kalerkantho


দলে মনোযোগ আ. লীগ জাপার, বিএনপি চুপ

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



দলে মনোযোগ আ. লীগ জাপার, বিএনপি চুপ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুরে নতুন করে দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরশাদের জাতীয় পার্টিও বসে নেই। দলটির কথিত দুর্গ পুনরুদ্ধারে দল গোছানোর কাজ চলছে। এর বিপরীতে বলতে গেলে নিষ্ক্রিয় সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি।

রংপুরে বড় এই তিন দলের বাইরে জামায়াতের কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে না। হতাশায় ধুঁকছে বাম দলগুলো।

জেলার ছয়টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন। নেতাকর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের তুলে ধরছেন। দলীয় প্রধানের ছবিসহ ডিজিটাল বিলবোর্ড ও রঙিন শুভেচ্ছা পোস্টার লাগিয়েছেন কেউ কেউ।

আওয়ামী লীগ : গাছাড়া ভাব কাটিয়ে দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর রংপুরে দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া এবং আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের যেকোনো ধরনের অরাজকতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। দলের একটি অংশ, যারা জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে আছে তারা মনে করেছিল, রংপুর নিয়ে তাদের বিশেষ কিছু ভাবার বা করার নেই। কারণ এটি দলের সভাপতি খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা। উপরন্তু তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আছেন। এলাকার উন্নয়নের বিষয়টি তাঁরাই ভাববেন। অন্য অংশের অভিযোগ ছিল, এমন গাছাড়া ভাবে চললে তা ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এর প্রমাণও মিলেছে গত সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচনে। সিটি করপোরেশনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান জামানত হারান। তবে দল সমর্থিত প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু নির্বাচিত হন। আর আটটি উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরেছেন। এর মধ্যে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদীয় আসন (পরে উপনির্বাচনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী নির্বাচিত হন) পীরগঞ্জ, দলের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক সংসদ সদস্য টিপু মুনশির নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলা পীরগাছা ও কাউনিয়ায় বিএনপির প্রার্থী এবং আরেক সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমানের নির্বাচনী আসন মিঠাপুকুর উপজেলায় জামায়াতের প্রার্থী জিতেছেন।

তবে দলটি সাফল্য পেয়েছে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। তিনটি পৌরসভাই দলটির দখলে। আর জেলার ৭৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৬৭টিতে দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দল গোছানোর কাজ শেষ করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির কাজ চলছে। এর লক্ষ্য আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া। এ ছাড়া আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের যেকোনো ধরনের অরাজকতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় পার্টি : একসময় রংপুর মানেই ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয় পার্টি ও লাঙ্গল। ১৯৯০ সালে কারাগারে যাওয়ার পর এরশাদের প্রতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রংপুরের মানুষ। রংপুরে এরশাদের আগমন মানেই ছিল হুলুস্থুল ব্যাপার। সাধারণ ভোটারদের কাছে ‘এরশাদ আবেগ’ এতটাই মজবুত হয় যে প্রার্থীর যোগ্যতা বা অযোগ্যতা বিবেচ্য বিষয় ছিল না। প্রার্থীর প্রতীক ‘লাঙ্গল’ হলেই হলো। জয় তাঁর সুনিশ্চিত। ‘জাপার দুর্গে’ পরিণত হয় রংপুর। সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগ দেওয়ার পর থেকে এই দুর্গে ধস নামতে শুরু করে। গত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঘটে দলটির ভরাডুবি। সারা জেলায় মাত্র সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে জয়লাভ করেন দলের প্রার্থীরা। তিনটি পৌরসভার মধ্যে হারাগাছ ও পীরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থীই দিতে পারেনি দলটি। বদরগঞ্জ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মাত্র ১৭১ ভোট পেয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনে আট উপজেলার একটিতেও দলটির প্রার্থীরা জয় পাননি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন মাত্র একটিতে। এমনকি সদর উপজেলায় স্বয়ং এরশাদ প্রচারে নেমেও কোনো সুবিধা করতে পারেননি। এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হলেও নবম সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসন চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে।

মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘এরশাদের লাঙ্গল প্রতীক রংপুরের মানুষের অন্তরে গেঁথে গেছে। শুধু নির্বাচনে পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই রংপুর আবারও জাতীয় পার্টির দুর্গে পরিণত হবে। ’

