kalerkantho


তৃণমূলে আগাম নির্বাচনী হাওয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



তৃণমূলে আগাম নির্বাচনী হাওয়া

বর্তমান সরকারের পূর্ণ মেয়াদ শেষে নির্বাচন হলে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগে তিন মাসের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো ঢের সময় বাকি। তবে এত দূরের ভোটকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠছে দেশ। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নেমে পড়েছেন গণসংযোগে। বিভিন্ন আসনের বর্তমান ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের পাশাপাশি দুই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মাঠে সরব হয়ে উঠছেন। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তাঁরা। কিছু এলাকায় জাতীয় পার্টি ও জাসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি দলের অন্য নেতারাও মাঠে নেমে পড়েছেন। সে সুবাদে তৃণমূলে দলগুলোর রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও আগামী নির্বাচন নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। তবে কিছু জেলায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রচার বা জনসংযোগের চিত্র এখনো সেভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি।

চট্টগ্রাম : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীরা নিজ এলাকায় দলের সাংগঠনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছেন। তাঁদের অনুসারী নেতাকর্মীরাও মাঠে কাজ করছে। তাঁদের পাশাপাশি সক্রিয় হয়েছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী স্থানীয় নেতারাও।

নগরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বন্দর-পতেঙ্গায় আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফের পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। লতিফও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছেন।

নগরের কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসনে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন বলে জানা গেছে। এই আসনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার চৌধুরী মহীবুল হাসান নওফেলও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের কাছাকাছি যাচ্ছেন।

মহানগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলার সংসদীয় আসনগুলোর কয়েকটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। তাঁরা দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুর : জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলে আগাম প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি কৌশলে নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিএনপি নেতারা সেভাবে সরব হতে পারছেন না।

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বর্তমান এমপি ও তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়াল প্রকাশ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করছেন। পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সফিকুল ইসলাম, রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক এম এ মমিন পাটওয়ারী এলাকায় যোগাযোগ রাখছেন। এ আসনে বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন এবং এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের বর্তমান এমপি ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. এহসানুল কবির জগলুল ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়েরভূঁইয়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজ নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের বর্তমান এমপি এ কে এম শাহজাহান কামাল নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন। নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম। কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবুও এলাকায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষায় সচেষ্ট।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে বর্তমান এমপি আবদুল্লাহ আল মামুনের পাশাপাশি এ আসনের সংরক্ষিত সাবেক মহিলা এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি থেকে সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন নিজান দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জাতীয় পার্টির এমপি রয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই আগাম নির্বাচনী তত্পরতা শুরু করে দিয়েছেন। এসব আসনে বিএনপি নেতাদের মাঠে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এ কে এম একরামুজ্জামান নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে চলেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকায় যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের বিকল্প হিসেবে অন্য কাউকেই আপাতত ভাবছে না স্থানীয় আওয়ামী লীগের কেউ। নিজের সততা, স্বচ্ছতা, কর্মনিষ্ঠায় তিনি এরই মধ্যে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এ আসনে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাছির উদ্দিন হাজারী বিএনপির মনোনয়নের আশায় বেশ কয়েক বছর ধরেই মাঠে আছেন। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানও সাম্প্রতিক সময়ে তত্পর হয়ে উঠেছেন।

কক্সবাজার : পর্যটন জেলার চারটি আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইছে অনেক আগে থেকেই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেউই বসে নেই। নির্বাচনী প্রচারণা বাড়তি মাত্রা পেয়েছে গত ৬ মে কক্সবাজারে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর। ওই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারবাসীর জন্য আমি নিয়ে এসেছি উন্নয়নের উপহার। এবার আপনাদের কাছে আসন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাই। ’

জেলা বিএনপির রাজনীতিতেও উঠেছে আওয়াজ। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠনেও সরব হয়ে উঠেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন পর হলেও গত ১৩ মে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির তৃণমূল সম্মেলন।

