kalerkantho


মুশফিক-মেহেদীর ব্যাটে ফলোঅন থেকে রক্ষা

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মুশফিক-মেহেদীর ব্যাটে ফলোঅন থেকে রক্ষা

টানা তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিটা হয়তো পাননি মুশফিকুর রহিম, তবু গল টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের নায়ক তিনিই। তাঁর কার্যকর হাফসেঞ্চুরিতে ভর করেই ফলোঅন এড়িয়ে বাংলাদেশের স্কোরটা তিন শ পেরিয়েছে। ছবি : এএফপি

তৃতীয় দিনের খেলা শেষের ঘোষণা আসার পর টিভির পর্দায় ভেসে উঠেছিল দুই দলের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ তিনটি ইনিংস; কুশল মেন্ডিস ১৯৪, আসেলা গুণরত্নে ৮৫ আর নিরশন ডিকভেলা ৭৫ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি ইনিংস; মুশফিকুর রহিম ৮৫, সৌম্য সরকার ৭১ আর তামিম ইকবাল ৫৭ রান। সাদা চোখেই স্পষ্ট, শূন্য রানে  জীবন পেয়ে ১৯৪ করা মেন্ডিসের রানটাই আসলে দুই দলের তফাত। প্রতিপক্ষের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান যেখানে জীবন পেয়ে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন, সেখানে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান ‘ব্রেইন-ফেইড’ হয়ে উইকেট দিয়ে আসেন। গলে বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার আগে কিছুটা আগেভাগেই শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনের খেলা। ফলোঅন এড়ানো বাংলাদেশকে ৩১২ রানে অল আউট করে দেওয়ার পর আর ব্যাট করতে নামতে পারেনি স্বাগতিকরা, প্রথম ইনিংসে তারা এগিয়ে আছে ১৮২ রানে।

সৌম্য ৬৬ আর মুশফিক ১ রান নিয়ে শুরু করেছিলেন তৃতীয় দিনের খেলা। মাত্র ৫ রান যোগ করতেই কী যেন হলো সৌম্যর! দিলরুয়ান পেরেরার শর্ট বলটা খুব জোরে এসেছিল তা বলা যাবে না। বড্ড দেরিতে সৌম্য ভাবলেন বোধ হয় পুল করবেন, কিন্তু সেটাতেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব। হাফ হার্টেড শট খেলে ব্যক্তিগত ৭১ রানে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান সৌম্য।

পরেরজন সাকিব আল হাসান, সদ্যই টেস্ট অলরাউন্ডারের র্যাংকিংয়ে আরো একবার শীর্ষ ছুঁয়েছেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে সেই দায়িত্বপরায়ণতার ছাপ নেই। রান তুলতে চাইলেন ওয়ানডের গতিতে, সুরঙ্গা লাকমলের বলে ছয়ও মারলেন। তারপর সতীর্থ তামিমের মতোই লেগ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে অহেতুক খোঁচা! তামিম বলছেন বল তার ব্যাটে লেগেছিল, অবশ্য বেরিয়ে এসে রান আউট হয়ে যাওয়ায় আর ‘রিভিউ’ থেকে যাচাই করার দরকার পড়েনি। সাকিবও লাকমলের গুগলিতে লেগসাইডে বেরিয়ে যাওয়া বলে দিলেন খোঁচা, কিন্তু সেটা পেছন দিয়ে বাউন্ডারি হওয়ার বদলে চলে গেল উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। শুরুটা ভালো করেছিলেন মাহমুদ উল্লাহও, কিন্তু লাহিরু কুমারার বলে লাইন মিস করায় উড়ে যায় তাঁর অফস্টাম্প। কিপিংদক্ষতার সঙ্গে ব্যাটিংটাও বাড়তি পাওনা, এই বিবেচনায়ই নির্বাচকরা নুরুল হাসানকে বাদ দিয়ে নিয়েছিলেন লিটন দাসকে। কিন্তু ব্যাটহাতে বাড়তি কিছু দিতে পারেননি তিনি, অফস্টাম্পের বাইরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট চালাতে গিয়ে ৫ রানে আউট ‘এলকেডি’।   অন্য প্রান্তে নিয়মিত সঙ্গী বদল, মুশফিক চারে নেমেও জুটি গড়তে পাচ্ছিলেন না কাউকে। অবশেষে অধিনায়ককে সঙ্গ দিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বলহাতে ৪ উইকেট নিয়ে নিজের অফস্পিনার সত্তাটার প্রমাণ দিয়েছেন, যদিও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তাঁর ব্যাটিংদক্ষতাটাই ছিল বেশি চর্চিত। কাল ৭৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে করেছেন ৪১ রান, তাতে সপ্তম উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে তাঁর জুটিটা হয়েছে ১০৭ রানের। এই জুটির জোরেই ফলোঅনটা এড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ।

ওয়েলিংটনের পর হায়দরাবাদ, এরপর গলেও সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন মুশফিক। কিন্তু মিরাজকে আউট হতে দেখেই ৭৫ রানে থাকা মুশফিক প্রমাদ গোনেন। কারণ বাকিদের ব্যাটিংয়ের হাতটা যে নিতান্তই আনাড়ি! সেই শঙ্কা প্রমাণ করে পরের বলে তাসকিনও এলবিডাব্লিউ। শুভাশিষ রায় কিছুক্ষণ সঙ্গ দিলেও মুশফিক চাইছিলেন দ্রুত বাকি রানগুলো করতে। রঙ্গনা হেরাথের বলে ডাউন দ্য উইকেটে মারতে এসে ব্যাট ও বলের মাঝে বিশাল ফাঁক রেখে অফসাইডে শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান মুশফিক। ৮৫ রানের চমৎকার ইনিংসের শেষটা তাই ভালো হলো না। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় খানিকক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হলে ৪ রানের বেশি করা হয়নি মুস্তাফিজের। এর পরই আলোর স্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ করে দেন আম্পায়াররা, ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাট করতে কাল নামা হয়নি শ্রীলঙ্কার। ৯৭.২ ওভারে ৩১২ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ, স্কোরকার্ডের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে শুরুটা পেয়েও সেটা ধরে রাখতে না পারার খেসারতই দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান।

সেটা আরো স্পষ্ট হয় শ্রীলঙ্কার বোলিং কার্ড দেখলে। ৫৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার দিলরুয়ান পেরেরা, যাঁর মাঝারি মানের ডানহাতি অফস্পিনে নেই খুব একটা কারুকাজ। হেরাথও নিয়েছেন ৩ উইকেট, তবে তাতে হেরাথের বাঁহাতি স্পিনের ভেলকির চেয়ে ব্যাটসম্যানদের ভুল শট সিলেকশনের মাত্রাটাই বড়।

হাতে আছে গোটা দুটি দিন আর ১৮২ রানের লিড, ক্রমেই চালকের আসনে শক্ত হয়ে বসছে স্বাগতিকরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখতে শ্রীলঙ্কাকে দ্বিতীয় ইনিংসে অল্প রানে অল আউট করার কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে। তিন পেসার নিয়ে চতুর্থ দিনে সেটা কতটুকু করতে পারে চণ্ডিকা হাতুরুসিংহের দল, দেখার এখন সেটাই।

 


মন্তব্য