kalerkantho


সীতাকুণ্ডে ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’

ছায়ানীড়ে শিশু ও চার জঙ্গির লাশ

এস এম রানা, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) থেকে   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ছায়ানীড়ে শিশু ও চার জঙ্গির লাশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার চৌধুরীপাড়ায় দোতলা বাড়ি ‘ছায়ানীড়’ আগের দিন বিকেল থেকেই ঘিরে রেখেছিল পুলিশের বিশেষ ইউনিট। রাতে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গেলেও পুলিশের অভিযান শুরু হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে। ভোরের আলো ফুটলেও তখনো চারদিক সুনসান। শহরতলির রাতভর জেগে থাকা মানুষের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায় হঠাৎ বিস্ফোরণে। বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ আতঙ্ক ছড়ায় চারপাশে। আধাঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর খবর আসে—অভিযান শেষ, ভেতরে ছোট এক শিশু ও চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। বাড়ির ভেতরে আটকে পড়া ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর ভেতরে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে শুরু করে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। এই অভিযানও চলে দিনভর।

সীতাকুণ্ডের ছায়ানীড়ে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ পরিচালিত শ্বাসরুদ্ধকর ওই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’। গত বুধবার পাশের একটি বাড়িতে অভিযানের পরই ছায়ানীড় ঘিরে শুরু হয় অভিযান-প্রস্তুতি।

এই অভিযান শেষে গতকাল ভোরে ১৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকা জিম্মিদের মাত্র ৩২ মিনিটে নিরাপদে বের করে আনা হয়। অভিযানে চট্টগ্রাম পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন ঢাকা থেকে যাওয়া স্পেশাল উইপনস অ্যান্ড ট্যাকটিস (সোয়াত), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দল, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন শতাধিক সদস্য। অভিযানের পর ভবনের বিধ্বস্ত অংশে, ছাদের ওপরে পড়ে ছিল জঙ্গিদের বিচ্ছিন্ন দেহ। গতকাল বিকেলে সেখানে তল্লাশির সময় আনুমানিক দুই-তিন বছর বয়সের একটি শিশুর লাশও পাওয়া যায়। গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত কারো পরিচয় শনাক্ত হয়নি।

অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতরা নব্য জেএমবির জঙ্গি। তারা অভিযানে পরাস্ত হয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। অভিযান টের পেয়ে দোতলা বাড়ির নিচতলার উত্তর-পশ্চিম দিকের একটি ফ্ল্যাটের মধ্যে বাসিন্দাদের আবদ্ধ করে রেখেছিল জঙ্গিরা। রাতভর বাইরে সতর্ক পাহারায় ছিল আইন-

শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোরের আলো ফুটে উঠতেই অভিযান শুরু করে সোয়াতের নেতৃত্বাধীন দলটি। আগে থেকেই খানিকটা বিরতি দিয়ে গুলির শব্দ হচ্ছিল। সেটা প্রকট আকার ধারণ করে সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে। পরে মাত্র ৩২ মিনিটেই সব আশঙ্কার অবসান ঘটায় সোয়াত। অভিযান শেষে দিনভর সংগ্রহ করা হয়েছে বেশ কিছু আলামত।

চট্টগ্রাম ঘিরে জঙ্গিদের বড় নাশকতার ছক : পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দেশের অর্থনীতির পাইপলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, চট্টগ্রাম বন্দর, জ্বালানি তেলের ডিপো এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত বিদেশিদের টার্গেট করে জঙ্গিরা নাশকতার ছক এঁকেছে। গত দুই দিনের অভিযানে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামে অবস্থানরত বিদেশিদের টার্গেট করে জঙ্গিরা তত্পর হয়েছে বলে তথ্য আছে। তারা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেই ছায়ানীড় ও সাধন কুঠিরে আস্তানা তৈরি করেছিল। তিনি আরো বলেন, ‘জঙ্গিরা নব্য জেএমবির সদস্য বলে জেনেছি। ’ বুধবার দুপুরে লামারবাজার এলাকার অন্য একটি আস্তানা থেকে গ্রেপ্তারকৃত জসিম-আরজিনা দম্পতি জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা এখনো মুখ খোলেনি। তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

