kalerkantho


১৫ জনের ফাঁসি বহাল যাবজ্জীবন ১১

এম বদি-উজ-জামান ও আশরাফ-উল-আলম   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



১৫ জনের ফাঁসি বহাল যাবজ্জীবন ১১

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (বরখাস্ত) মাসুদ রানাসহ ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের রায়ে যে ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্য ৯ আসামিকে নিম্ন আদালতের দেওয়া বিভিন্ন মেয়াদের সাজায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। আসামিদের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

নিম্ন আদালতে রায় হওয়ার মাত্র সাত মাসের মাথায় হাইকোর্টে আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি হলো। এত বড় মামলার আপিল এত দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার নজির দেশে নেই। আপিলের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে যাদের তাদের মধ্যে নূর হোসেন ছাড়া বাকি সবাই র‌্যাবের সাবেক সদস্য। যেসব আসামি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেননি তবে কোনো না কোনোভাবে সহযোগিতা করেছেন তাঁদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ আছে।

গত ১৬ জানুয়ারি ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন।

তিন বছর আগে নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশনের তখনকার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যায় ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

ওই হত্যাকাণ্ডে এলিট বাহিনী র‌্যাবের কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে এলে বিষয়টি তখন আলোচিত হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও।

এক দফা পেছানোর পর গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাইকোর্টে রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ। প্রথমে সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে ঢুকতে বাধা দেওয়া হলেও পরে কয়েকজনকে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হয় অ্যাটর্নি জেনারেলের হস্তক্ষেপে।

দুপুরে ঘণ্টাখানেক বিরতি দিয়ে বিকেল ৪টার দিকে রায়ের চূড়ান্ত অংশ ঘোষণা করা হয়।

১১ আসামির দণ্ড কমানো হলেও রায়ে সন্তুষ্ট নিহত নজরুলের স্ত্রী এবং মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি। রায় ঘোষণার তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আসামিরা যে ধরনের অপকর্ম করেছে এর উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও এ রায় বহাল থাকবে এবং সেখানে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এই রায়কে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এই রায়ে স্বস্তি পাচ্ছি। ’ ১১ জনের সাজা কমানোর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুরো রায় পড়ার পর তিনি সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

ফাঁসি বহাল যাঁদের : হাইকোর্ট যাঁদের ফাঁসি বহাল রেখেছেন তাঁরা হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কম্পানি কমান্ডার মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (বরখাস্ত) মাসুদ রানা (এম এম রানা) এবং র‌্যাব-১১-এর সাবেক সদস্য চাকরিচ্যুত হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া ও বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়াব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আ. আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, আল আমিন শরীফ ও তাজুল ইসলাম।

মৃত্যুদণ্ড কমে যাবজ্জীবন হলো যাঁদের : মর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী, আবুল বাশার, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহজাহান ও জামালউদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা নূর হোসেনের সহযোগী। বিচারিক আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। এ ছাড়া র‌্যাবের সাবেক সদস্য চাকরিচ্যুত সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর ও চাকরিচ্যুত সার্জেন্ট এনামুল কবিরের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড বহাল যাঁদের : চাকরিচ্যুত করপোরাল রুহুল আমিন, চাকরিচ্যুত এএসআই আবুল কালাম আজাদ, চাকরিচ্যুত সৈনিক নুরুজ্জামান, চাকরিচ্যুত কনস্টেবল বাবুল হাছান, কামাল হোসেন, হাবিবুর রহমান ও মোখলেসুর রহমানকে ১০ বছর করে এবং চাকরিচ্যুত এএসআই বজলুর রহমান ও চাকরিচ্যুত হাবিলদার নাসির উদ্দিনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। এই ৯ জনের সাজা হাইকোর্ট বহাল রেখেছেন।

পলাতক যাঁরা : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর হোসেনের সহযোগী সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহজাহান, জামালউদ্দিন এবং র‌্যাবের সাবেক সদস্য আবদুল আলীম, মহিউদ্দিন মুন্সী, আল আমিন শরীফ, তাজুল ইসলাম, এনামুল কবীর পলাতক রয়েছেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে পলাতক আছেন হাবিবুর রহমান, কামাল হোসেন ও মোখলেসুর রহমান।

যে কারণে ১১ জনের সাজা কমল : হত্যাকাণ্ডে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং যারা মূল পরিকল্পনাকারী তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিশেষ করে মেজর (বরখাস্ত) আরিফের নেতৃত্বে সাতজনকে অপহরণ ও খুন করে লাশ নদীতে ফেলতে যারা অংশ নেয় তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নূর হোসেন এবং র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও লে. কমান্ডার (বরখাস্ত) মাসুদ রানা পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে র‌্যাব সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

