kalerkantho


হাইকোর্টের আদেশ

ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালত কক্ষে হাজির নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালত কক্ষে হাজির নয়

ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে কোনো আসামিকে আদালত কক্ষে হাজির করা যাবে না বলে কারা কর্মকর্তাদের প্রতি আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার পথে আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো যাবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

   

গতকাল সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দা সাবিনা আহমেদ মলি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে চার আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে হাইকোর্টে হাজির করার ঘটনায় ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলাম নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় আদালত তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

তবে ভবিষ্যতের জন্য তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে হাইকোর্টের এক আদেশে ৯ মার্চ সশরীরে হাজির হয়ে ঢাকার ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলামকে আসামিদের ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু দেশের বাইরে থাকায় নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তাঁর পক্ষে আদালতে ব্যাখ্যা দেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির। তাঁর ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘চার আসামির সবাই জেএমবির সদস্য। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী তাদের ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল।

’ এ অবস্থায় দেশে ফিরে ঢাকার ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর কবির গতকাল সকালে হাইকোর্টে হাজির হন।

তৌহিদুল ইসলাম আদালতকে জানান, পুলিশের চাহিদা অনুযায়ীই আসামিদের ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এটা করা হয়। ব্রিটিশ আমল থেকেই এটা করা হচ্ছে।

জবাবে আদালত বলেন, কোনো আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করা যাবে না। এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আছে।

তখন তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ রায়ের তথ্য আমার জানা ছিল না। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এ রকম আর হবে না। আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবেন তাই করা হবে। ’ এ পর্যায়ে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ওই চারজন জেএমবি সদস্য। তাই পুলিশের চাহিদা অনুযায়ীই কারাগার থেকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়। বাইরে এটা খোলার কোনো সুযোগ বা ব্যবস্থা নেই।

জবাবে আদালত বলেন, ‘ব্যবস্থা নেই বললেই হবে না। ব্যবস্থা করতে হবে। ’ এরপর আদালত দুই কারা কর্মকর্তাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে আদেশ দেন।

এর আগে এক দশকের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ১০ জনের তথ্য গত ৭ ফেব্রুয়ারি আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা সাবিনা আহমেদ মলি। এরপর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই বন্দিদের হাইকোর্টে হাজির করা হয়। আদালত পর্যায়ক্রমে তাদের বক্তব্য শোনেন। এর মধ্যে ২০০৫ সাল থেকে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় জামালপুর জেলার চরচড়সী গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল, সাতক্ষীরা পশ্চিমপাড়ার ইটাগাছা থানার মৃত কেরামত আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান মুন্না, সাতক্ষীরার ইসলামপুরের দলিল উদ্দিনের ছেলে নাসিরুদ্দিন ও সাতক্ষীরার ওমর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিনকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আনা হয়। এরপর আদালত ডিআইজি প্রিজনকে ৯ মার্চ উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিলেন ঢাকার ডিআইজি প্রিজন।


মন্তব্য