত করা হয়।



মন্তব্য