kalerkantho


চাহিদা বাসের, নামে ব্যক্তিগত গাড়ি

পার্থ সারথি দাস   

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



চাহিদা বাসের, নামে ব্যক্তিগত গাড়ি

রীতিমতো যুদ্ধ করে উঠতে হয় গণপরিবহনে। এই পরিস্থিতি যেন পাল্টানোর নয়। গতকাল ফার্মগেট থেকে তোলা ছবি। ছবি : লুত্ফর রহমান

কিছুতেই শৃঙ্খলায় আসছে না রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থা। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এই পরিবহনব্যবস্থাকে গড়ে তোলার উদ্যোগ যদিও অনেকবার নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কিছুই সময়মতো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ফলে পরিকল্পনাও বারবার বদল করতে হচ্ছে। গাড়ি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারের উল্টো নীতি, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, রেল ও নৌপথকে প্রায় বাদ দিয়ে সড়কমুখী পরিকল্পনার কারণে গণপরিবহনব্যবস্থা রীতিমতো ভেঙে পড়ারই দশা হয়েছে। প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যার এই নগরীর বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হলেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অগোছালো পরিবহনব্যবস্থা মালিকদের ব্যবসার এবং রাজনীতিবিদদের রাজনীতির পুঁজি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণপরিবহন উন্নয়নের সরকারি মহাপরিকল্পনা আজও প্রতিশ্রুতি ও বাণীতেই সীমিত হয়ে আছে।

গতকাল সরেজমিন ঘুরে আমাদের প্রতিবেদকরা দেখেছেন রাজধানীজুড়েই গণপরিবহনের অভাব। জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা ট্যানারি মোড়, ফার্মগেট, মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার কোনো গণপরিবহন না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়েই বিপজ্জনক যান লেগুনা বা হিউম্যান হলারে উঠছে। ধানমণ্ডি-মতিঝিল পথে সিটিং বাসগুলো যত্রতত্র যাত্রী তুলছিল। নিত্যদিনের ভাড়া সন্ত্রাসও ছিল।

বিআরটিসি ২০১১ সালে সীমিত পরিসরে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আজিমপুর পর্যন্ত স্কুলবাস সেবা চালু করেছিল। আস্তে আস্তে বাস ১৪টি করা হয়। প্রথম দিকে বাচ্চাদের সঙ্গে যেতে পারতেন অভিভাবকরাও। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই উদ্যোগে ভাটা পড়ে। একে একে বন্ধ হতে থাকে বাসগুলো। বর্তমানে দুটি বাস চালু আছে বলে দাবি করছে বিআরটিসি। কিন্তু বাস্তবে বিআরটিসির স্কুলবাসের অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। নারীদের জন্য বিআরটিসির ১৫টি বাস আছে। কিন্তু এগুলো চলছে অনিয়মিতভাবে। নারী যাত্রীরা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, এ সেবা পর্যাপ্ত নয়।

৪০০ বছরের বেশি পুরনো নগর ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা গোছাতে ২০০৫ থেকে ২০২৪ সাল—এই ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) প্রণয়ন করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে এসটিপি অনুমোদন হয়। এরপর তিন বছর এসটিপির সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে বড় কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে ২০০৯ সাল থেকে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া শুরু হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন করার গতির চেয়েও দ্রুত মহানগরী ও আশপাশে জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। আসে প্রশাসনিক আয়তনেও পরিবর্তন। এসটিপির আওতাধীন এলাকা গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করা হয়, সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশন দুটির পরিধিও বাড়ানো হয়। এখন ঢাকার ভেতরে ও বাইরে নতুন উপশহর, আবাসিক ও শিল্প এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে গণপরিবহনের চাহিদা বেড়ে গেছে। তবে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

সমীক্ষায় বের হয়েছে, শুধু গণপরিবহন যেমন বাস, মিনিবাস, অটোরিকশা বাড়িয়ে জনঘনত্বের ঢাকায় পরিবহনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না। তার জন্য দ্রুত গণপরিবহনের কাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। তার মধ্যে প্রথম ধাপেই থাকতে হবে মেট্রো রেল ও বিআরটি। বাসভিত্তিক দ্রুত গণপরিবহনব্যবস্থাকে বলা হয়ে থাকে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। এ ব্যবস্থায় বাস চলাচলের আলাদা লেন থাকে। থাকে দ্রুত চলাচলের জোড়া বাস। প্রশস্ত লেনে এ পদ্ধতিতে বিশেষ ধরনের বাস চলাচল করে। কলম্বিয়ার বোগোটা, পেরুর লিমা, ভারতের আহমেদাবাদ, চিলির সান্তিয়াগোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন নগরীতে বিআরটি সফল গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এসটিপি ২০২৪ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বোঝার পর তা ২০১৪ সাল থেকে সংশোধন করা শুরু হয়। ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয় রিভাইজড এসটিপি, তথা আরএসটিপি। সংশোধিত ওই পরিকল্পনা প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০১৫ সালে ঢাকা ও আশপাশে এক কোটি ৭০ লাখ মানুষের বসবাস ছিল। ঢাকায় দৈনিক ট্রিপের পরিমাণ ছিল গড়ে প্রায় তিন কোটি। তার মধ্যে বাস ও মিনিবাসে  হয় ৪৭ শতাংশ, রিকশায় ৩২ শতাংশ, ব্যক্তিগত গাড়িতে ৯ শতাংশ, সিএনজি অটোরিকশায় ৯ শতাংশ ও মোটরসাইকেলে ৩ শতাংশ।

