kalerkantho


ট্যানারি সরানোর চূড়ান্ত আদেশ তবু বাহানা

এম বদি-উজ-জামান ও তৌফিক মারুফ   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ট্যানারি সরানোর চূড়ান্ত আদেশ তবু বাহানা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে হাজারীবাগে চালু রাখা সব ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধ করতেই হচ্ছে। এসংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত রাখার জন্য ট্যানারি মালিকদের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে হাজারীবাগে চালু সব ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধের আদেশ বহাল রইল। একই সঙ্গে সব ট্যানারি থেকে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশও বহাল থাকল। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন।

এদিকে সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পরও আগের মতোই টালবাহানা আর বায়নার বুলি এখনো ফুটছে রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি মালিকদের মুখে মুখে। আরো কিছুদিন সময় বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পথ খুঁজছেন তাঁরা। আদালতের আদেশের পর গতকালও তাঁরা ট্যানারিগুলোতে চালু রাখে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের নানা কাজ। আনা-নেওয়া চলে চামড়ার চালান। গতকাল বিকেল পর্যন্ত ট্যানারি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

অবশেষে সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত আদেশ : গত ৬ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত রাখতে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলইএ) আবেদন করেছিল।

আদালতে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

গতকাল আদালতে শুনানিতে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্ষতিপূরণের সব টাকা দেয়নি সরকার। তিনি বলেন, সাভারে নির্ধারিত স্থানে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তরিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেই। ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে সেখানেও। কিন্তু এ নিয়ে বেলার কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা বিষয়টি আদালতের নজরে আনছে না। তিনি বলেন, এ শিল্পের সঙ্গে অনেক মানুষের রুটি-রুজির সম্পর্ক। হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হলে শ্রমিক-কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়বে। তারা এবং মালিকপক্ষ বিরাট ক্ষতির মুখে পড়বে। এ শিল্প হুমকির মুখে পড়বে।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, এটা নতুন মামলা নয়। আপনারা অনেক সময় পেয়েছেন। আদালত অনেক আগেই আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেটা কার্যকর করতে গড়িমসি করছেন। উই আর স্যরি।

এ পর্যায়ে ব্যারিস্টার তাপস জুন পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রাখার জন্য আবেদন জানান। আদালত সে আবেদন খারিজ করে দেন।

গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট এক আদেশে হাজারীবাগে চালু থাকা সব ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধের এবং একই সঙ্গে সব ট্যানারি থেকে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের ওই নির্দেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে স্বরাষ্ট্র ও শিল্পসচিব, পুলিশের আইজি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বলা হয়। এই আদেশ বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ বন্ধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সহযোগিতা করছে কি না তা জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। আগামী ১০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

এই আদেশ স্থগিত রাখতে গত ৯ মার্চ ট্যানারি মালিকপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে। এই আদালত বিষয়টি ১২ মার্চ শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এই অবস্থায় নির্ধারিত দিনে গতকাল সকালে শুনানি হয়। শুনানি শেষে ট্যানারি মালিকদের আবেদন খারিজ করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।  

ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় ট্যানারিশিল্প হাজারীবাগ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হাইকোর্ট ২০০১ সালে রায় দেন। পরে ২০০৯ সালের ২৩ জুন আদালত এক আদেশে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারিশিল্প স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরে সরকারের আবেদনে এ সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ান আদালত। সর্বশেষ ২০১০ সালের ৩০ অক্টোবর ছয় মাস সময় বাড়ানো হয়। আদালতের এই সময় ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। এর পরও হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানো হয়নি। আদালতের অনুমতি ছাড়াই সরকার ট্যানারি মালিকদের দফায় দফায় সময় দেয়। সর্বশেষ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সব ট্যানারি সরিয়ে নিতে সরকার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করে বেলা। এই আবেদনে ৬ মার্চ আদেশ দেন আদালত।

