kalerkantho


নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিইসি

সভা-সমাবেশে বাধা দূরের দায়িত্ব ইসি নেবে না

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



সভা-সমাবেশে বাধা দূরের দায়িত্ব ইসি নেবে না

ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্যে বা ঘরোয়া সভা-সমাবেশ করার ক্ষেত্রে বাধা দূর করার কোনো দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল রবিবার রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কোথায়, কারা বৈঠক করতে পারেনি সেটা সরকারের বিষয়। আমাদের দায়দায়িত্ব আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা আছে। কোনো রাজনৈতিক দলকে মিটিং-মিছিল করার সুযোগ দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়। নির্বাচন কমিশনের কাজ ট্যাকটিক্যাল। রাজনৈতিক দলগুলো ঘরে বসে সভা করবে, নাকি পল্টনে করবে সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোনো দলের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। ’

সম্প্রতি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) নেতা আ স ম আবদুর রবের বাসায় ঘরোয়া বৈঠকে পুলিশের উপস্থিতি, ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলোকে সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) প্রস্তুত কিভাবে করবেন জানতে চাইলে সিইসি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সব রাজনৈতিক দল যাতে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পায় সে বিষয়ে কমিশন সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইতে পারে কি না—জানতে চাইলে সিইসি বলেন, এখন এ ধরনের সহযোগিতা চাওয়ার কোনো এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। অবশ্য তিনি এও দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের যে ধরনের আইন-কানুন রয়েছে তা একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট।

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষমতা রয়েছে ইসির।

সিইসির এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বপূর্ণ নয় বলে মনে করেন নির্বাচন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি রাজনৈতিক দলগুলোর বিনা বাধায় সভা-সমাবেশ করার সুযোগ সৃষ্টির কোনো ব্যবস্থা না করতে পারে তাহলে নির্বাচনে সবার জন্য সমান ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত হবে কিভাবে? ক্ষমতায় যাঁরা রয়েছেন তাঁরা সরকারি সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সব কিছুই করতে পারবেন, নিজেদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন; আর ক্ষমতার বাইরে যাঁরা তাঁরা সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না এবং নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে কোনো দায়-দায়িত্ব নেবে না—তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে হবে? তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় থাকে মাত্র ৪০-৪৫ দিন। এটুকু সময়ের মধ্যে সভা-সমাবেশের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার বাইরের দলগুলো কতটুকু প্রচারের সুযোগ পাবে? আমি মনে করি, প্রধান নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে চরম দায়িত্বহীন মন্তব্য করেছেন। ’

নির্বাচনী আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘২০০৭ সালে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তখন কবে ভোটার তালিকা প্রস্তুত হবে, কবে ভোট হবে এসব বিষয়ে রোডম্যাপ করার প্রয়োজন ছিল। আর এখন সংবিধানেই বলা আছে কবে নাগাদ নির্বাচন হবে। ভোটার তালিকা আইনেই বলা রয়েছে কবে এটা হালনাগাদ করতে হবে। নির্বাচনের আগে আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণেরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব কাজ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের রুটিন কাজ। নির্বাচনী আইন ও বিধিমালাগুলো সময়োপযোগী করে সংস্কার করার অনেক ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। রাজনৈদিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করে, তাদের কাছ থেকে প্রস্তাব নিয়ে যদি নির্বাচন কমিশন বিধিমালাগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করে তাহলে তা একটি কার্যকর পদক্ষেপ হবে। ’

ড. শাহদীন মালিক আরো বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন শুধু তফসিল ঘোষণার পরের ৪০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওই সময়ের আগেও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় অনেক কিছু হতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকায় থাকতে হবে, অন্তরায়গুলো দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের কোনো কার্যক্রম যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ সাংবিধানিক ক্ষমতা শুধু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নয় তা নির্বাচন কমিশনকে বুঝতে হবে। ’

‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২’-এর ৪৪ ই অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার অথবা বিভাগ, জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মরত তাদের অধীন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বদলি করা যাবে না। এ ছাড়া নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থেকে কাজ করবেন। এ জন্য ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ রয়েছে। এসব বিধানের আলোকেই সিইসি গতকাল জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কমিশন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।

জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনই যেহেতু প্রশাসনিক সব ক্ষমতার অধিকারী হয়, তাই প্রয়োজনে তারাই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করতে পারে কি না জানতে চাইলে সিইসি একটু থেমে বলেন, ‘হ্যাঁ’। পরে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন সব প্রশাসনিক ক্ষমতার কর্তৃত্ব পায়।

ইভিএম নিয়ে আলোচনার পথ বন্ধ নেই : নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকক্ষের সংখ্যা হবে আড়াই লাখ। ইভিএম ব্যবহার করতে হলে আড়াই লাখ ইভিএম কিনতে হবে। ইভিএম পরিচালনার জন্য সমানসংখ্যক জনবল ও তাদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কমিশনের কাছে আগের যে সাত-আট শর মতো ইভিএম রয়েছে তা গত পাঁচ বছর ব্যবহার হয়নি। এসব ইভিএমের কিছু ত্রুটিও শনাক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে আগামী দিনে বিষয়টি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহারে আলোচনার পথ বন্ধ করে রাখেনি। ’