বেশি ট্রিপ বাসের, সংখ্যায় মাত্র ৪% : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) গত মে মাসের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ঢাকায় ২০ শ্রেণির নিবন্ধিত গাড়ি রয়েছে, সংখ্যা ১১ লাখ ১৪ হাজার ১৯১। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রিপ হয় বাস ও মিনিবাস—কাগজপত্রে আছে ৩৯ হাজার ৬১৪টি, যা মোট গাড়ির ৩.৫ শতাংশ। তবে ঢাকায় পরিবহন মালিক সমিতিগুলোর হিসাবে রাস্তায় চলছে মাত্র ছয় হাজার বাস ও মিনিবাস। এ হিসাবে বাস ও মিনিবাস আছে ১ শতাংশেরও কম। এ কারণেই বাসের জন্য স্থানে স্থানে অপেক্ষায় থাকতে হয়। একমাত্র সরকারি পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। কিন্তু তাদের ৩০ শতাংশ বাসই নষ্ট। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস থাকলেও সেগুলোর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নষ্ট থাকছে।

আরএসটিপির প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে রাজধানীতে গাড়ির দৈনিক ট্রিপ হবে চার কোটি ২৭ লাখ। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ ট্রিপই দেবে বাস। ২০৩৫ সালে বাসের ট্রিপ বেড়ে হবে পাঁচ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে মেট্রো রেল ও বিআরটি চালু হলে বাসের ট্রিপ হার কমে যাবে। কিন্তু ট্রিপের চাহিদা বাড়তেই থাকবে।

রাজধানীতে সড়ক যেটুকুই আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে না। বাস রুট পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনাটি ১০ বছর ধরে ঘুরছে। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক গত বছর থেকে বিভিন্ন সভায় একেক রুটে একেক রঙের বাস চালানো হবে বলে নগরবাসীকে জানিয়ে আসছেন। অবশ্য মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগে ‘ঢাকা চাকা’ নামে বেশ কয়েকটি বড় বাস চালু হয়েছে বনানী-গুলশান পথে। আরো চার হাজার বাস নামানোর প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন।

জানা গেছে, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এ জন্য সমীক্ষাও করেছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হানিফ বলেন, রাজধানীর ১২৬টি রুটের বাসের গন্তব্য মিরপুর। ১১২টি রুটের বাসের লক্ষ্য মতিঝিল। একই স্থানে অসংখ্য বাসের রুট শুরু বা শেষ হওয়ায় বিভিন্ন কম্পানির মধ্যে তৈরি হয়েছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ফলে বাসগুলোর সক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার হচ্ছে না।   

বিশেষজ্ঞরা ঢাকা বাস রুট নেটওয়ার্ক পুনর্বিন্যাস ও পুনর্বিন্যাসের পর নেটওয়ার্ককে পাঁচটি অংশে ভাগ করার সুপারিশ করেছেন। সুপারিশ রয়েছে বাস নেট কম্পানি গঠন, বাস অপারেটরদের দক্ষতা বাড়ানো, বাস ফ্লিট নবায়ন, বাসস্টপ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণেরও। কিন্তু বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ডিটিসিএর পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বাস পরিচালনায় শৃঙ্খলা আসবে।

অটোরিকশা ১ শতাংশ : ২০০২ সাল থেকে চালু করা হলেও ঢাকায় এখন চলতে চলতে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সর্বশেষ তথ্যানুসারে, এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ ঢাকায় বসবাস করে। অটোরিকশা ঢাকায় ১৩ হাজার চলছে। এ হিসাবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের শহরে প্রতি এক হাজার ৩০৮ জনের জন্য অটোরিকশা আছে একটি। সিএনজি অটোরিকশা সেবা নিয়ন্ত্রণে ২০০৭ সালে নীতিমালা জারি করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, সিএনজি ও পেট্রলচালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলারের সংখ্যা সময় সময় সরকার নির্ধারণ ও হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রতিটিতে ১৩ হাজার করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ গত মে মাসের পরিসংখ্যান অনুসারে ঢাকায় নিবন্ধিত অটোরিকশা আছে ৯ হাজার ৩৩টি। তবে বাস্তবে চলাচল করে প্রায় ১৩ হাজার। ঢাকায় নিবন্ধিত এক লক্ষাধিক গাড়ির সঙ্গে তুলনা করলে অটোরিকশা আছে মাত্র ১ শতাংশ।  