অন্যদিকে যাঁরা হত্যাকাণ্ডে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, কিন্তু সরাসরি অংশ নেননি তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ পালন করে কেউ লাশ গুম করার সরঞ্জাম জোগাড় করেন, কেউ ঘটনার সময় পাহারা দেন। তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর সম্পর্কে রায়ে বলা হয়েছে, তিনি র‌্যাব কর্মকর্তার নির্দেশে ইনজেকশন কেনেন। ওই ইনজেকশন পুশ করে সাতজনকে হত্যা করা হয়। আসাদুজ্জামান শুধু ইনজেকশন কিনে দেন। তিনি অপরাধে সহযোগিতা করেছেন। তাই তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

নূর হোসেনের সহযোগীদের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, তাঁরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি। তবে তাঁরা ঘটনার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন এবং নির্বিঘ্নে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। এ কারণে তাঁরাও অপরাধী। তবে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ না নেওয়ায় তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

আসামিদের মধ্যে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ও নূর হোসেনসহ পাঁচজন কাশিমপুর কারাগারে এবং ১৮ জন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হোতারা রেহাই পাননি : রায়ে স্বস্তি অনুভব করার কথা জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দেওয়ায় ও মারাত্মক অপরাধ করায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের যথাযথ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। র‌্যাব মানুষের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু কতিপয় র‌্যাব কর্মকর্তা ও সদস্য অপরাধ করেছেন। এ ধরনের অপরাধ করে কেউ পার পেতে পারে না। সেই দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে এই রায়ের মাধ্যমে। ঘটনার মূল হোতা নূর হোসেন, র‌্যাবের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রেহাই পাননি। তাঁদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। নিশ্চয়ই এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক রায়। ’ ঘটনায় সরাসরি জড়িত কারো সাজা যদি কম দেওয়া হয়ে থাকে তবে রায় পড়ে আপিল করা যায় কি না তা চিন্তা করা হবে বলে তিনি জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যেকোনো লোক অপরাধ করতে পারে। কোনো বাহিনীর লোক বা উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তাই অপরাধী হতে পারেন। কিন্তু সে জন্য পুরো বাহিনীকে দায়ী করা যায় না। আদালতও এমন কথা বলেছেন রায়ে।

রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি : নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এ রায়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। যদি সবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হতো তাহলে আমরা খুশি হতাম। ’ তিনি দাবি করেন, কয়েকজন আসামি যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের বাদ দিয়েই বিচার করা হয়েছে। তাঁদের চার্জশিটভুক্তই করা হয়নি। এর পরও যাঁদের দণ্ড বহাল রয়েছে তা যেন দ্রুত কার্যকর হয়।

রায় ঘোষণার পর আদালতে কেঁদে ফেলেন নিহত তাজুল ইসলামের বাবা। তিনি বলেন, ‘আর যেন কোনো পিতাকে এভাবে সন্তান হারাতে না হয়। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এই রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়—এটাই আমাদের চাওয়া। ’

আপিল করবে আসামিপক্ষ : তারেক সাঈদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান ফরিদ বলেন, এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। সাত খুনে সরাসরি জড়িত আর পরিকল্পনা—কোনোটায়ই তারেক সাঈদ জড়িত ছিলেন না। তাঁকে অন্যভাবে জড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ কারণে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

প্রধান আসামি নূর হোসেনের আইনজীবী এস আর এম লুত্ফর রহমান আখন্দ বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। আইনের বিধান মানা হয়নি এই মামলার বিচারে। আমরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করব। ’

অন্য আসামিদের স্বজনরাও রায় শোনার জন্য আদালতে এসেছিল। তারা সবাই জানায়, রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবে।

হত্যাকাণ্ড ও বিচার : চাঞ্চল্যকর ওই অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছিল। একটি মামলার বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। অন্য মামলার বাদী নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার পাল। দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে আলাদা চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে দুই মামলার অভিযোগপত্রেই আসামি অভিন্ন।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য ১৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ। মামলায় ১০৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তখনকার প্যানেল মেয়র ও দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। একই সময়ে একই স্থানে অপহরণ করা হয় আরেকটি গাড়িতে থাকা নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়ির চালককে। ঘটনার তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল বন্দর উপজেলার শান্তির চর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছয়জনের এবং ১ মে আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, ২৭ এপ্রিল রাতেই শরীরে নেশাযুক্ত ইনজেকশন পুশ করে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় অপহৃত সাতজনকে। পরে লাশ গুম করার জন্য পেট কেটে ইটভর্তি দুটি বস্তা শরীরে বেঁধে মেঘনার মোহনায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত সাতজন হলেন নজরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর এবং অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম।

সাত খুনের ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৪ জুন রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের অদূরে কৈখালী এলাকার একটি বাড়ি থেকে নূর হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ। পরে ওই বছরের ১৮ আগস্ট নূর হোসেন, ওহাদুজ্জামান শামীম ও খান সুমনের বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বারাসাত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর দমদম কারাগার কর্তৃপক্ষ নূর হোসেনকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে। ১৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতে উপস্থাপন করা হয় নূর হোসেনকে। গ্রেপ্তার করা ২৩ জনের উপস্থিতিতে ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জ গঠন করা হয়।

দুটি মামলার বিচার করা হয় একসঙ্গে।


মন্তব্য