kalerkantho


বিধানসভা নির্বাচনের ফল

উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড বিজেপির পাঞ্জাব কংগ্রেসের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড বিজেপির পাঞ্জাব কংগ্রেসের

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশ দখল করল কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যটিতে এর আগেও বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে।

কিন্তু এবার যে রায় দিল রাজ্যটির জনগণ তা বিজেপির ইতিহাসে অভূতপূর্ব। ৪০৩ আসনের ৩২৫টি ঢুকেছে বিজেপির ঝুলিতে। সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও কংগ্রেস জোট পেয়েছে ৫৬ আসন। আর মায়াবতীর দল বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি) পেয়েছে ১৯টি আসন। উত্তর প্রদেশের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড রাজ্যেও জয় পেয়েছে বিজেপি। তবে তারা কংগ্রেসের কাছে জোর ধাক্কা খেয়েছে পাঞ্জাবে। পাঞ্জাবে ১১৭ আসনের মধ্যে ৭৭টি দখল করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে গোয়া ও মণিপুর রাজ্যে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। গোয়ায় কংগ্রেস সবচেয়ে বেশি ১৮টি আসন এবং মণিপুরে ২৮টি আসন পেয়েছে।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য এ দুই রাজ্যে সর্বনিম্ন আসন প্রয়োজন যথাক্রমে ২১ ও ৩১।

গতকাল শনিবার পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এ দুই মাসে বিভিন্ন দফায় এসব রাজ্যে ভোট নেওয়া হয়।

উত্তর প্রদেশের ভোটের সময় সব কটি বুথফেরত সমীক্ষাই আভাস দিয়েছিল, রাজ্যটিতে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু বিজেপি একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছে যাবে, এমন আভাস একটিমাত্র সমীক্ষক সংস্থা দিয়েছিল। অধিকাংশ সমীক্ষা ও বিশ্লেষণই বলেছিল, ত্রিশঙ্কু হতে চলেছে এ রাজ্যের বিধানসভা। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে উত্তর প্রদেশে অবিশ্বাস্য গরিষ্ঠতা পেল বিজেপি।

বিজেপির এমন ফলাফল উত্তর প্রদেশ আগে কখনো দেখেনি। এর আগে ১৯৯১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন কল্যাণ সিংহ। কিন্তু সে সময় ৪২৫ আসনের বিধানসভায় ২২১টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবার ৪০৩ আসনের বিধানসভায় বিজেপি একাই ৩০০ ছাড়াল।

ভোটের এমন ফলাফলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমাজবাদী পার্টির প্রেসিডেন্ট অখিলেশ যাদব গতকালই গভর্নর রাম নায়েকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বিজেপির জয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

৭০ আসনের উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৩৬টি আসন। ২০১২ সালের নির্বাচনে বিজেপিকে সামান্য ব্যবধানে পেছনে ফেলে রাজ্যের দখল নিয়েছিল কংগ্রেস। এবারও লড়াইটা সে রকমই হাড্ডাহাড্ডি হবে বলে জানিয়েছিল ওয়াকিবহাল মহল। মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত তথা কংগ্রেসের পাল্লা সামান্য হলেও ভারী ছিল। সে আভাস পেয়েই পাহাড়ি রাজ্যটির নির্বাচনী ময়দানে কোমর বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রাহুল গান্ধী। নির্বাচনী সভা থেকে রাহুলের আহ্বান ছিল, ‘কংগ্রেসকে আবার ক্ষমতায় ফেরান, আমি নিজে সরকারের কাজের ওপর নজর রাখব। ’ কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ উল্টে এ রাজ্যও ধরে রেখেছে বিজেপি। তারা ৫৭ আসনে জিতেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ১১ আসন।

পাঞ্জাবে সাধারণত পাঁচ বছর অন্তর অন্তর ক্ষমতার হাতবদল হয়। কিন্তু ২০১২ সালে সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য মসনদে বসে ক্ষমতাসীন শিরোমণি আকালি দল ও বিজেপি জোট। ফলে ১০ বছর একজোট ক্ষমতায় থাকায় প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া ছিল তীব্র। পাঞ্জাবের ড্রাগ সমস্যা নিয়ে জোরদার প্রচার চালিয়ে বড় মুখ হিসেবে উঠে আসেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল; যার জেরে এ রাজ্যে ভোটের লড়াই এবার ছিল ত্রিমুখী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ছিনিয়ে নিল কংগ্রেস।

১১৭ আসনের পাঞ্জাব বিধানসভার ৭৭টি আসন জিতে নিয়েছে কংগ্রেস। আম আদমি পার্টি (এএপি) পেয়েছে ২২টি আসন। আর আকালি দল পেয়েছে ১৮টি আসন।

অন্যদিকে গোয়া ও মণিপুর রাজ্যে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ৪০ আসনের গোয়ায় কংগ্রেস সবচেয়ে বেশি ১৮টি আসন এবং ৬০ আসনের মণিপুরে ২৮টি আসন পেয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য এ দুই রাজ্যে সর্বনিম্ন আসন প্রয়োজন যথাক্রমে ২১ ও ৩১। রাজ্য দুটিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিজেপি যথাক্রমে ১৪ ও ২১ আসন নিয়ে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য