উল্টো বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ি : ২০০৪ সালে প্রণীত এসটিপিতে ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে বড় গাড়ি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে বড় গাড়ির বদলে ছোট ছোট গাড়ি নামা উৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ চলাচলের জন্য যথেষ্ট গণপরিবহন পাচ্ছে না। ফলে অনেকেই ঋণ করে কিস্তিতে শোধ করার শর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। বিআরটিএর সর্বশেষ তথ্যানুসারে, ঢাকায় বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার ৪৮৫টি, যা নিবন্ধিত মোট গাড়ির ২২ শতাংশ। ঢাকায় ধনী কোনো কোনো পরিবারে চার থেকে ছয়টি ব্যক্তিগত গাড়িও রয়েছে। বিপুলসংখ্যক যাত্রীর জন্য ৪ শতাংশেরও নিচে যানবাহন আর তাদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক কম মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির জন্য ২২ শতাংশ গাড়ি। তাই ব্যস্ত সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখে মূলত ব্যক্তিগত গাড়িগুলো। অর্থাৎ অল্পসংখ্যক মানুষ রাস্তায় বেশি গাড়ি নামিয়ে যানজট বাধাচ্ছে। আর এ কারণে সংখ্যায় অনেক কম বাসও প্রয়োজনীয় ট্রিপ দিতে পারছে না।  

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকায় প্রাইভেট কার নিবন্ধনে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। চীনে গাড়ি কিনতে লটারি প্রথা রয়েছে। বিভিন্ন দেশে অনুমোদন পেতেই বছরের পর বছর চলে যায়। ছোট গাড়ি কেনা নিরুৎসাহ করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে পার্কিং চার্জ বেশি রাখা হচ্ছে। আমাদের এখানে ব্যাংকগুলো উদারভাবে গাড়ি কেনার জন্য ঋণ দেয়, সরকারি বাধাও নেই। ’

ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ (খোকন) কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাত্যহিক নাগরিক জীবনে জরুরি হয়ে পড়েছে অটোরিকশা। একটি রাজধানী শহরে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কিন্তু প্রাইভেট কার বা ব্যক্তিগত গাড়িতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এটা উল্টো নীতি। এতে করে সংকট বাড়ছে।

মেট্রো রেল ও বিআরটি : ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নে নেওয়া আরএসটিপির চূড়ান্ত পথনকশায় বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ৫৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। এই সময়ের মধ্যে রাজধানী ও আশপাশে পাঁচটি মেট্রো রেল, দুটি বিআরটি, ছয়টি উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হবে। যানবাহন চাহিদার ৬৪ শতাংশ পূরণ করতে পারবে এসব মেট্রো রেল ও বিআরটি। ঢাকার চারপাশে তিনটি বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ করা হবে। মহানগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাসের রুট সমন্বয় করা হবে।

পাঁচটি মেট্রো রেলের মধ্যে একটি উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পের কাজ চলছে। সুপারিশ অনুসারে, দুটি রুটে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি সড়ক নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি নির্মাণের কাজ চলছে।

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার বিআরটি নির্মাণ করা হবে। আট লেনের টঙ্গী সেতুসহ সাড়ে চার কিলোমিটার উড়াল সেতু ও বিআরটি স্টেশন নির্মাণ ও নিচের সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৯০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বিমানবন্দর সড়ক থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রস্তাবিত বিআরটির জন্য প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ লাখ ডলার। এ জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে গত বছর দরপত্র আহ্বান করা হলে অংশ নেয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পের অর্থায়নে সহযোগিতা করছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড সামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকার গণপরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে ভাবা হচ্ছে কয়েক দশক ধরে। পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়িত হয় না। ফলে জটিলতা ও সংকট আরো বাড়ে। নৌপথ ও রেলপথকে প্রায় বাদ রেখে সড়কভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রাধান্য পাওয়ায় সমন্বিত অগ্রগতি হচ্ছে না। রাজধানীর যানজট বিশেষজ্ঞ সন্তোষ কুমার রায় বলেন, গণপরিবহন এমনিতেই নেই, তার ওপর ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে নতুন মুখ যোগ হচ্ছে দুই হাজার করে। সবচেয়ে বেশি জনবসতির মহানগরীতে বহু দূরত্বের গন্তব্যে চলাচলের জন্য অবকাঠামো উড়াল সড়ক ও উড়াল সেতু করা হচ্ছে। কিন্তু ইউলুপের মতো অবকাঠামো নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ নেই। ছোট গাড়ি ও মানুষের ঢাকামুখিতা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না।

তবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ‘রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা জড়িত। আমরা গণপরিবহন বাড়াচ্ছি। মেট্রো রেল ও বিআরটির মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সব কিছুর সুফল রাজধানীবাসী অচিরেই পাবে। ’


মন্তব্য