kalerkantho


বহিষ্কৃত নেতার জন্য সংঘর্ষে ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



বহিষ্কৃত নেতার জন্য সংঘর্ষে ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত এক ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের বহিষ্কৃত ছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আব্দুল্লাহ কায়সার শাকিলের জন্য ওই সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ। তারা বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন এলাকায় শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে এবং রেললাইনের ফিশ প্লেট তুলে শাটল ট্রেন চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ৪০১ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিভাগের একাডেমিক কমিটি।

সংঘর্ষের ঘটনায় গতকালই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল ও সহসম্পাদক আব্দুল্লাহ কায়সার শাকিলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বহিষ্কৃত এক নেতাকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষের ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফজলে রাব্বী সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা ছাত্রলীগের কোনো সংঘর্ষ না। তাতে আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাদেরকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। ’

সংঘর্ষে হাটহাজারী মডেল থানার এসআই মহসিন আলী, কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও ইমাম হোসেন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্রলীগ তাদের ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করলেও তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন একাকার গ্রুপের নেতা মাহবুবুল হক শাহিনের ওপর হামলার ঘটনায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আব্দুল্লাহ কায়সার শাকিলকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত (ফাইনাল) পরীক্ষা। কায়সার ফরম পূরণ না করলেও গতকাল সকালে পরীক্ষা দিতে বিভাগে যান। বহিষ্কৃত হওয়ায় তাঁকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কায়সার ও বিপুলের অনুসারী ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী সাংবাদিকতা বিভাগের সামনে জড়ো হয়। এ নিয়ে প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে তারা ক্যাম্পাসের গোল চত্বরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দেয়। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ মূল ফটক খুলে দিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় একটি ট্রাক ভাঙচুর ও ক্যাম্পাসের রেলস্টেশনে শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জিরো পয়েন্ট এলাকায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংঘর্ষে একজন এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী আহত হয়েছে বলে শুনেছি। পরিস্থিতি শান্ত আছে। ’

ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিভাগের চতুর্থ বর্ষের প্রথম পরীক্ষা (কোর্স নং-৪০১) আজ (গতকাল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক ছাত্রকে বহিষ্কার করেছিল। তাকে পরীক্ষা দেওয়াতে শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সকালে বিভাগে এসে জড়ো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে শুরুতে তারা চলে যায়। ’

বিভাগের সভাপতি আরো বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর আবার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে সেখানে আসে। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এরপর পরীক্ষা স্থগিত করতে আমরা বাধ্য হই। পরের পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে একাডেমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপদপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘একই ঘটনায় বহিষ্কৃত অন্য ছাত্ররা অন্য বিভাগে ঠিকই পরীক্ষা দিয়েছে। শাকিলকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় তার সহপাঠীরা পরীক্ষা বর্জন করেছে। পুলিশ গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বেধড়ক লাঠিপেটা করেছে। ’ লাঠিপেটায় ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আহত হয়েছে বলে দাবি করেন বিপুল।

শাকিলের পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধের ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা বিপুল।

হাটহাজারী থানার এসআই আলাউদ্দিন বলেন, ‘তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। ইটের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। ’


মন্তব্য