বিএনপি-জামায়াত : রাজনীতির মাঠে দেখা যাচ্ছে না বিএনপি ও এর জোট শরিক জামায়াতের নেতাকর্মীদের। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলার সময় ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নাশকতার একাধিক মামলার কারণে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বাড়িছাড়া।

দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় পণ্ড হচ্ছে। কর্মসূচি পালনের আগেই দলীয় কার্যালয় ঘিরে রাখছে পুলিশ। ফলে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের পা পড়ে না। এ অবস্থায় মাঝেমধ্যে মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেনকে দলীয় কার্যালয় খুলে কিছু কর্মীদের নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘তিনটি মামলায় জামিনে থাকার পরও পুলিশ বাড়িতে রেইড দেয়। গ্রেপ্তারের ভয়ে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বসতে পারছি না। ’

বাম দল : জেলায় বাম দলগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা খুবই দুর্বল। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজনীতির মাঠে দেখা যায় কেবল বিভক্ত বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) দুটি অংশকে। সরকারের অংশীদার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও (জাসদ) মাঝেমধ্যে কর্মসূচি পালন করে। এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্য কোনো বাম দলের দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই। রাজনীতির মাঠে নেতাদের দেখাও মেলে না।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মকাণ্ড : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুরের ছয়টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পাড়া-মহল্লার আনাচ-কানাচে সাঁটিয়েছেন রং-বেরঙের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার।

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে ষষ্ঠ থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় কোনো নেতা প্রার্থী হতে পারেননি। রংপুর-৩ ও রংপুর-৪ আসনের নেতারা প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা ও সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান ও যুগ্ম সম্পাদক মোকাররম হোসেন সুজন।

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরীর ছেলে দলের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক টুটুল চৌধুরী মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য পরিতোষ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শাহান, বদরগঞ্জ পৌরসভা শাখার সাধারণ সম্পাদক কমল লোহানী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকারের মনোনয়ন আলোচনায় আছেন। জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) আবদুস সাত্তার ও জেলা নাগরিক ঐক্যের সদস্য ব্যবসায়ী জয়চন্দ্র প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

রংপুর-৩ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়ে আসছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি এ আসনে (সদর ও সিটি করপোরেশন) পরপর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তাঁর ভাই দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আগামী নির্বাচনে এ আসনেই লড়বেন এরশাদ। এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন ও সহসভাপতি সামসুজ্জামান সামু। অন্যান্য দলের মধ্যে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শাহাদাত হোসেন, বাসদের জেলা সমন্বয়ক আবদুল কুদ্দুস, ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম গোলাম মোস্তফা, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাজিরুল ইসলাম লিটন, জেলা নাগরিক ঐক্যের সদস্যসচিব রেয়াজ উদ্দিন ও জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা একরামুল হোসেন স্বপন।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর দুবারের সংসদ সদস্য টিপু মুনশী এবারও মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে টিপু মুনশীর বিকল্প কাউকে দেখছে না। এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন দুজন। তাঁরা হলেন যুবলীগ থেকে সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া ব্যবসায়ী মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবুর রহমান। ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ও বর্তমান কমিটির সদস্য কর্নেল আবদুল বাতেন (অব.)। জেলা নাগরিক ঐক্যের সদস্য রফিকুল ইসলামও নির্বাচন করতে পারেন।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান। এবারও তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, বয়সের কারণে আশিকুর রহমান প্রার্থী না হলে তাঁর ছেলে রাশেক রহমানকেই প্রার্থী করা হতে পারে। এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলাও নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য মমতাজ উদ্দিন ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খাজা নূর খাজা ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত অধ্যুষিত মিঠাপুকুরে উপজেলা জামায়াতের আমির ও বরখাস্ত হওয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে পারেন। নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম নবাবও প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে স্থানীয় নেতারা নিশ্চিত করেছেন। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে এই আসনে শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে সামান্য ভোটে পরাজিত হলেও নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। তখন থেকেই এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে। এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সদস্য নূর মোহাম্মদ মণ্ডল। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হয়ে শেখ হাসিনার কাছেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।

এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নূরে আলম যাদু দলীয় চেয়ারম্যানের সবুজ সংকেত পেয়ে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে।


মন্তব্য