kalerkantho


খাল উদ্ধার হয় না, দখল চলছেই

ওয়াসা ও দুই সিটির টানাপড়েন, একটু বৃষ্টিতেই ডোবে ঢাকা

► সমন্বয়ের জন্য ক্ষমতাধর কর্তৃপক্ষ নেই
► আড়াই বছরে দুই সিটির ২৬০০ কোটি টাকার সাত প্রকল্প, সুফল মেলেনি

পার্থ সারথি দাস ও তোফাজ্জল হোসেন রুবেল    

২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ওয়াসা ও দুই সিটির টানাপড়েন, একটু বৃষ্টিতেই ডোবে ঢাকা

উত্তর বাড্ডা এলাকার সাঁতারকুল খাল ভরাট করে গড়ে উঠেছে ফ্যাক্টরি-বাড়ি। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

দায় নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের টানাপড়েন, একক ও সমন্বিত কর্তৃপক্ষ না থাকায় রাজধানীবাসী জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের ২৬টি খালই দখল ও ভরাট হয়ে আছে।

দুই বছরে শুধু একটি খাল উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশ্য তাও পরে ভেস্তে যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো শুধু খাল দখলের তালিকা করে দায় সেরেছে। ৯টি বড় বক্স কালভার্ট খুলে আগের অবস্থায় খালগুলো নেওয়াও সম্ভব হয়নি। ড্রেন ও নর্দমা নির্মাণ ও পুরনো নর্দমা পরিষ্কারের কার্যকর কর্মসূচিও তেমনভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে না।

গত ৩১ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করতে বক্স কালভার্টগুলো খুলে দিয়ে এগুলোর ওপর দিয়ে উড়াল সেতু করা যায় কি না তা ভেবে দেখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল উদ্ধারের নির্দেশও দিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও এসব কাজে সমন্বয় ও অগ্রগতি চোখে পড়ে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আড়াই বছরে দুই সিটি করপোরেশনে জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়ক ও সড়ক উন্নয়নে দুই হাজার ৬১২ কোটি টাকার সাতটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের সুফল দেখা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় বৃষ্টি হলেই মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও অলিগলিতে উপচে পড়ে পানি। দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার সড়ক দফায় দফায় ভেঙে পড়ছে। পিচের সড়কে তিন দিন পানি জমে থাকলেই তা ভেসে যায়।

২০০৪ সালের পর চলতি বছর রাজধানীতে দফায় দফায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেসব স্থানে হাঁটু পানি দেখা যেত, এবার কোমর পানিতে সেসব স্থান ডুবেছে। চলেছে নৌকা ও ভেলা।

জানা গেছে, খাল রক্ষণাবক্ষণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসা হাত গুটিয়ে বসে আছে পাঁচ বছর ধরে। এ অবস্থায় যতবার জলাবদ্ধতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, ততবারই শুধু আশ্বাস বাণী শুনতে হয়েছে রাজধানীবাসীর।

বিশিষ্ট নগর বিশেষজ্ঞ, নগর গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম গতকাল রবিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকার সার্বিক সমস্যা সমাধানে একটা সুপার অথরিটি থাকা দরকার। সুশাসন, পরিচালন ও সমন্বয়ের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষমতার কর্তৃপক্ষ হবে এটি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে একজন উপপ্রধানমন্ত্রীকে এ ধরনের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের এখানে এটা করা যাবে না আইনগত কারণে। তবে প্রবীণ কোনো মন্ত্রীকে প্রধান করে এ ধরনের কর্তৃপক্ষ করা যেতে পারে। অথবা দুই মেয়রকে দায়িত্ব ভাগ করে সমন্বয়ের কাজটা করানো যায়। জলাবদ্ধতা নিরসনে কী কী বিষয় প্রাধান্য পাবে তা এ কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে, সমন্বয় করবে। ’ 

ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকার খালগুলোয় অবৈধ দখলদারদের সর্বশেষ তালিকা আমাদের কাছে এসেছে। আমরা গত সপ্তাহে কালশী সড়কের পাশে কালশী খালে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেছি। আমরা এখন থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার একটি খালে অভিযান চালাব। এতে দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসাকেও যুক্ত করা হবে। ’