উখিয়া-টেকনাফ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, শিল্পপতি মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ও শাহ আলম চৌধুরী রাজা নির্বাচন সামনে রেখে সরব হয়ে উঠেছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক দলীয় এমপি শাহজাহান চৌধুরী, তাঁর ভাই সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও টেকনাফের ধনাঢ্য বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রচারণায় রয়েছেন।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া (কক্সবাজার-২) আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ ওসমান গণি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠে সরব বিএনপির সাবেক এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ ও মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহও সমানে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-৪) আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইলিয়াছ আসন্ন নির্বাচনে পুনরায় এমপি প্রার্থী হতে কাজ করছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল করিম ও সুচিন্তা ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী আশরাফুল ইসলাম সজীব মাঠে রয়েছেন।

নোয়াখালী : দলীয় মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে অনেকেই এলাকায় এসে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর সঙ্গে জনসংযোগ শুরু করছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এলাকায় আনাগোনা রয়েছে।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের এইচ এম ইব্রাহিম নিয়মিত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন কামরান জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। জাপার কেন্দ্রীয় নেতা দিদারুল আলমও এলাকায় কাজ করছেন।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি) আসনের বর্তমান এমপি মোরশেদ আলমের পাশাপাশি মাঠে কাজ করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূইয়া মানিক এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জামাল উদ্দিন ভুঁইয়া।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন বর্তমান এমপি মামুনুর রশিদ কিরন। মামলার কারণে বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু আত্মগোপনে থাকায় তাঁর সহধর্মিণী শামীমা বরকত এলাকায় ও দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।

সিলেট : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো দেড় বছর বাকি থাকলেও সিলেটের রাজনীতিতে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। কেন্দ্র থেকেও দুই দলের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠকের পাশাপাশি নির্বাচনী দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুই দলের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগ গত মাসে সিলেটে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা করেছে। ২০ মে ঢাকায় গণভবনেও বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে এসে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে গেছেন। এই দুটি প্রধান দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি পুরোদমেই এখন চলছে।

সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এ কে আব্দুল মোমেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরান আগাম নির্বাচনী প্রচার নিয়ে মাঠে সক্রিয়। সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মালিকের ছেলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরও এলাকায় সভা-সমাবেশ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা গণসংযোগ করছেন। সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী নিয়মিত এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন। এ আসনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বর্তমান এমপি ইমরান আহমদ, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ ও গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাসুক উদ্দিন বলেন, মানুষের সেবা ও এলাকার উন্নয়নের জন্য এবারও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কাহির চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে গণসংযোগ করছেন। চাকসুর সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনও মাঠে আছেন জোরেশোরে।

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বছরজুড়েই এলাকায় নিয়মিত আসছেন। প্রচারে তাঁর কর্মী-সমর্থক এবং দলের নেতারাও সক্রিয়। এই আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম প্রার্থী হতে প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন।

হবিগঞ্জ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হবিগঞ্জের চারটি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চলছে। তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের এমপিরা দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে দলকে সুসংগঠিত করছেন এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম বলেন, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

সুনামগঞ্জ : জেলার পাঁচটি আসনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে কোনো আলোচনা নেই। তবে প্রার্থীরা ইতিমধ্যে নানাভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। পারিবারিক, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে গত দুবারের টানা সংসদ সদস্য বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এই আসনে আব্দুস সামাদ আজাদের বড় ছেলে আজিজুস সামাদ ডন এলাকায় নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছেন।

রাজশাহী : আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণায় ক্রমেই সরগরম হচ্ছে রাজশাহী অঞ্চল। সক্রিয় হয়ে উঠছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। এরই মধ্যে তাঁরা মাঠে নেমে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে টেনে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ নেমে পড়েছেন প্রচার-প্রচারণায়। রাজশাহী অঞ্চলের এমন অন্তত ২০টি আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে অংশ নিতে যাওয়া নেতারা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরির্দশক মতিউর রহমান। বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকও এরই মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারণা শুরু করেছেন।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বর্তমান এমপি আয়েন উদ্দিনের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রচারণায় নেমেছেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুসহ আরো কয়েকজন নেতা।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের জন্য বর্তমান এমপি এনামুল হক ছাড়াও এখানে এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, সাবেক এমপি আব্দুল গফুর ও প্রবাসী বিএনপি নেতা দেওয়ান মোহাম্মাদ জাহেদ।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বর্তমান এমপি আব্দুল ওদুদ দারা ছাড়াও মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক এমপি তাজুল ইসলাম ফারুকসহ আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের জন্য বর্তমান এমপি মো. গোলাম রাব্বানী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অবসারপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ এনামুল হক,  সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া প্রচার শুরু করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে বিএনপি নেতা বাইরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, সাবেক এমপি জিয়াউর রহমান, যুবলীগ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম ও নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদের এবং জামায়াত নেতা ইয়াহিয়া খালেদ গণসংযোগে নেমে পড়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের জন্য বর্তমান এমপি আব্দুল ওদুদ বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা বেনজুর রহমান, সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ মাঠে নেমেছেন।

নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) আসনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার, নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনে বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ শহিদুজ্জামান সরকার প্রচার শুরু করেছেন।

জয়পুরহাট-১ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল আলম দুদু, জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

অন্যদিকে সদর আসনের জন্য জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফাও প্রচারের মাঠে সক্রিয়। এর বাইরে রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনী এলাকা সরগরম করতে শুরু করেছেন।

বরিশাল : নির্বাচন ঘিরে বরিশাল বিএনপির তিন ইউনিটে কর্মিসভা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও সংসদ নির্বাচন নিয়ে জরুরি কর্মিসভা করেছে মহানগর আওয়ামী লীগও। এর পরপরই হয় জেলা আওয়ামী লীগের কর্মিসভা। জাতীয় পার্টিও জেলার তিনটি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দায়িত্ব দিয়েছে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুকে। তিনি এরই মধ্যে কর্মিসভা করেছেন বেশ কয়েকটি উপজেলায়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা সংগঠন শক্তিশালী করছি। জেলা ও মহানগরে কর্মিসভা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি বলেন, ‘বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুসারে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ’

জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু জানান, তাঁর দল জেলার ছয়টি আসনেই প্রার্থী  দেবে বলে সিদ্ধান্ত রয়েছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও ছয়টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পটুয়াখালী : পটুয়াখালীতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো প্রকাশ্য কোনো তত্পরতা নেই। তবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারা কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘরোয়া সভা করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, ‘নেত্রী পটুয়াখালীর চার আসনের জন্য যে চারজনকে মনোনয়ন দেবেন, দলের সব নেতাকর্মী তাঁদের জন্য কাজ করবে। ’

বিএনপির অবস্থা পুরোটাই উল্টো। ওয়ান-ইলেভেনের পর আর সংগঠিত হতে পারেনি দলটি। কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। দলে নেই দক্ষ ও ত্যাগী নেতারা। অসাংগঠনিক নেতারা বিভিন্ন এলাকায় (উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়) নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ায় তৃণমূলে ঐক্য আসছে না। তবে তৃণমূলে নেতাকর্মীরা নিজেদের মতো করে ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই তত্পরতায় কিছুটা গতি পাচ্ছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ রব মিয়া অবশ্য দলে বিরোধ-বিভক্তিকে বড় করে দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সুসংগঠিত দল। বড় দলে কিছু সমস্যা থাকে। কিন্তু নির্বাচনে ওই সমস্যা ইফেক্ট হয় না। বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। ’

ভোলা : জেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছাচ্ছে তারা। তবে কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির তৃণমূলে ক্ষোভ কাটছে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছি। নির্বাচনের জন্য দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত। ’

বিজেপি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সব ইউনিয়নে দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নওয়া হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর বলেন, নির্বাচনের জন্য বিএনপিও প্রস্তুত। অধিকাংশ ইউনিয়ন ও পৌরসভার কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বরগুনা : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে তেমন জোরালো তত্পরতা এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। তবে বরগুনা-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু নির্বাচন মাথায় রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলেছেন। একই রকম কৌশল অবলম্বন করছেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ২০ মে সবাইকে কর্মিসভায় ডেকেছেন। সেখান থেকে এসে এ বিষয়ে কথা বলব। ’

জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি চলছে। ’

ঝালকাঠি : ঝালকাঠির দুটি আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ইতিমধ্যে নৌকায় ভোট চাইতে শুরু করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এলাকার নানা উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞের ফিরিস্তি দিয়ে আগামীতে আরো কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা। নির্বাচনে মাঠে থাকার লড়াইয়ে সাংগঠনিকভাবে দল শক্তিশালী রয়েছে বলেও দাবি করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শহর ও গ্রামাঞ্চলে সভা-সমাবেশে নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুর বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সভা করে আমরা নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ’

