kalerkantho


কৃষ্ণা কাবেরী হত্যা মামলার বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



কৃষ্ণা কাবেরী হত্যা মামলার বিচার শুরু

কলেজ শিক্ষিকা কৃষ্ণা কাবেরী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার একমাত্র আসামি এম জহিরুল ইসলাম পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

রাজধানীর আদাবরের মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজের শিক্ষক ছিলেন কৃষ্ণা কাবেরী। অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশানের একটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপক পলাশ কাবেরীর স্বামীর সঙ্গে শেয়ার ব্যবসার টাকা-পয়সা লেনদেনের বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করেন।

গতকাল পলাশকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। অভিযোগ পড়ে শোনালে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আগামী ২৫ মে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের ভাড়াবাসায় হামলায় মারাত্মক আহত ও দগ্ধ হন কৃষ্ণা কাবেরী মণ্ডল। পরদিন হাসপাতালে মারা যান তিনি। তাঁর স্বামী সীতাংশু শেখর বিশ্বাস বিআরটিএর উপপরিচালক। তাঁর বড় ভাই সুধাংশু শেখর বিশ্বাস হত্যার অভিযোগে পলাশের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৩০ মে আদালতে পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, কাবেরীর স্বামী সীতাংশু হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের মাধ্যমে বিও অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। সেখানে আট লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল তাঁর ও পলাশের মধ্যে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সীতাংশুর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বাসায় জন্মদিনের কেক, মিষ্টি, ফলের জুস ও মোমবাতি নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে যান পলাশ। জুসে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কেক কাটার পর সীতাংশুকে জুস খাইয়ে অচেতন করে হাতুড়িপেটা করার চেষ্টা করেন পলাশ। কাবেরী বাধা দিতে গেলে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই এলোপাতাড়ি পেটান তিনি। পরে মোমবাতি থেকে কাবেরীর গায়ে এবং ঘরে আগুন ছড়িয়ে দেন। দগ্ধ কাবেরীকে রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। পলাশের হাতুড়ির আঘাতে কাবেরীর দুই মেয়েও আহত হয়।


মন্তব্য