kalerkantho


জলবায়ু সহনশীল সড়ক হবে ছয় জেলায়

আরিফুর রহমান   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জলবায়ু সহনশীল সড়ক হবে ছয় জেলায়

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে, এমন ছয় জেলায় জলবায়ু সহনশীল এক হাজার ১৬০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে নির্বাচিত এ ছয় জেলার ২৪টি উপজেলায় মাটি দিয়ে উঁচু করা হবে বাঁধ।

নির্মাণ করা হবে কংক্রিটের সড়ক। অবাধে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে খাল পুনঃ খননেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাবার, রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য খনন করা হবে শতাধিক পুকুর। ‘জলবায়ু সহনশীল গ্রামীণ অবকাঠামো’ শিরোনামের এ প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

এলজিইডি সূত্র বলছে, দেশের উপকূলজুড়ে ১৯টি জেলা থাকলেও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে ছয়টি জেলা বাছাই করা হয়েছে ‘জলবায়ু সহনশীল গ্রামীণ অবকাঠামো’ প্রকল্পের জন্য। নির্বাচিত জেলাগুলো হলো বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডেনমার্কের সংস্থা ডানিডা থেকে অনুদান পাওয়া যাবে ১০৩ কোটি টাকা।

বাকি ৩১৫ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগানের কথা রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে উঁচু বাঁধ, সড়ক, পুকুর ও খাল খননের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

বুয়েটের গবেষণায় দেখা গেছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ অবকাঠামো  উন্নয়নের দিক থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে। এসব জেলায় বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন হলেও অবকাঠামো না থাকায় সেগুলো বাজারজাত করতে পারে না কৃষকরা। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নতি হলে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। এ ছাড়া এসব এলাকায় জলবায়ু সহনশীল উঁচু বাঁধ, খাল ও পুকুর খননের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

বুয়েট থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এলজিইডি নির্বাচিত ছয় জেলায় এক হাজার ১৬০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছয় জেলায় মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণ ও বাঁধ দেওয়া হবে এক হাজার ১০০ কিলোমিটার। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সড়ক উন্নয়ন করা হবে ৫৫ কিলোমিটার। গ্রাম পর্যায়ে কংক্রিটের সড়ক নির্মিত হবে পাঁচ কিলোমিটার। এর বাইরে ওই ছয় জেলায় খাল খনন ও পুনঃ খনন করা হবে ১৮৩ কিলোমিটার। গ্রামীণ মানুষের পানীয় জল, রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য খনন করা হবে ১০২টি পুকুর। গ্রামীণ হাট উন্নয়ন হবে ৫৬টি।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো—জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ছয় জেলার মানুষকে বাঁচানোর জন্য কার্যকর বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া। পাশাপাশি এসব এলাকার নারীদের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের নায্য মূল্য নিশ্চিত করাও এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরার মতো ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো কেন এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়নি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নির্ণয়ে বুয়েট উপকূলীয় অঞ্চলের ১৪০টি উপজেলার নাম র‌্যাংকিং করে। তাতে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার নামও রয়েছে। বুয়েটের প্রতিবেদনের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ডানিডার সুপারিশ নিয়ে ছয় জেলার ২৪টি উপজেলা বাছাই করা হয়েছে। বাকি উপজেলায় অন্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আরো প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত ছয় জেলার ২৪ উপজেলায় চিহ্নিত দুস্থ নারীদের পুকুর ও খাল খননসহ অন্যান্য আয়বর্ধনমূলক কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রকল্পটি দারিদ্র্য বিমোচনেও সহযোগিতা করবে।


মন্তব্য