এর আগে ট্যানারিশিল্প হাজারীবাগ থেকে না সরানোয় আদালত অবমাননার আবেদন করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। এই আবেদনে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল হাইকোর্ট সে সময়কার ও সাবেক মিলে ৯ শিল্পসচিব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সে সময়কার ও সাবেক মিলে সাত মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট গত বছরের ১৬ জুন এক আদেশে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত পরিবেশদূষণের ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১৫৪টি ট্যানারির মালিককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন আপিল বিভাগে আবেদন জানালে আপিল বিভাগ গত বছরের ১৮ জুলাই এক আদেশে জরিমানা কমিয়ে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জমা দিতে নির্দেশ দেন। শিল্পসচিবকে এই অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এ নির্দেশ যথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় আবারও হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করে এইচআরপিবি। গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে তলব করেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শিল্পসচিব হাজির হয়ে আদালতকে জানান, বকেয়া জরিমানা দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ২ মার্চ হাইকোর্ট জরিমানার বকেয়া টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে মালিকদের নির্দেশ দেন।

সরেজমিন হাজারীবাগ : ‘কই যামু? কেমনে যামু! পানি কই? বিদ্যুৎ কই? গ্যাসের কী অইবো? আইজকার পর যে আমগো সবার বিদেশি অর্ডার বাতিল অইয়া যাইবো, কোটি কোটি টাকার লোকসান অইবো—এইডার ক্ষতি কাডামু কেমনে? তবু কইতাছি আইজকাই যামু, সরকার অক্ষণে সব রেডি কইর‌্যা দেউক। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তো এহনও কোনো উপায় অয় নাই, সব কিছুই আধাখেচরা, সরকারই তো আমগোর যাওনের পথ আটকাই রাখছে, সব কিছুতে দেরি, ধীরে ধীরে করে!’ গতকাল উচ্চ আদালতের আদেশের পরও এ ধরনের কথা শোনা গেছে ট্যানারি মালিকদের মুখে। মালিক-শ্রমিকরা কারখানায় ও আশপাশের বিভিন্ন অলিগলিতে, চায়ের দোকানে বসে যে যেভাবে পারছে গালমন্দ করে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও গণমাধ্যমকে। তাদের ভাষায়—ট্যানারি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের মাধ্যমে চামড়াশিল্পকে ধ্বংস করতে পরিবেশবাদীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমও দায়ী। তবে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রভাবশালী ট্যানারি মালিক ও তাঁদের লোকজনের ভয়ে প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস করতে না পারলেও আড়ালে-আবডালে স্বস্তি প্রকাশ করছে; অভিনন্দন জানাচ্ছে আদালত, গণমাধ্যম, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সরকারের প্রতি। তারা চায়—সরকার আর দেরি না করে আদালতের এই রায়কে সামনে রেখে এখনই হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধ করে তাদের সাভারের নতুন চামড়াপল্লীতে যেতে বাধ্য করুক।

জিগাতলা হয়ে মনেশ্বর রোড থেকে হাজারীবাগের ট্যানারি মোড়ের কাছেই কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই শিক্ষক বলেন, প্রতিটি দিন দুর্বিষহভাবে কাটে। মাঝেমধ্যে উৎকট গন্ধে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

আদালতের আদেশের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ওই শিক্ষক বলেন, ‘সকাল থেকে টেলিভিশনের দিকে নজর রাখছিলাম। আদালতের আদেশের অপেক্ষায় ছিলাম। খবরটি দেখার পর স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু এখন আশঙ্কা হচ্ছে, আগের বহুবারের মতো এবারও কোনো না কোনো বাহানায় না আবার সব থেমে যায়! যদি তেমনটা হয় তাহলে তো বিষয়টি খুবই দুঃখজনক হবে। ’

তবে বাংলাদেশ ট্যানারস্ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সানাউল হক বাবুল বলেন, ‘আমি আমাদের নিজেদেরকেই দায়ী করি হাজারীবাগ থেকে সরে না যাওয়ার জন্য। আমাদের অনেকেই নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করেছে। আবার আমরা পরিবেশবাদী সংগঠন বা আদালতকে হয়তো আমাদের বাস্তব বিষয়গুলো বোঝাতে সক্ষম হইনি। এখন যদি সরকার এখানকার ট্যানারির সব বিদ্যুৎ-গ্যাস ও পানির লাইন বন্ধ করে দেয়—তবে তো আমাদের মরণদশা হবে। তাই আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আরো কিছুদিন সময় নেওয়ার চেষ্টা করব। আজ (রবিবার) আমাদের এক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ’

