kalerkantho


মন্ত্রিসভায় নীতিমালা অনুমোদন

অনলাইন গণমাধ্যমও জাতীয় সম্প্রচার কমিশনের অধীনে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



অনলাইন গণমাধ্যমও জাতীয় সম্প্রচার কমিশনের অধীনে

ছবি: কালের কণ্ঠ

বেতার ও টেলিভিশনের মতো অনলাইন গণমাধ্যমকেও প্রস্তাবিত জাতীয় সম্প্রচার কমিশনের অধীনে এনে ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইন গণমাধ্যমকে প্রস্তাবিত জাতীয় সম্প্রচার কমিশনের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। তবে কমিশন হওয়ার আগ পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় তা তদারকি করবে। সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণের জন্য আলাদা নিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘আমাদের যে গণমাধ্যম নীতিমালা রয়েছে সেটার আলোকেই অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা করা হয়েছে। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালায় অনেক বিষয় গাইডলাইন হিসেবে দেওয়া আছে। অনলাইন গণমাধ্যমকে কমিশনের কাছে নিবন্ধিত হতে হবে। অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধনের জন্য কমিশনে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। কমিশন হচ্ছে প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশন।

জাতীয় সম্প্রচার আইন যখন পাস হবে তখন কমিশন দৃশ্যমান হবে। যেসব সংবাদপত্র ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা অ্যাক্ট অনুযায়ী নিবন্ধিত, সেসব সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণকে নতুনভাবে নিবন্ধন করতে হবে না। তবে বিষয়টি কমিশনকে জানাতে হবে এবং নিবন্ধন ফি দিতে হবে। এই ফি নির্ধারণ করবে সম্প্রচার কমিশন। নির্দিষ্ট আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বলে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকেও অনলাইন ভার্সনের জন্য কমিশনের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে না। ’

মন্ত্রিপরিষদসচিব আরো বলেন, অনলাইন গণমাধ্যমের কোড অব গাইডেন্স বা পরিচালনা পদ্ধতি কী হবে সেটা কমিশন জানাবে। কমিশনের কোনো বিষয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে অভিযোগ করতে পারবে। কমিশন এই অভিযোগ ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে। কমিশন শুনানি করার পর নির্দেশনা জারি ও জরিমানা আরোপ করতে পারবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে প্রায় এক হাজার ৮০০ অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে কিছু অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, বাংলাদেশের মুক্তিযুক্ত, ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতি, সংবাদ ও তথ্যমূলক অনুষ্ঠান, উন্নয়ন ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বক্তব্য, পণ্য, পণ্যের মান ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, শিশু ও নারীর অধিকার বিষয়ে ২০১৪ সালের জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় যে বিধান আছে সেই বিধান এখানে প্রযোজ্য হবে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতিমালা করা হয়েছে।

অনলাইন গণমাধ্যমের সংজ্ঞা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী অনলাইন গণমাধ্যম বলতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে হোস্টিং করা বাংলা, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইন্টারনেটভিত্তিক রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সম্প্রচারের উদ্দেশে ব্যবহৃত স্থির ও চলমান চিত্র, ধ্বনি ও লেখা বা মাল্টিমিডিয়ার অন্য কোনোরূপে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ বা সম্প্রচারকারী বাংলাদেশি নাগরিক বা বাংলাদেশে নিবন্ধিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে। ’

লাইসেন্স ছাড়া নলকূপ স্থাপনে জরিমানা বাড়ছে : লাইসেন্স ছাড়া নলকূপ স্থাপনে দণ্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ‘ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১৭’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনটি অর্ডিন্যান্স আকারে ইংরেজিতে ছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তা বাংলায় করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, আইনে লাইসেন্স ছাড়া নলকূপ স্থাপনের দণ্ডের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ জরিমানা ছিল দুই হাজার টাকা। প্রস্তাবিত আইনে তা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা এবং অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স লাগবে। এই লাইসেন্স দেবে উপজেলা কমিটি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সুগার (রোড ডেভেলপমেন্ট চেস) বিল অর্থাৎ চিনি (রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপকর) আইন, ২০১৭ এবং অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা ২০১৩-এর সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় বৈঠকে।

বৈঠকে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে অতিবর্ষণে পাহাড়ধসে সেনা সদস্যসহ ১৬০ জন নিহত হওয়ায় শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। গত ১৩ জুন পশ্চিম লন্ডনে বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়ও শোক জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বাংলাদেশ ও বাহরাইন এবং বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে দ্বৈত করারোপ পরিহারের যে চুক্তি তার অনুসমর্থন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বিশেষায়িত সংস্থা ইসলামিক অর্গানাইজেশন ফর ফুড সিকিউরিটি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

 


মন্তব্য