kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী বললেন

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে কখনো হবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে কখনো হবে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিভিন্ন সংস্থার বিজ্ঞানী, গবেষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ ও বিশেষ অনুদান প্রদান করেন। ছবি : বাসস

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার এ ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে কখনোই হবে না। এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা আরো নেব। ’ ছেলেমেয়েরা যাতে বিপথগামী হয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে না জড়ায় সেদিকে অভিভাবক ও শিক্ষকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপ ও বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। দেশে না, বিদেশেও যারা পড়াশোনা করে,  তারা তাদের মেধার দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছে। তাই, এরা কেউ যেন বিপথে না যায়, এ ধরনের জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকে, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার জন্য শিক্ষক-অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমি আবেদন জানাচ্ছি। ’

‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তিকে’ বিশ্বব্যাপী নতুন উপসর্গ হিসেবে বর্ণনা করে এসবের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সকলে এ ব্যাপারে যদি একটা সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন, তাহলে আমরা দেশকে নিশ্চয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে সক্ষম হব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ যদি আমরা গড়তে চাই তাহলে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, গবেষণা বাড়ানো এবং বিজ্ঞানের চর্চা বৃদ্ধি করা। ’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা বায়ো-টেকনোলজিক্যাল সায়েন্স, মেডিক্যাল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপলায়েড সায়েন্স এবং খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে গুরুত্ব প্রদান করেছি। ’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা আজ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশ, মৎস্য উৎপাদনে (মিঠা পানির মাছ) উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছি। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাংসসহ অন্যান্য শস্য উৎপাদনেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ’ তিনি বলেন, ‘এসব উন্নয়ন এমনিতেই হয়নি, আমি বলব সবই বিজ্ঞানের অবদান, গবেষণার অবদান। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই সবাই এই গবেষণার কাজ আরো মনোযোগের সঙ্গে করবেন। যাঁরা সত্যিই গবেষণা করে কোনো ফল জাতিকে দিতে পারবেন তাঁদের জন্য আমাদের চিন্তাচেতনাতেই আছে আরো বেশি সহযোগিতা করে যাওয়া। আমরা তা করে যাব। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সীমিত সম্পদ এটা ঠিক। কিন্তু আমি মনে করি, পরিকল্পিতভাবে সীমিত সম্পদ যদি আমরা ব্যবহার করতে পারি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে এটার ব্যবহার যদি নিশ্চিত করতে পারি তাহলে আমাদের কারো মুখাপেক্ষী হয়ে চলতে হবে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বসভায় এগিয়ে যাব। এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। ’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ জন্য আমাদের প্রচুর বিজ্ঞানী দরকার। পরমাণু শক্তি কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য পরমাণু জ্ঞানসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের আমাদের দরকার হবে। এ জন্য প্রশিক্ষণও দরকার, এই কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন এই বিজ্ঞান শিক্ষার দিকে ভবিষতে এগিয়ে আসে। ভবিষ্যতে যেন তারাই এগুলো পরিচালনা করতে পারে। সেদিকে আমরা দৃষ্টি দিতে চাচ্ছি। ’

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপের অনুদানের চেক নেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব বেগম জহুরা খাতুন ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক তানভীর হাসান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শাহীন আখতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কবীর উদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল সায়েন্স বিভাগের ড. মোহাম্মদ মনীরুজ্জামান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু বিন হাসান গবেষণা অনুদানের চেক নেন।

এক হাজার ৭০২ জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের অনুদানের চেক নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত ও কেমিকৌশল বিভাগের আশীষ কুমার বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বেগ ফাহমিদা সুলতানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কেয়া মজুমদার ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি গবেষক আবদুল্লাহ আল মোবিন।

২০০৯-২০১০ থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী ও গবেষকের মধ্যে ৩৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার ফেলোশিপ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৭০২ জন শিক্ষার্থী ও গবেষককে ৯ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক। বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সিরাজুল হক খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।


মন্তব্য