পাশের ভবনের ছাদ থেকে অভিযান শুরু : অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, ছায়ানীড়ের পাশের একটি ভবনের ছাদ থেকে অভিযান শুরু করে সোয়াত। অভিযানে অংশ নেওয়া দল সিঁড়ির কাছাকাছি গিয়েই দেখতে পায়, দুই জঙ্গি আগে থেকেই ওত পেতে ছিল সিঁড়িতে। নিচ থেকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার দেয় এবং তাদের কাছে থাকা সুইসাইড ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি লক্ষ করে সোয়াত সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গেই আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়েন। তখন বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে চারটি মরদেহ দেখা যায়। এর মধ্যে দুটি একেবারেই ছিন্নভিন্ন। অন্য দুটি কিছুটা বোঝা যাচ্ছে। মাথা আরেকটা বিল্ডিংয়ে গিয়ে পড়েছে। হাত পড়েছে অনেক দূরে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কত সদস্য আহত হয়েছেন জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, বুধবার রাতে সোয়াতের একজন সদস্য, বৃহস্পতিবার ভোরে দুজন সদস্য আহত হন। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী গ্রিল কাটার সময় গ্রিল পড়ে আহত হয়েছেন। ভবনের ভেতরের দৃশ্য বর্ণনা করে তিনি বলেন, জঙ্গিরা যে ফ্ল্যাটে ছিল সেখানে প্রচুর বোমা-বিস্ফোরক আছে। এগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট কাজ করছে। তিনি বলেন, পুরো অপারেশনটি মনিটর করেছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। আধা ঘণ্টা পরপর কথা বলেছিলেন। আইজিপির নির্দেশনায় অপারেশন হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুইসাইড ভেস্ট পড়ে থাকায় জঙ্গিদের মৃত্যু হয়েছে।

ভোর পৌনে ৫টার দিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলতে থাকেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম। বারবার শোনা যায়, কোনো অবস্থায়ই যেন অবরুদ্ধ শিশু, নারী ও পুরুষদের জীবনহানি না ঘটে।  

পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়, অবরুদ্ধ সাধারণ মানুষের জীবনহানি এড়াতেই পুলিশ রাতের অন্ধকারে অভিযান চালায়নি। ছায়ানীড়ে নিজ নিজ ফ্ল্যাটে অবস্থানরত লোকজনের কাছে সেই বার্তা পাঠানো হয়। তাদের বলা হয়, স্বজনের কণ্ঠস্বর শুনেই শুধু দরজা খুলবেন। বাড়ির অন্য সব ফ্ল্যাটের লোকজন যখন নিজ নিজ ফ্ল্যাটে, তখন জঙ্গিরা নিজদের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয়। বাড়ির গলি, সিঁড়ি ও ছাদে অবস্থান নিয়ে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে।

ভোর ৬টা ১০ মিনিটে তুমুল গুলি চলার পর বিকট শব্দে কয়েক শ গজের মধ্যে থাকা বাড়িঘর কেঁপে উঠল। এরপর খানিকটা নীরবতা। পরক্ষণে আবারও গুলি শুরু। এরপর ৬টা ২৩ মিনিটে দ্বিতীয় দফা ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এবার পাকা ঘরের সিঁড়ির চালা অন্তত পাঁচ-সাত ফুট ওপরে উঠে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। তখন বড় ধরনের আর্তনাদ শোনা যায়। তখনো বাড়ির ৫০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে অনেক সংবাদকর্মী। ৬টা ২৩ মিনিটে প্রকট বিস্ফোরণের পর আবার পিনপতন নীরবতা। আবার কয়েক মিনিট পর কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ হলো। শেষে ৬টা ৩৫ মিনিটে প্রথম অ্যাম্বুল্যান্স আসে বাড়ির সামনে। আহত সোয়াত সদস্যদের দ্রুত নেওয়া হয় হাসপাতালে। সোয়াতের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আগের রাতে আহত হয়েছিলেন সোয়াতের চট্টগ্রাম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত উপকমিশনার মির্জা সায়েম মাহমুদ।   

ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চার জঙ্গির লাশ : সকালে ওই বাড়িতে সতর্কতার সঙ্গে ঢুকে সোয়াত টিমসহ অন্যান্য ইউনিট। ওই সময় মূল গেটে একটি বড় বোমা পড়েছিল। ছাদেও বোমা দেখতে পাওয়া যায়। জঙ্গিরা যে ফ্ল্যাটে ছিল, সেই ফ্ল্যাটের দুটি কক্ষেও বিপুল পরিমাণ বোমা-বিস্ফোরক দেখা যায়। এ ছাড়া বাড়ির বিধ্বস্ত সিঁড়ি ধরে দেখা যায় এক নারী জঙ্গির মরদেহ ইট, রড ও বস্তার স্তূপে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। কালো বোরকা অথবা থ্রিপিস পরিহিত ওই নারীর পায়ের অদূরে আরেকটি পা দেখা যায়, যেটি কোনো পুরুষের। অভিযানে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, সিঁড়ির নিচের দিকে একটি মরদেহের ছিন্নভিন্ন অংশ দেখা গেছে। শরীরের চামড়া পুড়ে ছিঁড়ে তিন-চার ফুট ঝুলে আছে। সঙ্গে শরীরের অংশও। এর মধ্যে দুটি মরদেহ চিহ্নিত করার কোনো উপায় নেই বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন। আবার নারী জঙ্গির মরদেহের সঙ্গে কোমরে সুইসাইড ভেস্ট বাঁধা আছে বলে নিশ্চিত হন বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা। কর্মকর্তারা আরো জানান, বাড়ির ছাদে দুটি পা পড়ে আছে। একটি মাথা আছে আরো কিছুটা দূরে।

গ্রিল কেটে উদ্ধার : পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে তাজা গ্রেনেড-বোমা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে আটকে পড়া লোকজনকে মূল দরজা দিয়ে বের করে আনার ঝুঁকি নেয়নি পুলিশ। তখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ফ্ল্যাটের অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের একে একে বের করে আনেন। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয় ইউপি সদস্য মো. সেলিমের পরিবারের সদস্যরা। ওই পরিবারের কয়েক সদস্যকে তাত্ক্ষণিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। এরপর দোতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে বের করে আনা হয় হাসিনা বেগমসহ (৬৫) পরিবারের ছয় সদস্যকে। টানা ১৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ওই বৃদ্ধা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবনের নিচতলায় জঙ্গি ও গ্রেনেড আছে শুনেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নিই। পরে গুলি ও গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ শুনে মনে করেছিলাম বাসা থেকে আর জীবিত বের হতে পারব না। এমন গুলি-গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ জীবনেও শুনিনি। ’

‘যেখানে হাত দিই, সেখানেই বোমা’ : বাড়ির ভেতর থেকে লোকজনকে বের করে আনার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি তল্লাশি করেন। এরপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট গিয়ে বোমা নিষ্ক্রিয়করণের কার্যক্রম শুরু করে। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটি তাজা গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ ছাড়া জঙ্গিদের আস্তানার বোমাগুলোও পর্যায়ক্রমে নিজদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিষ্ক্রিয়করণ অব্যাহত রাখে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। বাড়ির ছাদে পড়ে থাকা বড় বোমাটি সর্বশেষ বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য রাখা হয়েছিল। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সিআইডির একটি টিম বাড়ির দিকে যায়। পরে তারা ভেতর ঢুকে আলামত সংগ্রহ শুরু করে।

