kalerkantho


এফবিসিসিআই নির্বাচন

সরে দাঁড়াচ্ছেন জসিম, নতুন নেতা মহিউদ্দিন!

এম সায়েম টিপু   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সরে দাঁড়াচ্ছেন জসিম, নতুন নেতা মহিউদ্দিন!

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অনেকটাই দমে গেছেন আরেক সভাপতি প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন। এর আগেরবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেবার সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে এবারের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। অথচ এবারও সে ধরনের কোনো ইঙ্গিত না পাওয়ায় তাঁর  সমর্থকরা হতাশ।

একাধিক ব্যবসায়ী নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, বিজিএমইএর সভাপতির মেয়াদ শেষে এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির প্রথম সহসভাপতি হন সফিউল ইসলাম। এর আগে তিনি এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত ছিলেন না। আর মো. জসিম উদ্দিন এফবিসিসিআইয়ে হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার এ কে আজাদের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রথম সহসভাপতি ছিলেন। পরের নির্বাচনে সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ দেখানোয় তাঁকে থামিয়ে দিয়ে তখন সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, পরে (এবার) তাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে।

দুই প্রার্থীর ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই উভয় পক্ষ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। প্রথম দিকে তাঁদের কেউই সরকারের আনুকূল্য পাননি।

পরে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের পক্ষে বিজিএমইএর সাবেক ও বর্তমান নেতারা জোটবদ্ধ হয়ে সরকারের সমর্থন পেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। জসিম উদ্দিনের পক্ষেও একটি গ্রুপ সক্রিয় ছিল। সফিউল ইসলাম সরকারের সমর্থন পেয়েছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হতাশ জসিম উদ্দিন শেষ পর্যন্ত এফবিসিসিআই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে জানা গেছে। এক মেয়াদে প্রথম সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই নেতা প্রেসিডেন্ট ছাড়া অন্য কোনো পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী নন। নেতা নির্বাচনের সুযোগ না থাকায় এরই মধ্যে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী নেতাসহ সংগঠনটির ভোটারদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বছরের শুরু থেকে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, জসিম উদ্দিন সমর্থকরা হাত গুটিয়ে নেওয়ায় গত কয়েক দিনে তাতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আর মহিউদ্দিনের উত্ফুল্ল সমর্থকরা রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আজ শুক্রবার মিলনমেলার আয়োজন করেছে।

পুরান ঢাকা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু মোতালেব কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আজ পুরান ঢাকায় একটি মিলনমেলা হবে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারাও থাকবেন। তবে মহিউদ্দিন অনুষ্ঠানটিকে ‘মিলনমেলা’ বলতে নারাজ। তিনি এটিকে নির্বাচনী প্রচারণার সভা বলে জানিয়েছেন।

সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং সমিতিগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। ’

এসব বিষয়ে কথা বলতে মো. জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে দুই দিন আগে কালের কণ্ঠকে তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন বিষয়ে কিছু বলবেন না।

এফবিসিসিআইয়ের একজন পরিচালক কালের কণ্ঠকে জানান, আগামী নির্বাচনে মহিউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হচ্ছেন ভেবে যাঁরা জসিম উদ্দিনের প্যানেলে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ তদবির করে এখন প্যানেল বদল করছেন।

গত  ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে সংগঠনটি। নির্বাচন বোর্ডের প্রধান করা হয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফকে। আর নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন।

এফবিসিসিআই বাংলাদেশের এলাকাভিত্তিক চেম্বার ও পণ্যভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ফেডারেশন। এবারের নির্বাচনে ৬০ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে চেম্বার থেকে ৩০ এবং অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩০ জন আসবেন। তাঁদের মধ্যে ১২ চেম্বার ও ১২ অ্যাসোসিয়েশন থেকে ২৪ জন পরিচালককে সরাসরি সরকার মনোনয়ন দেয়। বাকি ৩৬ পদে নির্বাচন হয়। নির্বাচিত ও মনোনীত ৬০ পরিচালক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত করেন।

এবারের নির্বাচনে সভাপতি হবেন অ্যাসোসিয়েশন থেকে। প্রথম সহসভাপতি হবেন চেম্বার ও সহসভাপতি হবেন অ্যাসোসিয়েশন থেকে।


মন্তব্য