kalerkantho


জাতিসংঘের বিশেষ দূত বললেন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন মানবতাবিরোধী অপরাধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন মানবতাবিরোধী অপরাধ

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে। এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি।

তাঁর মতে, দেশটির বেসামরিক সরকার এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও অপরাধের দায় তারা এড়াতে পারে না। দিন শেষে সব অপরাধের দায় অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপরই বর্তায়।

ইয়াংহি লি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। পাঁচ মাস ধরে মিয়ানমার সরকার দেশটির রাখাইন রাজ্যে বাইরের কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। সেখানকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে তা পৃথিবীর কাউকে জানতে দিতে চায় না তারা। ইয়াংহি লিও সেখানে ঢুকতে বাধা পান। তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখে গিয়ে বিবিসি নিউজ নাইট অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাত্কার দেন। বিবিসি নিজ উদ্যোগেও মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনার তদন্ত করে।

মিয়ানমারে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানের বাস, কিন্তু তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে না, আর বঞ্চিত করা হচ্ছে মৌলিক মানবাধিকার থেকে।

মিয়ানমারে প্রায় এক বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে গণতন্ত্রপন্থী হিসেবে পরিচিত নেত্রী শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দল। রোহিঙ্গা দমনের বিষয়ে সু চি নীরব রয়েছেন। বিবিসি তাঁর সাক্ষাত্কার চাইলে তিনি তা দিতে অপারগতা জানান। তবে তাঁর এক মুখপাত্র রোহিঙ্গা দমন-পীড়নের অভিযোগকে অতিরঞ্জিত বলে অভিহিত করেন। তা ছাড়া বিষয়টিকে তিনি ‘অভ্যন্তরীণ’ ইস্যু বলেছেন। বলেন, এটা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়। তিনি আরো জানান, তাঁরা নিজেরাই একটি তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়ে ইয়াংহি লি বিবিসি নাইটকে বলেন, ‘আমি বলব, এটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। নিশ্চিতভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধ... মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা, সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর দ্বারা কিংবা পুলিশ বা নিরাপত্তাবাহিনীর দ্বারা। ’ তিনি জানান, নিরাপত্তাবাহিনী সেখানে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। এর কিছু দায় অবশ্যই অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের ওপর বর্তায় বলে মত দেন তিনি।

ইয়াংহি লি বলেন, ‘দিন শেষে সরকার মানে বেসামরিক সরকারকেই নিজের লোকজনের ওপর চালানো এই অমানবিক অপরাধ ও ভয়ংকর গণনির্যাতনের জবাবদিহি করতে হবে। ’

বিবিসির উদ্যোগেও মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনার তদন্ত করা হয়। গত অক্টোবরের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর অনেকের সঙ্গে বিবিসির মিয়ানমার সংবাদদাতা জোনাহ ফিশার কথা বলেছেন। তাদের কাছ থেকে শুনেছেন ধর্ষণ ও হত্যার অসংখ্য ঘটনার কথা। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার কথা। স্যাটেলাইটেও সেসব পোড়া ঘরবাড়ির ছবি ধরা পড়ে।

একজন নারী জোনাহ ফিশারকে জানান, তিন সেনা তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এরপর ওই ঘটনা সরকারি তদন্তকারীদের জানানোর পর কিভাবে তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসেন, তাও তিনি বিবিসিকে বলেন।

কাল সোমবার ইয়াংহি লি রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করবেন বলে জানা গেছে।

ইয়াংহি লির অভিযোগের বিষয়ে এনএলডির মুখপাত্র উইন হিতেইন জানান, সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সু চির নেই। আর মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রসঙ্গে কথা উঠলে হিতেইন বলেন, কয়েক শ রোহিঙ্গাকে হত্যা করার বিষয়টি অতিরঞ্জিত। তা ছাড়া জাতিসংঘ কিছু বিষয়ে ভুল করছে। তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার হিসেবে মিয়ানমারকে আমরা একটি আধুনিক দেশে পরিণত করার চেষ্টা করছি। আমাদের হাজারো সমস্যা রয়েছে। আমরা মনে করি না যে এখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে। তা ছাড়া এটা অভ্যন্তরীণ সমস্যা। আন্তর্জাতিক নয়। ’ সূত্র : বিবিসি।

 


মন্তব্য