খুলনা : জাতীয় নির্বাচনের ঢের দেরি থাকলেও দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়ে গেছে। খুলনা মহানগর ছাড়িয়ে জেলাগুলোতেও এর ঢেউ পড়েছে। প্রধানত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তত্পরতা একটু বেশি। শাসক দল ও বিএনপির মধ্যে এ নিয়ে বেশ উত্তাপ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে দলকে তৃণমূল স্তরে চাঙ্গা করার অংশ হিসেবে বিএনপি খুলনা জেলা ও মহানগর শাখা প্রতিনিধিসভা করেছে। সভা থেকে আগামী নির্বাচনে সব ভেদাভেদ ভুলে একক প্রার্থী বাছাই ও তার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা : জেলায় আগাম নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বর্তমান এমপিরা টিআর, কাবিটা, কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফসহ সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নেতাকর্মীদের কাছে টানছেন। নতুন মুখের প্রার্থীরা দলের শীর্ষস্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।  

সাতক্ষীরা-৫ (শ্যামনগর) আসনের এমপি জগলুল হায়দার শ্রমিকদের সঙ্গে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে রাস্তাঘাট সংস্কার করছেন। ঝুড়িতে করে মাথায় মাটি বইছেন।

এদিকে গত ১৩ মে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে প্রতিনিধিসভা করেন। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাই ও তাঁর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

ময়মনসিংহ : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ময়মনসিংহে তৃণমূল পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা শুরু  হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের কেউ কেউ এলাকায় যোগাযোগ শুরু করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তৃণমূলে পৌঁছেছে। তৃণমূলে দল গোছানো হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোও জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে আগ্রহী প্রার্থীরা মাঠে নামতে আরেকটু সময় নিচ্ছেন। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির একাধিক নেতা মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির ভয়ে তাঁদের প্রকাশ্য সক্রিয়তা কম। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাঁরা কেন্দ্রের অপেক্ষায় আছেন। এখন কোনো বক্তব্য দিতে চান না।

শেরপুর : জেলার তিনটি আসনেই আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে প্রচারণায় নেমেছেন। সদর আসনে প্রায় ২৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি হয়ে আসছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিক। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় সভা-সমাবেশ করে চলেছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু। বিএনপি থেকে প্রচারণায় নেমেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি হযরত আলী।

শেরপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী মাঠপর্যায়ে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনে দলীয় মনোনয়নের আশায় মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নালিতাবাড়ী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা।

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক চান আগামীতেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের আশায় মাঠে সভা-সমাবেশ করে চলেছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসরিন রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু ও ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম এ ওয়ারেজ নাঈম।

এ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল।

জামালপুর : জেলার পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাঝেমধ্যে দলবেঁধে গণসংযোগ ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শুরু করেছেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকার রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে ডিজিটাল ব্যানার, সাইনবোর্ড ও পোস্টার লাগিয়ে জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। অনেকেই নিজেদের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় গোপন বৈঠক করছেন। আবার দলবেঁধে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া কামনা করছেন।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। অন্যদিকে এ আসনে সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি, বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইশতিয়াক হোসেন দিদার গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু নিয়মিত ঢাকা থেকে এসে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ফরিদুল হক দুলালকে চ্যালেঞ্জ করে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করছেন সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহজাবিন খালেদ বেবী ও জিয়াউল হক জিয়া। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম আগাম নির্বাচনী গণসংযোগে চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলা। গণসংযোগে নেমেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি সানোয়ার হোসেন বাদশাও। জামালপুর-৫ (সদর) আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বেশ জোরেশোরেই গণসংযোগ করছেন। প্রচারণায় নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকীবিল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেন।

রংপুর : আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে রংপুর বিভাগের আট জেলায় এখনো তেমন তত্পরতা চোখে পড়ছে না।

তবে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সাফি কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে শিগগির কর্মকাণ্ড শুরু করা হবে।

কুড়িগ্রামে বড় দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সাংগঠনিক তত্পরতা জোরদার ও নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওদিকে বসে নেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। তাঁরাও শুরু করেছেন গণসংযোগ। কেন্দ্রীয় নেতারা কয়েক দিন আগে জেলা বিএনপির প্রতিনিধিসভায় আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় অফিস ও জেলা প্রতিনিধিরা।


মন্তব্য