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ‘খাল উদ্ধার, পরিষ্কার ও ড্রেন পরিষ্কার করা পুরোপুরি ওয়াসার দায়িত্ব। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওয়াসার নীতিনির্ধারিত মহলকে এ ধরনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এখন তারা কতটুকু করছে, তা দেখবে সরকার। আমরা ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ওয়াসা ও ঢাকা জেলা প্রশাসনকে পত্র দিয়ে খাল উদ্ধারের জন্য অবহিত করেছি। ’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ড্রেনেজের দায়িত্ব ওয়াসার হাত থেকে দুই সিটি করপোরেশকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে গত ১ আগস্ট। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যাপারে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আখতারকে আহ্বায়ক করে দুই মাস আগে কমিটি করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি আইন যুগোপযোগী করতে এক মাস সময় দিয়ে কমিটি করা হলেও দুই মাস পার হলেও অগ্রগতি নেই।

ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীতে খাল আছে ৪৩টি। এসব খালের মালিকানা জেলা প্রশাসনের। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসা রক্ষণাবেক্ষণ করছে ২৬টির। তার একটি কালশী খাল। মিরপুরের পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের কাছে এক হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ কালশী নতুন সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে। সড়কটি নির্মাণের পর সংযোগ ঘটেছে জিল্লুর রহমান উড়াল সেতুর সঙ্গে। সেতুর ওপর দিয়ে রাজধানীর উত্তর অংশের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয়েছে পশ্চিম অংশের। এ সড়ক নির্মাণের আগে এটি সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ত। ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে পানি জমে থাকত। ফেঁসে যেত গাড়ির চাকা। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে নতুন সড়ক নির্মাণের পর সড়কটি গর্তহীন হয়ে ওঠে। কিন্তু কালশী সড়কের দুটি বড় অংশই বৃষ্টির পানিতে ডুবে যান চলাচল বন্ধ থাকে। কারণ পাশের খাল উপচে পানি উঠে যায় সড়কে। বৃষ্টি হলেই হাঁটু বা কোমরপানির ওপর দিয়ে যেতে হবে বলে মিরপুর-১২ নম্বর সড়ক দিয়ে চালকরা গাড়ি চালায়। মিরপুরের পল্লবী থেকে কালশী হয়ে জিল্লুর রহমান উড়াল সেতু পার হয়ে বিমানবন্দর সড়ক ধরে উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি চলাচল করে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে কোমরপানি জমে যায়, যা ১২ ঘণ্টায়ও নিষ্কাশন হয় না।

গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কালশী খাল (সাংবাদিক কলোনি খাল) আছে। এটি স্থানে স্থানে দখল হয়ে আছে। আবর্জনায় ভরে আছে। আড়াই বছর আগে আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার পর ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে খাল উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তী সময় ওয়াসা খাল উদ্ধারে আগ্রহী হননি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ওয়াসার সহযোগিতা না পেয়ে উদ্ধারকাজ করতে পারেনি। তবে গত সপ্তাহে ঢাকা জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কিছু অবৈধ স্থাপনা ভেঙেছে।

ডিএনসিসির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের পর পর এলাকার মানুষকে কথা দিয়েছিলাম খাল দূষণ ও দখলমুক্ত করে জলাবদ্ধতা দূর করব। আইনগত কারণে সিটি করপোরেশন কোনো প্রকল্প নিতে পারেনি। ওয়াসা বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের আওতায় ওয়াক ওয়ে নির্মাণ করেছিল।

কালশী খালের মদিনানগর ও পলাশনগরে স্থানীয় লোকজন মাটি ফেলে ভরাট করা ছাড়াও দেয়াল দিয়ে স্থায়ীভাবে দখল করে রেখেছে। প্যারিস খালটির মেহেদীবাগে দুই পাশে টিনের ছাপরা তুলে দখল করা হয়েছে। বাইশটেকি খালের মাঝামাঝি বড় আকারের পাকা ভবন রয়েছে।

বৃষ্টি হলেই রাজধানীর শান্তিনগর ও আশপাশ পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে যেত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-ডিএসসিসি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন ও নর্দমা নির্মাণে প্রকল্প নেয়। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে বর্ষণ শুরু হলে সেখানেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, মতিঝিল, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, রাজারবাগের পানি নিষ্কাশন হয় বাসাবো খালের মাধ্যমে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খিলগাঁ জোড়পুকুর মাঠের পাশ থেকে নন্দীপাড়া পর্যন্ত খালটি। খালের ওপরে উঠেছে ঘরবাড়ি, ভরে গেছে পলিথিনসহ ময়লা-আবর্জনায়। এ খাল উদ্ধারে ওয়াসা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি দখলদার পাওয়া গেছে নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী খালে। এটি ধলপুর খাল থেকে হয়ে মাণ্ডা, রাজারবাগ, নন্দীপাড়া মৌজার ভেতর দিয়ে নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী সড়কের পাশ দিয়ে উত্তরে প্রবাহিত হয়েছে। এটি নাসিরাবাদ-নন্দীপাড়া খালের সঙ্গে ত্রিমোহনীতে মিলেছে। খালের ওপর দখল নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন দোকান, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়। সব মিলিয়ে এ খালে ১৮০ জন দখলদার রয়েছে।    

