kalerkantho


চলে গেলেন চট্টল বীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চলে গেলেন চট্টল বীর

মহিউদ্দিন চৌধুরী জন্ম : ১ ডিসেম্বর ১৯৪৪ মৃত্যু : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

চলে গেলেন ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা, তিনবারের মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, পরপর তিনবার নির্বাচিত সিটি মেয়র ও ১৪ দল চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক বৃহস্পতিবার রাত ৩টার পর নগরের মেহেদিবাগে বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে এ বি এম মহিউদ্দিনকে গত মাসে সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তারপর তাঁকে ঢাকা আনা হয় এবং অবস্থার একটু উন্নতি হলে ঢাকা থেকে দুই দিন আগে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল চট্টগ্রামের নিজ বাসভবনে। উন্নতি স্থায়ী হয়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিডনি ডায়ালিসিসের জন্য  মেহেদিবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় বলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী জানান। মহিউদ্দিনের ছেলে নওফেল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার রাত ৩টার পর তাঁর বাবার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানানো হয়।

হাসপাতাল থেকে বাসায়, তারপর দলীয় কার্যালয়ে, সেখান থেকে লালদীঘির মাঠে নেওয়া হয় প্রয়াতের মরদেহ। তাঁর জানাজায় ঢল নামে লাখো মানুষের। অনেকেই বলছে, এ ছিল স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজা। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। নগরের লালদীঘির মাঠ পেরিয়ে আশপাশে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কেও দাঁড়িয়ে লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। জানাজার পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে দলীয় সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রয়াত এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

এর আগে ভোররাতে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘অবিসংবাদিত’ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার খবর মুহৃর্তে ছড়িয়ে পড়ে। দল ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে ওই রাত থেকে। সবাই তাঁকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেছে। মরদেহ গতকাল সকালে মেয়র গলির চশমা হিলের নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও দল-মত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। শোকার্ত মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

বাসভবন থেকে দুপুর আড়াইটায় নগরের দারুল ফজল মার্কেটে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রবীণ এ নেতার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। দলীয় কার্যালয় ঘিরেও ছিল শোকার্ত মানুষের আহাজারি। সেখানেও তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর বিকেল ৪টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নগরের লালদীঘি মাঠে। সেখানে বাদ আসর জানাজার পর সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানায় তাদের প্রিয় নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় জাতীয় পতাকা-ঢাকা তাঁর কফিন।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে মুহিবুল হাসান নওফেল হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষের প্রিয় মানুষ ছিলেন আমার বাবা। ঢাকায় একটু সুস্থ হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রামে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। সে কারণেই নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল (বৃহস্পতিবার) হাসপাতালে আনার পর তাঁর কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। প্রথমে আইসিইউতে নিলেও পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। একপর্যায়ে তাঁর আর কোনো সাড়া না পাওয়ায় সবার সঙ্গে আলোচনা করে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছে।’

প্রয়াতের বাসভবনে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খোলা হয়েছে শোক বই। শোক বইয়ে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়বিদারী মর্ম লেখায় বোঝা যায় চট্টগ্রামবাসীর কত প্রিয় ছিলেন এই এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, ‘তাঁর চলে যাওয়া শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক বড় ধাক্কা। আমরা অভিভাবককে হারালাম।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি। চট্টগ্রাম হারিয়েছে তার অভিভাবককে।’ মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরীর চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।’

এদিকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীন ও নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে যান প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

লালদীঘি মাঠে জানাজায় অংশ নিতে দুপুরের পর থেকে সেখানে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল ৪টার আগে জনসমুদ্রে রূপ নেয় জানাজাস্থল। নগরের লালদীঘি মাঠ পেরিয়ে আন্দরকিল্লাহ থেকে কোতোয়ালি মোড়, জেলা পরিষদের চত্বর থেকে কেসিদে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার আগে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে নগর পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কফিন। জানাজা ও মোনাজাত হয়ে গেলে মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে সর্বস্তরের মানুষ সেখানে ভিড় করে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চোখের চলে সবাই বিদায় জানায় এ বি এম মহিউদ্দিনকে।

এর আগে প্রয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বক্তব্য দেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীন ও নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, জেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক এমপি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীসহ আরো অনেকে জানাজায় অংশ নেন।

সন্ধ্যায় ষোলশহরের চশমাপাহাড় জামে মসজিদের সামনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার  কবরের পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরীবাড়িতে তাঁর জন্ম। বাবা রেল কর্মকর্তা হোসেন আহমদ চৌধুরী ও মা বেদুরা বেগম। ১৯৬২ সালে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পরে আইন কলেজে ভর্তি হলেও শেষ করেননি। জড়িয়ে পড়েন ছাত্র-আন্দোলনে।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে নওফেল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন ব্যবসা করেন। মেয়ে ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা ২০০৮ সালে ক্যান্সারে মারা যান। অন্য তিন মেয়ের মধ্যে জেবুন্নেসা চৌধুরী লিজা গৃহিণী। যমজ বোন নুসরাত শারমিন পিয়া ও ইসরাত শারমিন পাপিয়া মালয়েশিয়ায় এমবিএ করেছেন।

১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী। পাকিস্তানি সেনাদের হাতে ধরা পড়ার পর পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। উত্তর প্রদেশের তাণ্ডুয়া সামরিক ক্যাম্পে প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্কোয়াডের কমান্ডার নিযুক্ত হয়েছিলেন। সম্মুখ সমরের যোদ্ধা মহিউদ্দিন স্বাধীনতার পর শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হন। যুবলীগের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে মৌলভি সৈয়দের নেতৃত্বে মহিউদ্দিন গঠন করেন ‘মুজিব বাহিনী’। এরপর ‘চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলা’র আসামি করা হলে তিনি পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। এরপর ১৯৭৮ সালে দেশে ফেরেন বলে আত্মজীবনীতে উল্লেখ করে গেছেন এই রাজনীতিক। এ ছাড়া চট্টগ্রামে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বন্দর রক্ষা আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রথম নির্বাচনেই মেয়র পদে নির্বাচন করে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তখন ক্ষমতায় বিএনপি। তারপর যথাক্রমে ২০০০ ও ২০০৫ সালের সিটি নির্বাচনেও তিনি জেতেন। ২০১০ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থীর কাছে হারলেও রাজপথ ছাড়েননি। স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যুতে তিনি মেয়র হওয়ার আগে থেকে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এলাকায় ছিলেন। রাজনীতি ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য চট্টগ্রামবাসী তাঁকে ‘চট্টল বীর’ অভিহিত করে। 

তবে কখনো সংসদ সদস্য হতে পারেননি মহিউদ্দিন চৌধুরী। ১৯৮৬ সালে রাউজান থেকে এবং ১৯৯১ সালে নগরের কোতোয়ালি আসনে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করে তিনি হেরে যান। তবে এ নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ ছিল না।

শোক প্রকাশ : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বলেন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে বাঙালি জাতি একজন গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল কল্যাণকর সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণের অগ্রসেনানীকে হারিয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হারিয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের প্রশ্নে আপসহীন এক নেতাকে।

এ ছাড়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রমুখ। শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন একনিষ্ঠ জনসেবককে হারাল। প্রাজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।

 



মন্তব্য