kalerkantho


খালেদাকে চায় বিএনপি আওয়ামী লীগে ‘লড়াই’

সীমান্ত সাথী, দিনাজপুর থেকে ফিরে   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



খালেদাকে চায় বিএনপি আওয়ামী লীগে ‘লড়াই’

দিনাজপুরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে আগামী সংসদ নির্বাচন বেশি দূরে নেই। সভা-সমাবেশসহ দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও।

জাতীয় পার্টির কর্মকাণ্ডও রয়েছে। গোপনে তৎপর জামায়াত।

দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনটি জাতীয় সংসদের ৮ নম্বর আসন। এখানে বর্তমানে সংসদ সদস্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ইকবালুর রহিম। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা আশফাক ও আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান মাইকেলও রয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায়।

এ আসনেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মভিটা। সে কারণে বিএনপির অবস্থানও শক্তিশালী। খালেদা জিয়া কিংবা তাঁর পরিবারের কেউ নির্বাচন করলে ভোটের ফল দলটির পক্ষে চলে আসা অসম্ভব নয় বলে মনে করছে নেতাকর্মীরা।

বিএনপিতেও প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে, যাঁরা দলের পক্ষে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ তালিকায় আছেন খালেদা জিয়ার বোন প্রয়াত খুরশীদ জাহান হকের ছেলে শাহরিয়ার আখতার জাহান হক ডন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, দলের দিনাজপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি লুত্ফর রহমান মিন্টু ও দিনাজপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জামায়াতের কারো নাম আলোচনায় নেই।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শফি রুবেল মনোনয়ন পাওয়ার আশায় রয়েছেন।

জানা যায়, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ইকবালুর রহিমের বাবা প্রয়াত আইনজীবী আবদুর রহিম বিএনপির প্রার্থী খুরশীদ জাহান হকের কাছে পরাজিত হন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নেতা শফিউল আলম প্রধানকে হারিয়ে দিনাজপুর সদর আসনে নৌকার মাঝি হিসেবে দায়িত্ব নেন ইকবালুর রহিম। এই অর্জন তিনি ধরে রাখেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও। আগামী নির্বাচনেও জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ আছেন তিনি।

দিনাজপুর শহরের বড় বন্দর, বালুবাড়ী, রাজবাড়ী এলাকা ঘুরে স্থানীয় রাজনীতিক  ও সচেতন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শক্ত অবস্থানে আছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। তিনি দলীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্নেহভাজনদের একজন বলে এলাকায় প্রচার আছে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে আসন্ন নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দেওয়ার আগে থেকেই ইকবালুর রহিম ও তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীরা জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিনাজপুর শহর জুড়ে সড়কের পাশে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে আছে ইকবালুর রহিমের বিলবোর্ড ও পোস্টার।

ইকবালুর রহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২৭ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সম্প্রতি তিনি সমাজের অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য মানবপল্লী ও বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলে ‘ওয়ার্ল্ড লিডারশিপ ফেডারেশন’ (ডাব্লিউএলএফ) পুরস্কারে ভূষিত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নানা কাজে ইকবালুর রহিমের সুনাম যেমন রয়েছে, দুর্নাম কম নয়। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজকে তাঁর বাবার নামে নামকরণ করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশও তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, ইকবালুর রহিমের সময় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে দলের মধ্যে চার থেকে পাঁচটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। কেউ পেয়ে, কেউ না পেয়ে বিভাজনের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। দিনাজপুরে রয়েছেন আওয়ামী লীগের চার প্রভাবশালী নেতা। তাঁরা হলেন দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। তাঁদের সবার আলাদা প্রভাব আছে জেলা সদরে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরীর নামও আছে প্রভাবশালীদের তালিকায়। তাঁদের কেউ মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের পছন্দের লোক। আবার কেউ কেউ হুইপ ইকবালুর রহিমের পছন্দের। কেউ আবার সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে আছেন। একে অপরের সঙ্গে থাকা না থাকা নিয়ে সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বিভাজনের রাজনীতি। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনী আসন আলাদা হলেও ওই চার নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যার প্রভাব রয়েছে গোটা দিনাজপুর জেলা জুড়ে। বিগত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে একজনের পছন্দের প্রার্থী দাঁড়ালে সেখানে আরেকজনের বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল। জেলা সদরের সংসদীয় আসনে টানা দুইবার নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করলেও ২০১৫ সালে পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পরাজিত হন। নেতাকর্মীদের ধারণা, নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণেই তিনি পরাজিত হয়েছেন। সদরসহ জেলার বেশ কিছু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইকবালুর রহিমের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, এসব দ্বন্দ্বের কারণে সদর আসনে মনোনয়ন পেতে ইকবালুর রহিমকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে আগে নাম আসে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা আশফাকের। বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ লালন করে তরুণ এ নেতা জেলায় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় তিনি মাঠে কাজ করছেন। ভোটারদের মন জয় করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি কালের কণ্ঠ’র কাছে দাবি করেন, তৃণমূলের সঙ্গে সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর জনপ্রিয়তা শূন্যের ঘরে। দলকে টুকরো টুকরো করেছেন তিনি। বিপুল পরিমাণ অর্থ কামিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে দিনাজপুরে আওয়ামী লীগের দুর্গ ভেঙে চুরমার করেছেন তিনি।

