kalerkantho


তিস্তা নিয়ে এখনো অনৈক্যের সুর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তিস্তা নিয়ে এখনো অনৈক্যের সুর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভারত সফরের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকলেও এ দেশের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে এখনো ইতিবাচক কোনো খবর মিলছে না। গতকাল সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগেই তিস্তা বিষয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য হবে বলে কি বাংলাদেশ আশা করতে পারে? জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘সব কিছুতেই কাজ এগিয়ে চলছে।

আমাদের দেখতে হবে কোনটি সম্ভব আর কোনটি সম্ভব নয়। ’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের কথা থাকলেও তা থেকে পিছিয়ে যায় ভারত। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্যের মাধ্যমে ভারত এ চুক্তি করবে বলে বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ঐক্যের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফরকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার গতকাল বলেন, পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে সফরের প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় পক্ষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি তাঁর নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সাধারণত বিদেশি সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধানরা রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকেন না। এটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

তিনি আরো বলেন, ‘সফরের এখনো কিছুটা সময় আছে। তাই এ ব্যাপারে আরো অনেক সিদ্ধান্ত হওয়ার বাকি। আমরা সম্ভাব্য বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। ’

সফরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করার কারণ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম দেশের সরকারপ্রধানের সফর। এটি এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমান্ত।

এটি এমন দেশ, যার সঙ্গে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সহযোগিতার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে স্থল ও সমুদ্রসীমার সমাধান করেছি। ’

সফরের তারিখ ঠিক হয়েছে কি না—জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সফরের তারিখ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই ঘোষণা করবে।

গঙ্গা ব্যারাজ প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে সহযোগিতা বেশ ভালো। আমরা ইতিমধ্যে প্রথম বৈঠকে যৌথ কারিগরি কমিটি করেছি। আমরা কমিটির কার্যপরিধি বিনিময় করেছি। অবশ্যই এর প্রভাব নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। বাংলাদেশে এর প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা হয়েছে, ভারতেও সমীক্ষা চালাতে হবে। কাজ এগিয়ে চলছে। এটি কারিগরি প্রক্রিয়া। আর আমরা এ প্রক্রিয়া চালাতে সম্মতি দিয়েছি। ’

সফরের ফলাফল কী হবে জানতে চাইলে হাইকমিশনার বলেন, ‘অবশ্যই ফলাফল থাকবে। এ পর্যায়ের সফর ফলাফল ছাড়া হতে পারে না। আমরা আশা করি, সফর সন্তোষজনক হবে। ’ তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সফর দুই দেশের জনগণের জন্যই অভিন্ন অর্থ বহন করে। তাদের জীবন এতে প্রভাবিত হয়। এ পর্যায়ে আমি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না। ’

ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি আপনারা বলছেন। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ’

সফরের সম্ভাব্য বড় এজেন্ডাগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এ ধরনের সফরে আমরা অনেক ইস্যু দেখে থাকি। কিছু প্রতীকী ইস্যু আছে। ১৯৭১ সালে আমরা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি। বাংলাদেশের মাটিতে অনেক ভারতীয় সেনা মারা গেছেন। আবার একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে চলেছেন। আমাদের দুই দেশের প্রবীণ এই যোদ্ধাদের কিভাবে সম্মানিত করতে পারি এবং তাঁদের যেন আমাদের দুই দেশকে একতাবদ্ধ করতে অনুপ্রেরণা হিসেবেই থাকা নিশ্চিত করতে পারি—এ ধরনের ইস্যু আসবে। ’

শ্রিংলা বলেন, ‘গত রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের শীর্ষ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও থাকেন। ব্যবসার সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারস্পরিক বিনিয়োগ সহযোগিতার মতো বিষয়েও আমরা তাকিয়ে আছি। ’


মন্তব্য