রামচন্দ্রপুর খাল রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুরে। খালের অংশে অবৈধভাবে দেখা গেছে বিভিন্ন হাউজিং প্রতিষ্ঠান। ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, খালের ৩.২৪ একর জায়গা দখল করে একটি কবরস্থান করা হয়েছে। কাঁটাসুর খালের বেশির ভাগও দখল হয়ে গেছে। কামরাঙ্গীরচর খালও টিনের ছাপরা তৈরি করে অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে বিভিন্নজন।

মিরপুর-১৪ নম্বরে ইব্রাহীমপুর খালও দখলে-দূষণে মুমূর্ষু। দুই পারেই অবৈধ স্থাপনা আছে। ধোলাইখাল বর্তমানে ধোলাইখাল রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বাসাবো খালে জলাশয় ভরাট করে প্রথমে টিঅ্যান্ডটির এক্সচেঞ্জ অফিস স্থাপন করে। পূর্ব দোলাইরপাড়ে কুতুবখালী খালের একাংশ ভরাট করে দনিয়া রোড চওড়া করছে ডিএসসিসি। কুতুবখালী খালে দোলাইরপাড়ের দনিয়া রোডে ওয়াসার পানির পাম্প পর্যন্ত কুতুবখালী খালের ১২ থেকে ১৫ ফুট বাঁশ ও টিন দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও খাল ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া আবাসিক এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে প্লট আকারে বরাদ্দ দিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান। কিছু জায়গায় খাল ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। বাসাবো, নন্দীপাড়া, খিলগাঁও, রামচন্দ্রপুর, কাঁটাসুর, সেগুনবাগিচা, ধোলাইখাল, বেগুনবাড়ী, রূপনগর, বাউনিয়াসহ মোট ১০টি খাল সরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলে অস্তিত্ব হারাচ্ছে।

বক্স কালভার্ট : সর্বশেষ গত ১ আগস্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় ঠিক করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, খালের ওপর সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। বক্স কালভার্টের খালের ওপর পান্থপথ, সেগুনবাগিচা, ধোলাইখাল, রামচন্দ্রপুরে এসব রাস্তা হয়েছে। ’

বাস্তবায়ন হয় না আইন : বৃষ্টির পানি সরাতে ‘পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন-১৯৯৬’ নামের নির্দিষ্ট আইন আছে। তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পানি নিষ্কাশনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার।

জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে ড্রেনেজের দায়িত্ব পায় ঢাকা ওয়াসা। তাদের এ ক্ষেত্রে কাজ করার জনবলও তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ সার্কেলের (ওঅ্যান্ডএম) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, এ সার্কেলে মোট জনবল ১৩২ জন। পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা ওয়াসার বেশ কিছু উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেশিন ও সরঞ্জাম রয়েছে।

সাত প্রকল্প : রাজধানীতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং সেই সঙ্গে সড়ক সংস্কার-উন্নয়নের জন্য সাতটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৬১২ কোটি টাকা। আড়াই বছরের মধ্যে এসব প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। ডিএনসিসিতে এক হাজার ৫০৬ কোটি টাকার তিনটি ও ডিএসসিসিতে এক হাজার ১০৬ কোটি টাকার চার প্রকল্প রয়েছে। ২০১৫ সালের ৫ মে গুলশান-বনানী ও বারিধারার অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব এলাকার জলাবদ্ধতা ও বনানী লেকের দূষণ কমানো এবং যানজট হ্রাস করা ছিল প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছিল ১৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্পের নামে এক হাজার ২৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়। তবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি। শান্তিনগরের জলাবদ্ধতার জন্য ডিএসসিসি ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করলেও সেখানে শতভাগ সফলতা পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ঢাকা শহরের খালগুলো পুনরুদ্ধার এবং রক্ষণাবেক্ষণ, পয়োনিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এক হাজার ১০০ কোটি টাকার সমন্বিত প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ওয়াসা। বিশ্বব্যাংকের এই টাকার বেশির ভাগই ব্যয় করা হয়েছে খালের পেছনে। এ বিপুল অর্থ ব্যয়ে খালের কী ধরনের কাজ হয়েছে তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।


মন্তব্য