ওই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আমি নিজেও আরব ট্যানারি নামে একটি বড় ট্যানারির মালিক। কিন্তু আমি সাভারে প্লট পাইনি। আমি বাধ্য হয়েই এখানে (হাজারীবাগে) কারখানা চালু রেখেছি। তবে অনেকেই সাভারে প্লট পেলেও সেখানে না গিয়ে এখানে কারখানা চালু রেখেছে। ’

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চামড়া শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ভরসা প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করা হবে। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্যানারি স্থানান্তরে জুন মাস পর্যন্ত সময় বাড়াবেন। এ সময়ের মধ্যেই আমরা ট্যানারি সরিয়ে নিয়ে যাব আর সাভার চামড়া শিল্পনগরীও ব্যবহার উপযোগী হবে। ’ 

ট্যানারি মোড় হয়ে সোনাতন গড় গলির ভেতরে যেতে যেতে চোখে পড়ে এখানে-সেখানে ঠেলাগাড়ি ও ভ্যানগাড়িতে চামড়ার চালান আনা-নেওয়ার দৃশ্য। লুনা ট্যানারির বড় খোলা ফটক থেকে সহজেই ভেতরে চলতে দেখা যায় চামড়া প্রক্রিয়ার কাজ। পাশে ইসমাইল ট্যানারিও সচল। ফটক বন্ধ থাকলেও আরটিএল ফুটওয়্যারের ভেতরে মেশিন চলার শব্দ কানে আসে সামনের রাস্তা থেকেই।

৮০ নম্বর সোনাতন গড় রোডের মুজাহিদ ট্যানারির খোলা ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, চারদিকে ছড়ানো-ছিটানো চামড়ার স্তূপ। বিরতির ফাঁকে শ্রমিকরা ব্যস্ত দুপুরের খাবারে। একজন শ্রমিক জানান, এটি হাসানের ট্যানারি বললেই সবাই চেনেন। এই মালিকের আরো একটি কারখানা আছে।

আরেকটু দূরে দেখা মেলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির একজন কনস্টেবলের। লাঠি হাতে ওই কনস্টেবল একটি ট্যানারির সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। জানতে চাইলে বড় করে এক গাল হাসি দিয়ে বলেন, ‘আগের দফায় আদালতের নির্দেশের পর আমরা কোনো চামড়া ঢুকতেই দিতাম না। কিন্তু পরে আবার কেমনে কেমনে সব ঠিক অইয়া গেছে। এইবার শুনছি আদালত একটা আদেশ দিছে। কিন্তু এখনো কোনো নির্দেশ পাই নাই। ’

এর পরই দেখা হয় একটি ট্যানারির সামনে জটলা করে বসে থাকা কয়েকজন ট্যানারি মালিক ও শ্রমিকের সঙ্গে। তাদের আলোচনার বিষয় ছিল আদালতের আদেশ। বেশ জোরেই তারা গালমন্দ করছিল পরিবেশবাদী একাধিক সংগঠন আর একটি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নারী সংগঠকের নাম ধরে। সঙ্গে তুলোধোনা করে গণমাধ্যমকে।

হাজারীবাগ কেমিক্যাল বিজনেস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুজাউল করিম নিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা তো যাইতে রাজি। কিন্তু কই যামু? কেমনে যামু! সরকার কি উপযুক্ত নতুন জায়গায় কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে দিতে পারছে? এখনো তো টারবাইন পইড়া আছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পানির জন্য একেকটা ট্যানারির যে উপযুক্ত লাইন লাগে তাও তো তৈরি হয়নি, গ্যাসের জোগানই পুরোটা হয়নি। ’

জানতে চাইলে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশা করছি এবার আর ট্যানারি মালিকদের কোনো টালবাহানায় কাজ হবে না। সরকার আর সময় দেবে না। যদিও ট্যানারি মালিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব এমনকি সরকারের ভেতর থেকেও অনেকেই এক চক্রে মিলে নানা অজুহাতের পথ খুঁজবে। কিন্তু সরকারের উচিত হবে সব অজুহাতের পথ বন্ধ করে দেওয়া। নতুন স্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্যানারি মালিকরা যেসব সমস্যার কথা বলছে সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করা। তবেই ধীরে ধীরে হাজারীবাগের বিষাক্ত পরিবেশ যেমন পাল্টাতে শুরু করবে তেমনি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ আশপাশের অন্য নদ-নদীর পরিবেশে। ’


মন্তব্য