kalerkantho


ম্যাচ বাঁচাতে ‘দুর্গ’ গড়া চাই

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ম্যাচ বাঁচাতে ‘দুর্গ’ গড়া চাই

তামিম ইকবালের সঙ্গে ৬৭* রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছেন সৌম্য সরকার। ছবি : এএফপি

চায়নাম্যান লাকশান সান্দাকানই শুধু নন, প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার অন্য স্পিনারদেরও কখনো কখনো খুব দুর্বোধ্য মনে হয়েছে সাকিব আল হাসানের। এই কয়টা দিন ব্যাটিংবান্ধব উইকেট থাকার পর যখন চতুর্থ দিনের শেষে বল একটু একটু ঘুরতে শুরু করে দিয়েছে, তখন এটি চিন্তার কথাই। অবশ্য আজ শেষ দিনের চ্যালেঞ্জে তাঁদের সামলে ম্যাচ বাঁচাতে হলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যা করতে হবে, তা চোখের সামনেই আছে। সেটি আবার কী? কী আবার, গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম লাগোয়া দুর্গই তো গড়ে তুলতে হবে!

দুর্গ গড়লেই হবে না, সেটি হতে হবে অভেদ্য এক দুর্গও। কারণ শত্রুপক্ষ তো দুর্গ গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করবে। কাল ম্যাচের চতুর্থ দিনের চা বিরতির কিছুক্ষণ পর ৬ উইকেটে ২৭৪ রান তুলে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করায় ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড়ায় বাংলাদেশের সামনে। যেটি তাড়া করে জেতা বাস্তবসম্মত নয় বলেই পঞ্চম দিনে সারা দিন ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানোর চিন্তা। সেই চিন্তায় প্রথম ইনিংসে ১১৮ রানের সূচনা এনে দেওয়া দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার এখন পর্যন্ত সফলও। চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে বৃষ্টি নামার আগে, আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিনা উইকেটে তুলেছে ৬৭ রান। জেতার জন্য আরো ৩৯০ রান করার চিন্তা বাংলাদেশ কিছুতেই করছে না। যা করছে, তা হলো বৃষ্টিতে খেয়ে নেওয়া সময় পোষাতে আজও নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শুরু হচ্ছে এবং তাতে ৯৮ ওভার টিকে থাকার লড়াই বাংলাদেশের।

পারবে তারা? সাম্প্রতিক অতীতে চতুর্থ ইনিংসে পঞ্চম দিনের পুরোটা ব্যাটিং করে ম্যাচ বাঁচিয়ে দেওয়ার ঘটনাও আছে। আর সেটি এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। যে টেস্টে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একই ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিও করেছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৪৬৭ রানের লক্ষ্য। যেটি তাড়া না করে মমিনুল হকের সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সে রকম কিছুরই পুনরাবৃত্তির স্বপ্নে চতুর্থ দিনটি অন্তত কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই পার করে দিতে পেরেছেন তামিম-সৌম্য। যাতে ঘন মেঘে গলে অন্ধকার নেমে আসার পরও ম্যাচ ড্র করার আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছিল বাংলাদেশ। স্লিপে ‘ক্যারি’ না করা দু-একটি ক্যাচের ঘটনা বাদ দিলে তামিম-সৌম্য নির্ভরতার সঙ্গেই খেলেছেন। যাঁদের ব্যাটের স্লোগানও ছিল বিপরীতমুখী। একজন ধীরেসুস্থে দেখেশুনে খেলতে চেয়েছেন তো আরেকজন আগ্রাসী। প্রথম ইনিংসে পাগলাটে আউট হওয়ার ধরন নিয়ে সমালোচনা হওয়াতেই কি না তামিম এবার সাবধানী। এ জন্যই ৪৪ বল খেলে ফেলা তামিমের রান মাত্র ১৩। অন্যদিকে চাপ কমাতে পাল্টা আঘাতকেই উপায় হিসেবে বেছে নেওয়া সৌম্য ৪৪ বলেই পৌঁছে গেছেন ফিফটিতে। লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের ফুলটস বল মিড উইকেট দিয়ে ছক্কার ঠিকানায় পাঠানো সৌম্যর (৪৭ বলে ৫৩*) আজকের কাজও ঠিক হয়ে আছে।

কাল বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ১৯৯৬-এ শ্রীলঙ্কার বিশ্বজয়ের নায়ক সনাৎ জয়াসুরিয়া তো বাংলাদেশের টেস্টে ভালো করার শর্ত বলেই দিয়েছেন, ‘কেউ ফিফটি করলে তাঁকে সেঞ্চুরি করতে হবে, সেঞ্চুরি করলে খেলতে হবে বড় ইনিংস। ’ প্রথম ইনিংসেও ৭১ রানের ইনিংস খেলা সৌম্যর কাছে এখন অনেক বড় ইনিংসের দাবি। ম্যাচ বাঁচাতে হলে এ রকম ইনিংস তো কাউকে না কাউকে খেলতেই হবে। এর আগে চতুর্থ দিনের একটা বড় অংশ বাংলাদেশের এই অপেক্ষায়ও কেটেছে যে শ্রীলঙ্কা কখন ছাড়বে। সেটি চা বিরতির পর গিয়ে ছাড়ার আগে উপুল থারাঙ্গার ব্যাট তাঁর প্রিয় প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের বিপক্ষে আবার ঝলসেছে। মেহেদি হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করেছেন তাঁর তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি (১১৫), প্রথমটিও করেছিলেন সেই ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টে তিনটি সেঞ্চুরি করা দীনেশ চান্দিমাল (৫০*) এবার ফিফটি করলেও ১১ রানে মিরাজের বলে সৌম্যর সৌজন্যে জীবন পেয়েছেন একবার। একই বোলারকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে মারতে যাওয়া দিমুথ করুনারত্নের (৩২) ক্যাচ শর্ট কাভারে ফেলেছেন সাকিবও। তখন ওই ওপেনার মাত্র ৭ রানে! অবশ্য এর সঙ্গে এটাও উল্লেখ না করলেই নয় যে মিরাজের নেওয়া দ্বিতীয় উইকেটটির কৃতিত্ব আসলে উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাশের। রিভার্স সুইপ করা নিরোশান ডিকভেলার ক্যাচটি দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে গ্লাভসে জমিয়েছেন তিনি। আজ শেষ দিনে ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকেও ও রকম দুর্দান্ত কোনো প্রচেষ্টাই দেখার আশায় বাংলাদেশ শিবির।

যে আশার পালে হাওয়া দিতে মাঠের পাশের দুর্গটা তো রয়েছেই!


মন্তব্য