kalerkantho


কারাগারে রেড অ্যালার্ট বিমানবন্দরে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কারাগারে রেড অ্যালার্ট বিমানবন্দরে সতর্কতা

রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের প্রস্তাবিত ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলার ঘটনার পর সারা দেশের সব কারাগারে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে চেকপোস্ট ও টহলও জোরদার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার আশকোনায় র‌্যাবের প্রস্তাবিত সদর দপ্তরের অস্থায়ী ব্যারাকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে এক যুবক নিহত হয়। ঘটনার পরপরই মোবাইল ফোনে কারা সদর দপ্তর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কারাগারের প্রাচীরের বাইরে যেসব কারারক্ষী দায়িত্ব পালন করেন তাঁদের বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে এবং অস্ত্র নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো দর্শনার্থী এলে তার দেহ ভালো করে তল্লাশি করে তবেই বন্দির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হবে।

নির্দেশ দেওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারাগারের গেটে কারারক্ষীরা বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সব কারাগারে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (গতকাল) বিকেল ৩টা থেকে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ’

কারা সূত্র জানায়, দেশের ৬৮টি কারাগারে গতকাল পর্যন্ত ৭২১ জন জঙ্গি বন্দি ছিল।

তাদের মধ্যে দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের রাখা হয়েছে গাজীপুর জেলার কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারগারে। যেসব সেলে জঙ্গিদের রাখা হয়েছে তাদের আলাদা নজরদারি করা হচ্ছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। কারা অভ্যন্তরে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি কারাগারের আশপাশে টহল বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছে ২০ জঙ্গি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পর জঙ্গিদের নিয়ে যাওয়া হয় কাশিমপুর কারাগারে। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য ১৫ জনের মতো জঙ্গিকে আবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। সেখানে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, জঙ্গি কর্মকাণ্ড আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মনে হচ্ছে। এ কারণে জঙ্গিদের বিষয়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকা কোনো জঙ্গি যাতে বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারে সে জন্য নজরদারি বাড়ানোসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্দি জঙ্গিদের ওপর নজরদারির জন্য বসানো হচ্ছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা। কাশিমপুর কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। প্রতিটি কারাগারে জঙ্গিদের সাধারণ বন্দিদের থেকে আলাদা রাখা হচ্ছে, যাতে তারা সাধারণ বন্দিদের প্রভাবিত করতে না পারে।

বিমানবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তা : গতকাল এ ঘটনার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের প্রবেশপথগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।

এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের সঙ্গে একজনের বেশি দর্শনার্থী বিমানবন্দরের ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তিন দফা তল্লাশি করে তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে টিকিট বিক্রির সঙ্গে জড়িত ইজারাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এএসপি তারিক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সন্দেহজনক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করে বিমানবন্দর এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। গাড়িও তল্লাশি করা হচ্ছে। ’

সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতা জারির পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

পুলিশের নিরাপত্তা : গতকাল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করতে দেখা যায়। বিকেলে তেজগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট দেখা যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। আশকোনার ঘটনার পর পুলিশকে সতর্কতার সঙ্গে চলতে বলা হয়েছে। ’


মন্তব্য