kalerkantho


চালের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার চান পরিকল্পনামন্ত্রী

বিনা জামানতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



চালের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার চান পরিকল্পনামন্ত্রী

ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের প্রধান খাদ্য চালের সরবরাহ বাড়াতে এর আমদানির ওপর থেকে শুল্ক সাময়িক সময়ের জন্য তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এটা করা দরকার বলে মত তাঁর।

এদিকে বিনা জামানতে ব্যবসায়ীদের চাল আমদানির ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়ে গতকাল সোমবার সার্কুলার লেটার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে হাওর এলাকার বন্যা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের স্বাভাবিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে চাল আমদানিতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিনা মার্জিনে ঋণপত্র খোলার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন চাল আমদানিকারকরা।

ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ জমা দিতে হয়। কিন্তু নগদ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ঋণপত্র খুলতে পারছেন না। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানিতে সুবিধা পাবেন।

গতকাল সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী চাল আমদানির শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

এ ছাড়া আবগারি শুল্ক, ভ্যাট নিয়ে মানুষের যে অস্বস্তি রয়েছে তা দূর করতে সরকারপ্রধান উদ্যোগ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম, পরিকল্পনাসচিব জিয়াউল ইসলাম, আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘চালের দাম বেড়েছে এটা স্বীকার করছি। আবার কমেও যাবে আশা করি। চাল যে বাজারে নেই, তা নয়। কিন্তু পরিস্থিতি ভালো হলেও দায় সরকারের, মন্দ হলেও তাই। এ বছর হাওরে আগাম বন্যা হওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগময় পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির ব্যবসায়ী। দেশের কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় সে জন্য সরকার চাল আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। কিন্তু এখন অস্বাভাবিক সময় যাচ্ছে। চালের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক তুলে নেওয়া উচিত। আশা করি সরকার এ বিষয়টি বিবেচনা করবে। ’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘মিল মালিকদের কাছে পর্যাপ্ত চাল আছে। ওই চাল বাজারে আনার চেষ্টা চলছে। ’ তিনি বলেন, ‘বাজারের চরিত্র বোঝা খুবই কঠিন। বাজার অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে ধারণার ওপর নির্ভর করে চলে। চালের বেলায় তাই হচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে চাল আছে। আর ধারণা হচ্ছে হাওরে বন্যার কারণে চালের সংকট হবে। এই ধারণা থেকে দাম বেড়ে গেছে। সরকারের হাতেও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আবার আমদানিও হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে ৫২ হাজার টন চাল দেশে আসছে। চাল নিয়ে যে আশঙ্কা, তা শিগগির কেটে যাবে। ’


মন্তব্য