kalerkantho


পুলিশপ্রধানদের সম্মেলনে ১৭ দফা ঘোষণা

জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস দমনের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস দমনের অঙ্গীকার

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রভৃতি আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চিফস অব পুলিশ কনফারেন্স। তিন দিনের এ সম্মেলনে বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো।

গতকাল মঙ্গলবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে যেসব জঙ্গি আছে, তারা হোমগ্রোন। এ দেশে কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নেই। তার পরও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো জঙ্গি সংগঠনের কেউ এ দেশের কাউকে প্রভাবিত না করতে পারে।

সোনারগাঁও হোটেলে ১৪টি দেশের পুলিশপ্রধান ও ইন্টারপোলসহ কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ সম্মেলন হয়। গতকাল শেষ দিনে যৌথ ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হয়। এর সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলতে ভোটার আইডি বা পাসপোর্ট ব্যবহারের যে প্রস্তাব বাংলাদেশ পুলিশ দিয়েছিল তা নাকচ করে দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ সূত্র জানায়, যৌথ ঘোষণায় ১৭টি দফা রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন চিহ্নিত করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বৈশ্বিক সংস্থার মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক বাড়ানো, আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনের কৌশল উদ্ভাবন, ইন্টারপোলের সদস্যদের মধ্যে এনসিবির মাধ্যমে ওয়ান টু ওয়ান কমিউনিকেশন বাড়ানো, পুলিশপ্রধানদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য প্ল্যাটফর্ম গঠন, সন্ত্রাস মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তথ্য বিনিময়, সন্ত্রাসবাদসহ আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনে তথ্য-প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন, ফরেনসিক ল্যাবরেটরি ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম ও আর্থিক অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আইন-শৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে অপরাধ দমনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে যৌথ সিম্পোজিয়াম ও প্রশিক্ষণের আয়োজন।

সম্মেলন চলার সময় মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রুনেই, আফগানিস্তান এবং ইন্টারপোল ও ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ পক্ষের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।

সম্মেলনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান, অস্ত্রপাচারবিষয়ক অপরাধ দমনের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় সবাই একই কৌশল অবলম্বন করবেন বলে জানান।

সম্মেলনে ইন্টারপোলের আওতায় এ অঞ্চলের পুলিশপ্রধানদের নিয়ে একটি ফোরাম গঠন করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে তথ্য আদান-প্রদানসহ সব ধরনের সহযোগিতার জন্য একটি প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ সীমান্তে অপরাধ দমন করার জন্য তথ্য সরবরাহ করবে।

সম্মেলন শেষে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে তথ্য বিনিময়ের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকা জঙ্গি ধরে হস্তান্তরের জন্য দেশগুলো কাজ করবে। ফেসবুকের মাধ্যমে জঙ্গিবাদকে ছড়াচ্ছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হচ্ছে। এসব বিষয় কিভাবে মোকাবেলা করা যায় সে ব্যাপারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে অবগত ছিল না, এখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ফেসবুক খুলতে ভোটার আইডি বা পাসপোর্ট বা অন্য কোনো পরিচয়পত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে। তাদের সঙ্গে একটি চুক্তিও করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের নীতিমালায় এসংক্রান্ত ধারা নেই বলে চুক্তি হয়নি। তবে তারা বলেছে, পুলিশ অপরাধ দমনে সহযোগিতা চাইলে তারা তা করবে। ফেসবুক বাংলাদেশ পুলিশে একজন ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে। তিনিই ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। ’

সমাপনী অনুষ্ঠানে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্য ও সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পুলিশের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা জানান, সম্মেলন শেষ হওয়ার পর মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু ও মাদক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সে দেশের ইয়াবা কারখানার একটি তালিকা তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 


মন্তব্য