kalerkantho


বিশ্ব এখন সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে : জাতিসংঘ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিশ্ব এখন সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে : জাতিসংঘ

জাতিসংঘ বলেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব সবচেয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কেবল চারটি দেশেই দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করতে হচ্ছে দুই কোটিরও বেশি মানুষকে। এ জন্য সম্ভাব্য ‘বিপর্যয়’ এড়াতে সবাইকে সাহায্যের হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘ সতর্কতা দিয়েছে, এ বিপর্যয় এড়াতে না পারলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কষ্টার্জিত সফলতাটুকু ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

গত শুক্রবার জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক প্রধান স্টিফেন ও’ব্রিয়েন বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের একটা ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছি। চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বে যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা জাতিসংঘ সৃষ্টির পর আর দেখা যায়নি। বর্তমানে কেবল চারটি দেশেই দুই কোটির বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষে পড়েছে। ’ এ চারটি দেশ হলো ইয়েমেন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও নাইজেরিয়া। তিনি বলেন, ‘বিশ্বসম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এসব লোক স্রেফ না খেয়ে মারা যাবে। অনেকেই মরবে অসুখে পড়ে। শিশুরা মরবে, স্কুল থেকে ঝরে পড়বে।

জীবিকা, ভবিষ্যৎ,  আশা—সবই নস্যাৎ হবে। ’

ও’ব্রিয়েন আরো বলেন, সম্ভাব্য এ বিপর্যয় ঠেকাতে না পারলে বিশ্বরাজনীতিতে বহু প্রচেষ্টার ফলে যতটুকু সফলতা এসেছে, তা উল্টো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ও’ব্রিয়েন জানান, এ সংকট মোকাবেলা করতে জুলাইয়ের মধ্যে চার হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা দরকার। সেখানে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ কোটি ডলারের সহায়তা পাওয়া গেছে; যদিও অনেক দেশই পর্যাপ্ত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল।

ও’ব্রিয়েনের তথ্য মতে, সবচেয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের মানুষ। দেশটির প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ (মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ) মানুষের জরুরি সহায়তা দরকার। এর মধ্যে ৭০ লাখ মানুষ নিয়মিত খাবার পায় না।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফও এরই মধ্যে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ বছর বিশ্বে প্রায় ১৪ লাখ শিশুর মৃত্যু হতে পারে অনাহারে।

দক্ষিণ সুদান সম্পর্কে ও’ব্রিয়েন জানান, দেশটিতে সংকট শুরু হওয়ার পর এখনকার পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক। তিনি এ পরিস্থিতি মানবসৃষ্ট বলেও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, দেশটিতে ৭৫ লাখ মানুষের সহায়তা দরকার। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬০ লাখের মতো। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য