আশফাক আরো বলেন, ‘এবার ইকবালুর রহিমকে মনোনয়ন দেওয়া হলে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হবেন। এটা নিশ্চিত। মানুষ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় আছে, এমপি সাহেব বুঝতে পারবেন কত ধানে কত চাল হয়। তিনি দলকে সুসংগঠিত না করে নিজের আখের গোছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করাসহ একটি মানববন্ধনের অনুষ্ঠানে যাওয়ায় পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে তাঁর লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনী। দীর্ঘদিন আমি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রার্থী পরিবর্তন না হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটবে দিনাজপুর সদরে। যার ফল পাবেন বিএনপির প্রার্থী। ’

তবে শহরের ফুলবাড়ী বাসস্টান্ডে দাঁড়িয়ে কথা হয় শফিকুল ইসলাম ও মিলন ব্যানার্জি নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে। একজন বয়সে তরুণ, অন্যজন ষাটোর্ধ্ব। তাঁরা বলেন, যে যত কথাই বলুক। এখন পর্যন্ত সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমের চেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী তৈরি হয়নি। তবে তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড দিনাজপুরবাসীকে বিব্রত করেছে।

এদিকে এ আসনের সংসদ সদস্য খুরশীদ জাহান হক ২০০৬ সালে মারা যান। ২০০৮ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট থেকে নির্বাচন করেন জাগপার শফিউল আলম প্রধান। কিন্তু ওই সময় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজিসহ নানা অপকর্মের কারণে বিএনপির রাজনীতি মুখ থুবড়ে পড়ে। সে কারণে শফিউল পরাজিত হন ইকবালুর রহিমের কাছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যতটা না আওয়ামী মাঠে আছে, সে তুলনায় বিএনপি মাঠে নেই। তবে আগামী নির্বাচন ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে দলের একটি পক্ষ খুরশীদ জাহান হকের ছেলে শাহরিয়ার আখতার জাহান হক ডনকে সামনে আনতে চায়। সে হিসেবে ইতিমধ্যে ডন দলীয় বলয় তৈরি করে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কাজ করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী, ঢাকা অথবা দিনাজপুর সদর আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এ আসনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে মাহবুবুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি লুত্ফর রহমান মিন্টু। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। দিনাজপুরের বর্তমান মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমও আছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায়।

মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে হলে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন মিটিয়ে খালেদা জিয়াকে প্রার্থী হতে হবে। এখানে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার বিকল্প আর কেউ নেই। তা না হলে ফল হবে উল্টো। ’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমাদের দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। গুম, খুন ও অপহরণের ভয় দেখিয়ে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। ’

জাহাঙ্গীর আরো বলেন, ‘দলের হাইকমান্ড এখনো নির্বাচনের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে বড় দল হিসেবে বিএনপি সব সময় নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত। ’

শাহরিয়ার আখতার জাহান ডন বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী যেই হোক না কেন ধানের শীষে ভোট দেবে মানুষ। কারণ আওয়ামী লীগের অত্যাচারে আমরা অনেকটাই কোণঠাসা। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। ঘর থেকে বের হলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। দলকে ঐক্যবদ্ধ করে সদর আসনসহ দিনাজপুরের আসনগুলো ধানের শীষকে উপহার দেওয়াই এখন আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে মাঠ গোছাতে সময় লাগবে না। দিনাজপুর-৩ আসনে ধানের শীষকে জেতাতে খালেদা জিয়াকেই প্রার্থী হিসেবে পছন্দের কথা জানান তিনিও।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শফি রুবেল মনোনয়ন পাওয়ার আশায় রয়েছেন। দল আলাদাভাবে নির্বাচন করলে তিনি এ আসনে প্রার্থী হবেন। ইতিমধ্যে তিনি দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

রুবেল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগত নির্বাচন হলে ভিন্ন কথা। দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। ’


মন্তব্য