kalerkantho


ক্ষমতা খাটাতে সু চির ওপর চাপ বাড়ছেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ক্ষমতা খাটাতে সু চির ওপর চাপ বাড়ছেই

নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে অং সান সু চিকে আহ্বান জানিয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর নাতি ইলা গান্ধী। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চিকে এক চিঠির মাধ্যমে এই আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের মধ্য দিয়ে নোবেল পুরস্কারের মৃত্যু উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। তিনি মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিক ও মানবাধিকারকর্মী ইলা গান্ধী চিঠিতে লেখেন, ‘সু চিকে অনেকেই তাঁদের হৃদয়ে জায়গা দিয়েছেন। আমি সু চিকে আহ্বান জানাচ্ছি, তিনি যেন মানুষের এই শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট না করেন। রাখাইনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করে শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করুন। নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন। আমরা বিশ্বাস করি, নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে ধর্মীয় কিংবা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তকমা তুলে নেওয়া জরুরি। এর বদলে তাদের দুঃখ-দুর্দশার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। ’

দীর্ঘ ১০ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইলা গান্ধী আরো লেখেন, ‘আমরা জানি যে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হিসেবে আপনার ওপর চাপ আছে।

কিন্তু চুপ করে থাকাটা তখন ঠিক নয়, যখন আগে থেকেই দরিদ্র ও নিপীড়িত একটি জাতিগোষ্ঠীকে মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, তাদের ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে। ’

২০০৯ সালে ‘মহাত্মা গান্ধী অ্যাওয়ার্ড ফর রিকনসিলিয়েশন অ্যান্ড পিস’ পাওয়া সু চির উদ্দেশে ইলা গান্ধী চিঠিতে লেখেন, ‘রাখাইনে যেন আর মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয় কিংবা রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা না হয়, তা নিশ্চিত করতে আপনাকে (সু চি) নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানাচ্ছি। এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে জনগণ রুখে দাঁড়াবে। ’

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সু চির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। রাজধানী তেহরানে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘একটি সরকার, যার শীর্ষস্থানে আছেন এক নিষ্ঠুর নারী, যাঁকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়েছে, নিরীহ মানুষজনকে হত্যা করছে, তাদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ’

খামেনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অনেকেই নিন্দা জানাচ্ছে, বিবৃতি দিচ্ছে। কিন্তু এতে কী লাভ হয়েছে? এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। ’ খামেনি বলেন, ‘মিয়ানমারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নোবেল পুরস্কারের মৃত্যু উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। ’

ইরানের সর্বোচ্চ এই ধর্মীয় নেতা আরো বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানে মুসলিম দেশগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা বলছি না, এ জন্য সেনা পাঠাতে হবে। কিন্তু মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। ’ কেবল রোহিঙ্গা ইস্যুতে সভা ডাকার জন্য ওআইসির (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) প্রতি আহ্বান জানান খামেনি।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে এর আগে সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী চার ব্যক্তি—দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী ধর্মীয় যাজক ডেসমন্ড টুটু, তিব্বতের নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা দালাই লামা, পাকিস্তানের কিশোরী মালালা ইউসুফজাই ও ইরানের মানবাধিকারকর্মী শিরিন এবাদি। সূত্র : ডেইলি মেইল, টাইমস লাইভ।


মন্তব্য