kalerkantho


বিজিএমইএ ভবনের মেয়াদ আর ৬ মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিজিএমইএ ভবনের মেয়াদ আর ৬ মাস

রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পের বেগুনবাড়ী খালের ওপর নির্মিত বিজিএমইএ ভবনে থাকা কার্যালয় সরাতে বিজিএমইএকে ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন।

বিজিএমইএ তাদের কার্যালয় সরাতে আদালতের কাছে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। তাদের আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ ছয় মাসের সময় দেন।

আদালতের এই আদেশের পর বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই রাজধানীর উত্তরায় সংগঠনের কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে ভবন ভাঙা নিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনো তাঁরা কিছু চিন্তা করেননি।

গতকাল আদালতে বিজিএমইএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। রাজউকের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আদালতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগ বিজিএমইএকে ছয় মাসের সময় দিয়েছেন। আদেশের দিন (গতকাল) থেকেই এই দিন গণনা শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের ভবন ছাড়তে হবে।

এরপর সেটি ভেঙে ফেলতে হবে।

তবে এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে থাকা বেলার প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এই ভবন ভাঙতে ছয় মাসের বেশি সময় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে ভবনটি ভাঙতে হবে। ’

আরেক অ্যামিকাস কিউরি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটি ভাঙতে আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবারও প্রমাণিত হলো কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

তিন বছর সময় চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে গতকাল শুনানিতে বিজিএমইএর আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী আদালতে বলেন, ‘বিজিএমইএ কার্যালয়ের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। জমি খোঁজা, জমি পাওয়া গেলে সেখানে ভবন তৈরি, ডেকোরেশন (সাজসজ্জা) এবং এই ভবন থেকে আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে তিন বছর সময় প্রয়োজন। ’

তখন আদালত বলেন, ‘আপনারা অফিস সরানোর কথা বলছেন বারবার। কেন, দুইটা বাড়ি ভাড়া নিয়ে অফিস স্থানান্তর করা যায় না? আপনারা সরকারকে গুলশানে বাড়ি ভাড়া করে দিতে বলতে পারতেন। কিন্তু তা না করে সময় চাচ্ছেন। ’ আদালত আরো বলেন, ‘ভবন ভাঙার জন্য ২০১১ সালে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল। ওই রায়ের পর কেন এত দিন বসেছিলেন? এরপর ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগ তা বহাল রেখেছে। আপনারা অনেক সময় পেয়েছেন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে আপনারা সরানোর কোনো চেষ্টাই করেননি। ’ পরে আদালত বিজিএমইএকে তাদের কার্যালয় সরাতে ছয় মাস সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।

ওই পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, ছয় মাস কম সময়। এক বছর করা যেতে পারে। কিন্তু আদালত ছয় মাস সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এরপর আদালত বিজিএমইএর আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।

এর আগে ভবন ভাঙার রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএর করা রিভিউ আবেদন গত ৫ মার্চ খারিজ করেন আপিল বিভাগ। এরপর বিজিএমইএ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে ওই আবেদন করে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ভবন নির্মাণ করা নিয়ে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনির উদ্দিন আদালতে উপস্থাপন করেন। পরদিন হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সেটি ভেঙে ফেলতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভবন ভাঙার খরচ বিজিএমইএর কাছ থেকে আদায় করতে বলা হয়। এ ছাড়া যাদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়েছে তাদের টাকা (লভ্যাংশ ছাড়া) ফেরত দিতে বলা হয়।

গত বছর ৮ ডিসেম্বর বিজিএমইএ রিভিউ আবেদন দাখিল করে। ৫ মার্চ এ রিভিউ আবেদন খারিজ করেন আপিল বিভাগ। এরপর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ এ ভবনকে তাদের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে। এর চারটি ফ্লোর বিজিএমইএর দখলে। বাকি ১২টি ফ্লোর বিক্রি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে।

বিজিএমইএর সংবাদ সম্মেলন : আদালতের দেওয়া রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকালই বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই রাজধানীর উত্তরায় সংগঠনের কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে ওই ভবনে ফ্লোর কেনা অন্যদের কী হবে সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মো. আব্দুর রহিম।

বিজিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, এটি একটি জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও জনগণের। কারণ এ খাতে দেশের ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। এর অধিকাংশই নারী শ্রমিক। তাদের জীবনমান উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখছে পোশাক খাত। তাই এই খাতের ভাবমূর্তি রক্ষায় আদালতের রায়কে মাথা পেতে নিয়েছেন তাঁরা।


মন্তব্য