kalerkantho


দিনাজপুরে নারী মুরিদসহ পীরকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দিনাজপুরে নারী মুরিদসহ পীরকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় ঘরে ঢুকে কথিত এক পীর ও তাঁর নারী মুরিদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের দৌলাগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে সে বিষয়েও কোনো ইঙ্গিত দিতে পারেনি তারা।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই পীরের নাম ফরহাদ হোসেন চৌধুরী (৬০)। তিনি সেতাবগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দিনাজপুর পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি থেকে একবার নির্বাচনও করেছিলেন। দিনাজপুর বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতিও ছিলেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে তাঁর। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পীর পরিচয়ই বেশি দিতেন তিনি। লোকজনও তাঁকে সে ভাবেই চিনত।

নিহত নারীর নাম রুপালি বেগম (২২)। তাঁর বাড়িও একই গ্রামে। ফরহাদ হোসেনের মুরিদের পাশাপাশি ওই বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজও করতেন।

প্রতিবেশীরা জানায়, ফরহাদ হোসেন বাড়িতে পীরের আখড়া গড়ে তুলেছিলেন। বাড়িটি ‘দৌলা দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত। আট-দশ বছর ধরে এ আস্তানা চলছে। সপ্তাহে এক দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে মুরিদরা জিকির-আজকার করতেন। এ ছাড়াও প্রায়ই তাঁরা জিকিরের জন্য আস্তানায় জমায়েত হতেন। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিকিরের সময় দুর্বৃত্তরা ঘুরে ঢুকে হামলা চালায়। তারা প্রথমে ফরহাদ হোসেন ও ওই নারীকে এলোপাতাড়ি কোপায়, পরে গুলি করে হত্যা করে।

দৌলা দরবার শরিফের খাদেম সায়েদুল বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে দরবারের জিকির ও মিলাদ হতো। জিকিরে অংশ নিতে সুমি (৫২) নামের এক মুরিদ রাতে দরবারে আসেন। দীর্ঘক্ষণ হুজুরকে (ফরহাদ) ঘুমিয়ে থাকতে দেখে তিনি আমাকে ডাক দেন। আমি এসে দেখি হুজুরের রক্ত মাখা লাশ। পরে পরিবারের অন্যদের খোঁজ নিতে গিয়ে পাশের একটি কক্ষে গৃহকর্মী রুপালিকেও মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। ’ খবর পেয়ে রাতে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বোচাগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম প্রধান

জানান, রাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আলামত সংগ্রহ করে লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাত্ক্ষণিক জানা যায়নি। ধরন দেখে মনে হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্লগার, বিদেশি নাগরিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলার বেশি কয়েকটি ঘটনা ঘটে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে পুরান ঢাকার গোপীবাগে কথিত পীর লুত্ফর রহমান ফারুকসহ ছয়জনকে জবাই করে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরের বছর আগস্টে রাজধানীর পান্থপথে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী এবং ২০১৫ সালের অক্টোবরে বাড্ডা এলাকায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকেও জঙ্গিরাই হত্যা করে। ২০১৬ সালে উত্তরাঞ্চলে কথিত পীরসহ ভিন্নমতাবলম্বী লোকজনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৫টি জেলায় ১৪ জনকে হত্যা, ৪ জনকে হত্যাচেষ্টা এবং ছয়টি হামলা হয়েছে ধর্মীয় উৎসাব ও স্থাপনায়। হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দু পুরোহিত, সাধু, খ্রিস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষু, বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা, পীরের অনুসারী, মাজারের খাদেম, শিয়া অনুসারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি, ব্লগার এবং সমকামীদের অধিকারকর্মী। ২০১৫ সালের নভেম্বরে দিনাজপুর সদরে পেশায় চিকিৎসাক এক ইতালীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। আহত পিয়েরো পারোলারি (৭৮) সেখানে সুইহারি ক্যাথলিক চার্চের ফাদার ছিলেন।


মন্তব্য