kalerkantho


নৌবাহিনীর সাবমেরিন যুগ শুরু

আত্মরক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নৌবাহিনীর সাবমেরিন যুগ শুরু

নৌবাহিনীতে যোগ হলো সাবমেরিন ‘জয়যাত্রা’ ও ‘নবযাত্রা’। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জয়যাত্রার’ অধিনায়কের কাছে কমিশনিং ফরমান হস্তান্তর করেন। ছবি : আইএসপিআর

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন যুগে পদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের দিনটি শুধু বাংলাদেশ নৌবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ দিন। বাংলাদেশের জন্য নৌবাহিনীর গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৌবাহিনীকে নেভাল এনসাইন প্রদান করেছিলেন এবং দেশের প্রয়োজনে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। জাতির পিতার দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আজকে আমরা সাবমেরিন সংযুক্ত করতে পেরেছি। ’

গতকাল রবিবার দুপুরে চট্টগ্রামের নৌঘাঁটি ঈশা খাঁয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম দুটি সাবমেরিন ‘বানৌজা নবযাত্রা’ ও ‘বানৌজা জয়যাত্রা’র কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যে সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশ নৌবহরে যুক্ত হয়েছে, দেশের সংকটময় মুহূর্তে এ দুটি সাবমেরিন আত্মরক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বহিঃশত্রুর আগ্রাসন থেকে দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারে সাবমেরিন দুটি অভূতপূর্ব সক্ষমতা যোগ করেছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের মাত্র গুটিকয়েক দেশ সাবমেরিন পরিচালনা করে থাকে। সেই তালিকায় আজ থেকে বাংলাদেশের নাম স্থান পাবে। এটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার একটি বিষয়। ১৯৭১ সালের এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সমগ্র বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করে প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে। আজ সেই মার্চ মাসে আমাদের সবার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন—ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের অংশ হিসেবে দুটি সাবমেরিন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজন করতে পেরে আমি আনন্দিত।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে পৌঁছলে নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম নৌঘাঁটির কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. আবু আশরাফ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

নৌবাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রী পরে নৌ কমান্ডোদের মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি এ সময় সাবমেরিন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় সহায়তার জন্য স্থাপনার উদ্বোধন এবং বিএনএস শেখ হাসিনা নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সাবমেরিন ঘাঁটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী সাবমেরিন দুটি ঘুরে দেখেন। সাবমেরিনের যাবতীয় সক্ষমতার বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা হয়।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সম্পাদক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক, কূটনীতিক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমাদের সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নৌবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। নৌবাহিনীকে নিয়ে সুদূরপ্রসারী চিন্তা বাস্তবায়নের ফলে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদাসম্পন্ন বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দুটি সাবমেরিনকে আধুনিকায়ন, সাবমেরিনের সকল ক্রুকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং হস্তান্তর পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে চীন বাংলাদেশের প্রতি যে অকৃত্রিম সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল তার জন্য আমি গণচীনের সরকার, নৌবাহিনী ও সর্বোপরি গণচীনের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সাবমেরিনারদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীনা নৌবাহিনীর যে সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তাঁদেরও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাবমেরিন সংযোজনের সঙ্গে সঙ্গে এর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয় জড়িত আছে। সাবমেরিনের জন্য পৃথক ঘাঁটি নির্মাণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি সত্যিকারের ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি আমি আপনাদের দিয়েছিলাম তা আজ পূরণ হলো। ’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। তবে শান্তিপ্রিয় বলে অন্যায় ও অবিচারকেও বাঙালি কখনো মেনে নেয়নি। দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে, জাতির আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আমরা কোনো দিন আপস করিনি। ভবিষ্যতেও যেন কোনো অবস্থায় আমাদের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত না হয় সে জন্য একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী আমাদের প্রয়োজন। ’

সাবমেরিনারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম দুটি সাবমেরিনের ক্রু হতে পারায় আপনাদের সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই। এটি একটি বিরল সৌভাগ্য ও সম্মানের বিষয়। আমি জানি, সাবমেরিন পরিচালনার কাজটি যেমন ঝুঁকিপূর্ণ তেমনি অত্যন্ত গর্বেরও বটে। ’


মন্তব্য