kalerkantho


আজ আরো কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



আজ আরো কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ

ভারতের বিপক্ষে আজ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচেই বাংলাদেশ যেন কোণঠাসা। পাকিস্তানের কাছে ৭-০ গোলের হারটা কোচ মাহবুব হারুন পর্যন্ত বলছেন বিপর্যয়।

বাংলাদেশ হকির মানটা যে কোথায় নেমে গেছে—প্রতিবছর এশিয়ান গেমস, এশিয়া কাপ খেলতে বাছাই খেলতে হয়। ভারত-পাকিস্তানই শুধু  নয়, এশিয়ার দ্বিতীয় সারির দল সিঙ্গাপুর, হংকং, শ্রীলঙ্কা, ওমানও হয়ে গেছে বাংলাদেশের বড় প্রতিপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ঘরের মাঠেও গো-হারা হেরেছে পাকিস্তানের কাছে। আজকের প্রতিপক্ষ ভারত এ আসরের হট ফেভারিট, তাতে রাসেল মাহমুদ জিমিদের পরীক্ষা আরো কঠিনই হওয়ার কথা।

দ্বিতীয় সারির টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড হকি লিগের রাউন্ড ওয়ান কিংবা এএইচএফ কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমস আর এশিয়া কাপের বাছাইয়েও সব সময় সেরা দল। কিন্তু মূল লড়াইয়ে গিয়ে পায়ে যেন শেকল বাঁধা, বড় ব্যবধানের হার নিয়মিত ব্যাপার। উন্নতির কোনো ছাপ

 নেই—এই চলছে বছরের পর বছর। ১৯৮৫-এর স্মৃতিটা বড্ড বেশি তাড়িত করছে বলেই এবার কল্পনার ফানুস ওড়ানো।

সেবার যেমন প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স—এবার নয় কেন? তবে এটাও তো ঠিক, রূপকথার গল্প বারবার লেখা হয় না, বলেকয়েও হয় না। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ১৯৮৫-এর অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন চাকলাদার নিজের দুশ্চিন্তার কথা বলছিলেন, ‘প্রথম ম্যাচটাই পাকিস্তানের বিপক্ষে পড়ে গেল। এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। ১৯৮৫ সালে আমরা ইরানকে হারিয়ে শুরু করেছিলাম। এরপর চীন, জাপানের সঙ্গে ড্র করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম। এবার শুরুতেই পাকিস্তান, বড় ব্যবধানে হার-টার হয়ে গেলে পুরো টুর্নামেন্টেই হয়তো সেটা প্রভাব পড়ে যাবে। ’ সে কারণে চাকলাদার মনে করছিলেন বাংলাদেশ যেন শুরুর এই ম্যাচে আলট্রা ডিফেন্সিভ হকি খেলে, যেকোনো উপায়ে গোলটা যেন কমিয়ে রাখে। তাহলে অন্তত পরের ম্যাচগুলোর আগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে হবে না। কাল দলের ম্যানেজারসহ কোচিং স্টাফকে সেই চ্যালেঞ্জটাই নিতে হয়েছে, খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙা রাখা। তবে আজ ভারত প্রতিপক্ষ, বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান যা, ভারতও তা। সেই হিসেবে আজ বরং নতুন শুরু ভেবে রাসেল মাহমুদরা আবার মাঠে নেমে পড়তে পারেন। তাঁরা যে ভুলগুলোর কথা বলেছেন, সেগুলো শোধরানোর শিক্ষা তো থাকলোই। পাকিস্তান ম্যাচটা না হয় অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই গেল। সেই ম্যাচে যা হয়ে গেছে তা ঘুচিয়ে নেওয়ার জন্য আজ ভারত-ম্যাচের চেয়ে বড় উপলক্ষ আর হয় না।

মাহবুব হারুন কাল অনুশীলনে এসে ঘোষণার মতোই বলে গেলেন, ‘আগামীকালও যদি একই রকম ভুল করে ওরা, তাহলে আরেকটা বিপর্যয় হবে। ’ গ্যালারিতে বসে ম্যাচটা দেখে সাবেক খেলোয়াড় হোসেন ইমাম চৌধুরি শান্তার মূল্যায়ন, ‘পাকিস্তানের হাইপ্রেসিংয়ের মুখে শেষ পর্যন্ত চাপটা আর নিতে পারেনি বাংলাদেশ। মিস পাস হলে খেলোয়াড়রা আরো ঘাবড়ে যাচ্ছিল, ফলে আরো ভুল হচ্ছিল। আমাদের মনে রাখতে হবে, মাঠে ভুল হবেই, কিন্তু এই মানসিক দৃঢ়তাটা থাকতে হবে যেন পরের মুহূর্তেই সেটা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি। ’ তাহলে হয়তো উল্টো প্রতিপক্ষের ওপরই চাপটা চলে যাবে। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিরোধের মুখে তেমনটা হয়েছিলও এবং একটা পর্যায়ে বাংলাদেশও গোলের সুযোগ পেয়ে যায়। পরশু পাকিস্তান ম্যাচেও সেই সুযোগ এসেছিল, তা কাজে লাগাতে পারলে গল্পটা হয়তো অন্য রকমই হতো। আজকের ভারত ম্যাচ সামনে খেলোয়াড়রাও কাল দুই দফা সেই ম্যাচের ভিডিও অ্যানালাইসিস করেছেন। ভারত ম্যাচের প্রস্তুতিই হলো পাকিস্তান ম্যাচের শিক্ষাটা নিতে পারা। তবে কাল দুর্ভাগ্য মাঠে গিয়ে রাসেলরা হাতে-কলমে কাজগুলো করতে পারেননি। সকালে স্টেডিয়ামে গিয়ে টার্ফে পানি নেই দেখে হালকা স্ট্রেচিং করেই তারা ফিরে এসেছেন। পাকিস্তান ম্যাচের শেষ দুই কোয়ার্টারে যে জড়তাটা পেয়ে বসেছিল, তা ঝেড়ে ফেলতে হলেও হয়তো বল, স্টিক নাড়াচাড়া করাটা জরুরি ছিল রাসেলদের জন্য। সেটি তারা করতে পারেননি। আজও তাই অনেক সীমাবদ্ধতা জয় করেই তাঁদের পারফর্ম করার চ্যালেঞ্জ। হারুন, মামুন, সাদেক, কামালদের দারুণ একটা প্রজন্ম চুরানব্বইয়ের এশিয়ান গেমসে ভারতের ধনরাজ পিল্লাই, মুকেশ কুমারদের আরেক দারুণ প্রজন্মের সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত হেরেছিল ১-০ গোলে। কামাল বর্তমান দলটার সঙ্গেই আছেন ম্যানেজার হিসেবে, হারুন কোচ—রাসেলদের অনুপ্রেরণা তাই হাতের নাগালেই। পাকিস্তান ম্যাচের বিপর্যয় ভুলে শিক্ষাটা কি আজ কাজে লাগাতে পারবেন তাঁরা?


মন্তব্য