kalerkantho


ব্যবসায়ীদের ৬১৫ কোটি টাকা ফেরত দিতেই হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্যবসায়ীদের ৬১৫ কোটি টাকা ফেরত দিতেই হবে

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। তিন মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়া বিষয়ে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা আবেদন গতকাল খারিজ করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে এখন টাকা ফেরত দিতে হবে।    

প্র্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এ রায়ের ফলে ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ১৮৯ কোটি টাকা, বসুন্ধরা পেপার মিল লিমিটেড ১৫ কোটি, মেঘনা সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ৫২ কোটি, এস. আলম স্টিল লিমিটেড ৬০ কোটি, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড ৩৫ কোটি, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড ১৭ কোটি ৫৫ লাখ, বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড সাত কোটি ১০ লাখ, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড ৯০ লাখ, ইউনিক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড ৭০ লাখ, ইউনিক গ্রুপের মালিক নূর আলী ৬৫ লাখ এবং দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কম্পানি লিমিটেড ও  ভারাউরা টি কম্পানি লিমিটেড ২৩৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ফেরত পাবে।

রায়ের পর রিট আবেদনকারীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আহসানুল করীম সাংবাদিকদের বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় অবৈধভাবে অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। ওয়ান-ইলেভেন কুশীলবদের চাপে এ টাকা জমা দিতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে যাঁরা টাকা ফেরত চেয়ে আদালতের দারস্ত হয়েছেন অর্থাৎ যাঁরা মামলা করেছেন তাঁরাই টাকা ফেরত পাবেন।

তবে কবে এবং কিভাবে তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে তা পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হবে। ওই রায় পাওয়ার পরই বিষয়টি জানা যাবে। তিনি বলেন, অন্যরা টাকা ফেরত পেতে চাইলে তাঁদেরও আদালতে আবেদন করতে হবে।

ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এত টাকা সরকার কোথা থেকে ফেরত দেবে তা চিন্তার বিষয়। রিভিউ আবেদন করা হবে কি না সে বিষয়ে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই অর্থ ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক ১১টি রিট আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে রিট আবেদনকারীদের ওই টাকা তিন মাসের মধ্যে ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় হাইকোর্টের দেওয়া এ রায় স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদন করলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) আবেদন করতে বলা হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট আপিল করার অনুমতি দেন। এরপর আপিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ আপিলের ওপর ১৫ মার্চ শুনানি শেষ হওয়ায় গতকাল রায় দিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ক্ষমতা নেয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সময় দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক হাজার ২৩২ কোটি টাকা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়। এ টাকা দুই শতাধিক পে-অর্ডারের মাধ্যমে সরকারের ০৯০০ নম্বর হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিষয়ে রায় হলো।

২০১০ সালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল প্রায় এক হাজার ২৩২ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা আছে।

 


মন্তব্য