kalerkantho


সীতাকুণ্ডে দুই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান

৪ মামলা, আটক দম্পতিকে রিমান্ডে নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



৪ মামলা, আটক দম্পতিকে রিমান্ডে নেওয়া হবে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার লামারবাজার আমিরাবাদে ‘সাধন কুটির’ ও চৌধুরীবাড়ির ‘ছায়ানীড়’ থেকে গ্রেনেড উদ্ধার এবং গ্রেপ্তারের ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার এসব মামলা দায়ের করেছে। এ ছাড়া নিহত চার জঙ্গি ও শিশুর লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা জানান, গতকাল সকালে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। এর মধ্যে সাধন কুটির থেকে গ্রেপ্তারকৃত জহিরুল হক ওরফে জসিম ও তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সোলতানা আর্জিনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাগুলোতে এই দম্পতি ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে শিশু ও জঙ্গিদের লাশগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। লাশগুলো সংরক্ষণ করা হবে নাকি আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হবে—সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত দম্পতিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে তারা তেমন কোনো তথ্য দিচ্ছে না। তথ্য পাওয়ার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ১৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে। তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান জানান, দায়েরকৃত চার মামলার মধ্যে দুটির বাদী তিনি নিজেই। অন্য দুটির বাদী পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল। মামলায় সাধন কুটির ও ছায়ানীড় অভিযানে তিনটি ছোট গ্রেনেড, ১০টি বড় বোমা, সুসাইডাল ভেস্ট, বিদেশি একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গ্রেনেড ও বোমাগুলো ঘটনাস্থলেই নিষ্ক্রিয় করা হয়।  

প্রসঙ্গত, বুধবার সীতাকুণ্ড উপজেলা সদরের দুটি ‘সেফ হোম’ থেকে জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দম্পতির সঙ্গে একটি শিশুও রয়েছে। অন্য একটি ‘সেফ হোমে’ অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন পরিচালনা করা হয়। অপারেশনের পর সেখানে চার জঙ্গি এবং একটি শিশুর লাশ পাওয়া যায়।


মন্তব্য