kalerkantho


পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ : হাইকোর্টের নির্দেশ

ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্তে অগ্রগতি জানাতে হবে ৯ মের মধ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্তে অগ্রগতি জানাতে হবে ৯ মের মধ্যে

পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি এবং এ বিষয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন বা কমিটি গঠনের অগ্রগতি ৯ মের মধ্যে জানাতে মন্ত্রিপরিষদসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব ও  স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দেওয়া আদেশে তদন্ত কমিশন গঠন করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার  অগ্রগতি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে মন্ত্রিপরিষদসচিবকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় গতকাল মন্ত্রিপরিষদসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষ থেকে আট সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। বলা হয়, বিবাদীদের সঙ্গে সমন্বয় করতেই সময় দরকার। আদালত ৯ মের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ড. ইউনূসের বিচার দাবি : আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট ১৫ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন। তাতে পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি এবং এ বিষয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন বা কমিটি গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। মন্ত্রিসভা, স্বরাষ্ট্র, আইন ও সেতু সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়নি বলে কানাডার আদালত এসংক্রান্ত মামলা খারিজ করে দেন। আদালতের রায়ের খবর জানার পরদিন থেকে একাধিক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করে আসছেন, বিশ্বব্যাংককে ক্ষমা চাইতে হবে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করতে পেছন থেকে এক ব্যক্তি ষড়যন্ত্র করেছেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তাঁর কারণে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। নির্দোষ হয়েও আমাদের একজন সচিবকে জেল খাটতে হয়েছে। ’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন স্থগিত করে। তাদের অভিযোগের কারণে বিনা দোষে আমাদের একজন সচিবকে জেলে যেতে হয়েছে। একজন মন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে। ’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। অভিযোগটি ছিল পুরোপুরি মিথ্যা। একজন ব্যক্তি ষড়যন্ত্র না করলে আর বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত না করলে এত দিনে সেতুর কাজ শেষ হয়ে যেত। ’ এ অবস্থায় হাইকোর্ট বিষয়টি আমলে নিয়ে আদেশ দেন।


মন্তব্য