ঢাকা থেকে যাওয়া সিটিটিসি ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই বাড়িতে যেখানে হাত দিই, সেখানেই বোমা। বাড়িতে বোমা ও বোমা তৈরির যে পরিমাণ সরঞ্জাম পাওয়া গেছে তা দিয়ে ৪০-৫০ কেজি বোমা বানানো যাবে। এসিড, লিকুইড কেমিক্যাল ও ১২ সেট জেলসহ এক্সপ্লোসিভ পাওয়া গেছে। ’ তিনি বলেন, এখানে দুজন দক্ষ বোমারুর অবস্থান সম্পর্কে জানা গিয়েছিল। ভোরে যখন সোয়াত অভিযান শুরু করে, তখন জঙ্গিরা তিন-চার কেজি ওজনের একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। আগে কোনো ঘটনায় তিন-চার কেজি ওজনের বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। জঙ্গিরা বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির চেষ্টা করেছিল। এ জন্য আত্মঘাতী হওয়ার আগে ঘরের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন স্থানে পাইপবোমা ও হ্যান্ড গ্রেনেড ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে।  

পুড়িয়ে ফেলা হয় সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস : সিটিটিসি ইউনিট ও সোয়াত কর্মকর্তারা বলেন, রাতেই যখন জঙ্গিরা নিশ্চিত হয়ে যায়, তারা হয়তো আর রক্ষা পাবে না তখনই পূর্বপ্রশিক্ষণ অনুযায়ী ল্যাপটপসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলে তারা। অভিযানের পর জঙ্গিদের আস্তানায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পোড়া ছাই দেখেছেন তাঁরা এবং এর ছবি তুলেছেন।   

বাড়ির মালিক ও শিশু রহস্য : অভিযান শেষে যখন পুলিশ কর্মকর্তারা বাড়ির জানালা কেটে বাসিন্দাদের বের করে আনছিলেন, তখন ছয়টি পরিবারের সদস্যদের বের করে আনার তথ্য পাওয়া গেলেও একটি শিশুর বিষয়ে কোনো কথা বলছে না পুলিশ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কেউ একজন সকালেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাঁরা এক শিশুকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন। শিশুটির মা-বাবার হদিস পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা বলেন, ‘বুধবার শিশুর আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার আস্তানায় জঙ্গিদের কোনো শিশুকে পাওয়া গেছে বলে আমার জানা নেই। ’ বাড়ির মালিক নারীর অবস্থান বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভদ্রমহিলা এবং তাঁর এক ছেলে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। তবে তাঁদের নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। ’

জঙ্গি মায়ের সঙ্গে প্রাণ গেল শিশুটির : অভিযান শেষে গত রাতে ঢাকায় ফিরে আসেন সিটিটিসি ইউনিটের সদস্যরা। এই ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের প্রধান ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিকেলে চূড়ান্তভাবে লাশ সরানোর কাজ করার সময় নারী আত্মঘাতী জঙ্গির শরীরের নিচে একটি শিশুর লাশও পাওয়া যায়। হয়তো তারই মেয়ে। তারা এমন শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে যে কয়েকজনের দেহ টুকরা হয়ে গেছে। ’ তিনি জানান, অভিযানের পর ১০টি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড, বোমা বানানোর সরঞ্জাম, ১৮০ লিটার রাসায়নিক উপাদান পায় পুলিশ। পরে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

রাবার ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসাভাড়া নেয় জঙ্গিরা :  এদিকে গতকাল বিকেলে বাড়িটির মালিক রেহেনা বেগম ও তাঁর ছেলে নাছিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সীতাকুণ্ড থানায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের ভাড়াটিয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রেহেনা বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় তিনি বাসাটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে ভাড়াটিয়ারা নিজেদের রাবার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে দুটি পরিবার নিয়ে থাকার কথা জানিয়েছিল। ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছিলেন, তবে তা ঝাপসা ছিল। নিজেদের দুলাভাই-শ্যালক সম্পর্কের আত্মীয় বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন ভাড়াটিয়ারা।

 


মন্তব্য