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের পাশেই নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সম্মেলন কক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। এ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রধান অতিথি এবং অন্য নির্বাচন কমিশনাররা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইসি সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, এই কর্মপরিকল্পনাটি একটি সূচনা দলিল মাত্র। এর পরও পর্বতপ্রমাণ কাজ বাকি রয়েছে। এতে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে সংযোজন-বিয়োজন করা যাবে।

স্বাগত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সর্বোত্তম শ্রম দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

রোডম্যাপের ভূমিকায় যা বলা হয়েছে : রোডম্যাপের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি গুরুত্ব রেখে সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সাতটি করণীয় বিষয় নির্ধারণ করে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। সেগুলো হলো—১. আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার; ২. নির্বাচনপ্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ; ৩. সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ; ৪. নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ; ৫. বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক ভোটকেন্দ্র স্থাপন; ৬. নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা এবং ৭. সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ।

নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ : জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভোটারসংখ্যার পাশাপাশি এলাকার আয়তন বিবেচনায় নিতে আগ্রহী ইসি। এ বিষয়ে রোডম্যাপে বলা হয়েছে, সময়ের পরিবর্তনে এবং জনগণের শহরমুখী প্রবণতার কারণে বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যার আধিক্য বা ঘনত্ব বিবেচনা করা হলে শহর এলাকায় সংসদীয় আসনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে পল্লী অঞ্চলে আসনসংখ্যা কমে যাবে। ফলে শহর ও পল্লী অঞ্চলের আসনের বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ হবে। সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শুধু জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি না করে ভোটারসংখ্যা এবং সংসদীয় এলাকার আয়তন বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আইনি কাঠামোতে সংস্কার আনা প্রয়োজন। কেননা ভোটার তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ করা হয়। জনসংখ্যা, মোট আয়তন ভোটারসংখ্যা এগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বড় শহরের আসনসংখ্যা সীমিত করে দিয়ে আয়তন, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও উপজেলা ঠিক রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি কমিশন সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে।

সংসদ নির্বাচনের আইন কাঠামো বিষয়ে কমিশনের বক্তব্য হলো, ‘নির্বাচন পরিচালনার জন্য কালের বিবর্তে ধাপে ধাপে একটি আইনি কাঠামো ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। এই আইনি কাঠামো অর্থাৎ প্রণীত আইন, বিধি, প্রবিধি এবং নীতিমালা প্রয়োগ করে অতীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক সক্ষমতাও রয়েছে যার মাধ্যমে অতীতে গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসিত নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়েছে। এমতাবস্থায় আইনি কাঠামোর আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয় না। ’

প্রকাশিত রোডম্যাপে আরো বলা হয়েছে, ‘তবে কালের গতিপথ ধরে পরিবেশ-পরিস্থিতি পরিবর্তনের মুখে বর্তমান আইন, বিধিগুলোকে আরো যুগোপযোগী করার সুযোগ রয়েছে মর্মে কমিশন মনে করে। কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে আইন ও বিধিগুলোকে আরো উপযোগী করে তোলার প্রয়াস গ্রহণ করা হবে। মূল আইনি কাঠামোর আওতায় ক্ষেত্রবিশেষ কতিপয় যুগোপযোগী ধারণা প্রবর্তন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে ভোট-প্রক্রিয়া আরো অর্থবহ এবং সহজ হতে পারে। ’

এ বিষয়ে কমিশন ১৯৭৬ সালের সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ সংশোধন করে জনসংখ্যা ছাড়াও ভোটারসংখ্যা এবং আয়তনও বিবেচনায় আনার প্রস্তাব রেখেছে।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব : নির্বাচনের সময় এলাকার বাইরে অবস্থানরত ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জটিল প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাবও রয়েছে কর্মপরিকল্পনায়। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত সব ভোটারকে সহজ পদ্ধতিতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে চায় নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের ধারণা, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮-এর কাঠামোতে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা দূর করা বিশেষ প্রয়োজন। যেমন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের গেজেট কখন প্রকাশ করা হবে সে বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আইনি কাঠামোগুলো পর্যালোচনা করে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ারও প্রয়োজন হবে।

নির্বাচন কমিশন ১৯৭৬ সালের সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ এবং ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মাতৃভাষা বাংলায় প্রণয়নেও আগ্রহী।

নির্বাচন কমিশন চলতি মাসেই আইনি কাঠামোগুলো পর্যালোচনা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে যাচ্ছে এবং বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ডিসেম্বরে আইন সংস্কারের খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিশন এসব বিষয়ে মতামত গ্রহণের জন্য আগামী ৩১ জুলাই থেকে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে। প্রথমে সংলাপ হবে সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। এরপর আগস্টে গণমাধ্যম, আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো এবং অক্টোবরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারী নেত্রী ও নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।


মন্তব্য