kalerkantho


প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০১৭

শীর্ষে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি দ্বিতীয় নর্থ সাউথ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শীর্ষে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি দ্বিতীয় নর্থ সাউথ

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বাংলা ট্রিবিউন-ঢাকা ট্রিবিউনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত র‌্যাংকিং নির্ণয় বিষয়ক গবেষণায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ওআরজি কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড। গতকাল শুক্রবার গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

র‌্যাংকিংয়ে চতুর্থ স্থানে আছে আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, পঞ্চম স্থানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ষষ্ঠ স্থানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, সপ্তম স্থানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, অষ্টম স্থানে দি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, নবম স্থানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং দশম স্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

ওই গবেষণা পরিচালনার সময় বাংলাদেশে ৮৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। যদিও বর্তমানে এই সংখ্যা ৯৬। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি র‌্যাংকিংয়ের আওতায় আনা। যদিও ৮৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়নি। যে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার কালো তালিকাভুক্ত করেছে, সেগুলোকে এই র‌্যাংকিংয়ের আওতায় আনা হয়নি। এ ছাড়া যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ২০১২ সালের পর শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো সমাবর্তন হয়নি, সেগুলোকেও এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ২০টি। এই গবেষণার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাছাই করে নেওয়া হয় ৩২টি ইউনিভার্সিটি। সেগুলোর মধ্য থেকেই গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে সেরা ২০টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি।

র‌্যাংকিংয়ে ১১তম স্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ১২তম স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ১৩তম নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ১৪তম স্থানে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা), ১৫তম স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ১৬তম প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটি, ১৭তম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউব্যাট), ১৮তম আশা ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ১৯তম সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি এবং ২০তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)।

র‌্যাংকিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই র‌্যাংকিংয়ের বিষয়ে ইউজিসিকে কিছুই জানানো হয়নি। আর এই গবেষণা কারা করেছে, কিভাবে করেছে, কোন মেথডে করেছে তা আমাদের জানা নেই। কারো এ ধরনের গবেষণা করতে বাধা নেই। তবে সেটা অবশ্যই মানসম্পন্ন হওয়া উচিত। ’

জানা গেছে, গবেষণায় ফ্যাকচুয়াল ও পারসেপচুয়াল ডাটা থেকে প্রাপ্ত স্কোরের সমন্বয়ে চূড়ান্ত র‌্যাংকিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যাকচুয়াল থেকে ৪০ শতাংশ এবং পারসেপচুয়াল থেকে ৬০ শতাংশ স্কোর নিয়ে মোট ১০০ স্কোরের মধ্যে ইউনিভার্সিটিগুলোর র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে। ফ্যাকচুয়াল ডাটার ক্ষেত্রে ইউজিসি থেকে প্রাপ্ত ২০১৪ সালের তথ্য নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পারসেপচুয়ালের ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটির একাডেমিকস (ডিন, বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক, রেজিস্ট্রার) এবং চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর জরিপ পরিচালিত হয়।

পারসেপচুয়াল জরিপটি মোট ৩০০ জনের ওপর করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫০ জন একাডেমিকস এবং ১৫০ জন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক।

এই গবেষণায় দেখা যায়, ফ্যাকচুয়াল র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, তবে পারসেপচুয়ালে শীর্ষে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। তবে দুটির সমন্বয়ে নর্থ সাউথকে পেছনে ফেলে র‌্যাংকিংয়ের প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। ব্র্যাকের মোট স্কোর ৭৮.৯৫ আর নর্থ সাউথের স্কোর ৭১.১৩। তৃতীয় থেকে নবম ইউনিভার্সিটির স্কোর ৬৮.০৮ থেকে ৬১.২৫। দশম ইউনিভার্সিটির স্কোর ৫৬.৪৭ এবং ২০তম ইউনিভার্সিটির স্কোর ৫০.২৮।

পারসেপচুয়াল স্কোরগুলো নেওয়া হয়েছে একাডেমিক (ডিন, বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক, রেজিস্ট্রার) ও চাকরিদাতাদের কাছ থেকে। তাঁরা বিভিন্ন সূচকে নিজেদের স্কোর দিয়েছেন। যেমন শিক্ষার পরিবেশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষকদের মান, চাকরি ক্ষেত্রে পাস করা শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা ইত্যাদি। ফ্যাকচুয়াল স্কোর করা হয়েছে কয়েকটি ক্যাটাগরির ওপর—যেমন : মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা, লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা, গবেষণা ব্যয়, পিএইচডি ডিগ্রিধারীর সংখ্যা, ক্যাম্পাসের আয়তন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত, পূর্ণকালীন শিক্ষকের হার, গবেষণাপত্রের সংখ্যা।

গবেষণা ব্যয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। তাদের বাত্সরিক গবেষণায় ব্যয় ৩৯.৯২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এ খাতে ব্যয় করেছে ৮.৬১ কোটি টাকা। এ ছাড়া আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ৪.১৮ কোটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ২.৯৬ কোটি এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১.৬৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছে গবেষণা খাতে।

শিক্ষার্থী সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। তাদের শিক্ষার্থী ১৩ হাজার ৯৯০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। তাদের রয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে আছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। ইউজিসির ২০১৪ সালের প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, তাদের লাইব্রেরিতে রয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৭২৪টি বই। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৪৪৯ জন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ১৭৭ জন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ১১৮ জন, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ১১১ জন এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিতে রয়েছেন ৯৪ জন। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাতে শীর্ষ পাঁচের মধ্যেও নেই নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাতে প্রথম স্থানে রয়েছে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি। তাদের মোট শিক্ষার্থী ২২৪ জন, মোট শিক্ষক ২৮ জন।

পূর্ণকালীন শিক্ষকের হারে সেরা পাঁচের মধ্যে থাকতে পারেনি চূড়ান্ত র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা বেশ কয়েকটি ইউনিভার্সিটি।

বাংলা ট্রিবিউন-ঢাকা ট্রিবিউনের যৌথ উদ্যোগে ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ের প্রজেক্ট পরিচালিত হয়েছে একটি উপদেষ্টা কমিটির তত্ত্বাবধানে। কমিটির সদস্যরা হলেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ওআরজি কোয়েস্টের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনজুরুল হক, বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, প্রথম আলোর নিউজ এডিটর শরিফুজ্জামান পিন্টু, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিইও সাঈদ আহমেদ।

 


মন্তব্য